Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৮ ||  ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

ধু ধু চরে সমৃদ্ধির হাতছানি

শাহীন রহমান, পাবনা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০৭, ২১ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৭:১৯, ২১ অক্টোবর ২০২১
ধু ধু চরে সমৃদ্ধির হাতছানি

চরাঞ্চলের ৯ ইউনিয়নের ৭০টি গ্রাম হবে আলোকিত

এপার-ওপার ভাগ করেছে যমুনা নদী। একপাড়ে নগরবাড়ি নৌবন্দরের মতো সমৃদ্ধ জনপদ, অপর পাড়ে শুধুই ধু ধু চর।উন্নয়ন হাতছানি দিয়ে ডাকলেও নেই সমৃদ্ধির ছিটেফোঁটা-ছোঁয়া। বরাবরই উন্নয়ন বঞ্চিত চরের এসব মানুষের যমুনার ভাঙাগড়ার সঙ্গে খেলা হয়। তাই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর তালিকা থেকে বের হতে পারে না ওখানকার বসতীরা। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারগুলো এখনো তাদের কাছে পানসে।

তবে সেই চরে এবার অন্ধকার ঘুচে ফুটবে আলো। বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে চরের জীবন। বাড়বে ফসল উৎপাদন আর শিক্ষার হার। সেইসঙ্গে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাবনা, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ি জেলার চরাঞ্চলের ৯টি ইউনিয়নের ৭০টি গ্রামকে নিয়ে আসা হচ্ছে বিদ্যুতের আওতায়। ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন লাইন নির্মাণকাজ চলছে দ্রুতগতিতে। চলছে নদী ড্রেজিং। নভেম্বরের শেষ নাগাদ কাজ শেষ হওয়ার আশা করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।

প্রকল্প সুত্রে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে ২৮৫ কিলোমিটার অফগ্রিড বৈদ্যুতিক লাইন। যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পের মধ্যে সাবস্টেশন রয়েছে একটি (১০ এমভিএ)। সাবমেরিন ক্যাবল ৩৩ কেভি একটি ও ১১ কেভি ৩টি। আওতাভুক্ত উপজেলা ৫টি হলো পাবনার বেড়া, রাজবাড়ি জেলার সদর, গোয়ালন্দ, দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার একাংশ। ইউনিয়ন সংখ্যা ৯টি হলো, নতুন ভারেঙ্গা, পুরান ভারেঙ্গা, হাটুরিয়া-নাকালিয়া, আরুয়া, মিজানপুর, শিবালয়, তেওতা, বাঘুটিয়া ও বাচামারা। ৭০টি গ্রামের ১১ হাজার ২৭৬ জন মানুষ এ বৈদ্যুতিক সেবার আওতায় আসবেন। পাবনার কাশিনাথপুর ফায়ার সার্ভিসের পেছন থেকে মানিকগঞ্জের বাঘুটিয়া পর্যন্ত অফগ্রিড লাইন নির্মাণ করা হবে। এক বছর আগে শুরু হওয়ার এ কাজ শেষ হবে নভেম্বরের মধ্যে। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর গ্রিড থেকে মূল লাইন এসে যুক্ত হবে এই লাইনে।

সম্প্রতি পাবনার বেড়া উপজেলার কল্যাণপুর চরে নির্মাণকাজ পরিদর্শনে যান পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) মনিরুল ইসলাম, এজিএম (সদস্য সেবা) আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাহ উল হক, পুরান ভারেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান এ এম রফিকুল্লাহসহ অনেকে। সেখানে চরবাসীদের সাথে মতবিনিময় করে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে কাজের অগ্রগগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য।

এবিষয়ে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘শাহজাদপুর গ্রিড থেকে আমরা প্রায় ৩০ কিলোমিটার ৩৩ কেভি লাইন ইতোমধ্যে নির্মাণ করেছি। যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল যাবে ২ দশমিক ২ কিলোমিটার। এজন্য নদী খনন কাজ চলছে। খনন কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ। খনন কাজ শেষ করে তার লিঙ্ক করা, সাবস্টেশন চালু করে চর এলাকার সোয়া ১১ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারবো। আশা করছি আগামী নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে।’

ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু নদীতে ড্রেজিং চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমাদের কাজ শেষ করা হবে এবং মুজিববর্ষের মধ্যেই চর আলোকিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) মাধ্যমে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এ কাজ বাস্তবায়ন করছে।’

এজিএম (সদস্য সেবা) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে মানুষ যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হয়, দালালের খপ্পরে না পড়েন, সেজন্য আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। লিফলেট বিতরণ করেছি। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় উঠান বৈঠক ও মাইকিং করেছি। সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে অফিসের নির্ধারিত ফি ৪৫০ টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করার জন্য। এর বাইরে কাউকে কোনো টাকা না দিতে আহবান জানানো হয়েছে।’

পাবনা-২ আসনের সাংসদ আহমেদ ফিরোজ কবির বলেন, ‘চরাঞ্চলের একটি বড় অংশ বিদ্যুৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন দর্শন যে পিছিয়ে পড়া সব শ্রেণীর মানুষকে এগিয়ে নেওয়া, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ একটি উন্নয়ন কাজ। বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে পাবনা, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ির চরাঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক জীবনমান উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন ঘটবে। বিশেষ করে কৃষি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। এতে উৎপাদন খরচ কমে চরের মানুষ উৎপাদনে উৎসাহি হবে।’

অন্ধকার চরে বিদ্যুৎ আসছে দেখে খুশি চরের মানুষ। কৃষক আবুল হোসেন, গৃহবধূ মনোয়ারা বেগমসহ অন্যরা বলেন, এতদিন অন্ধকারে ছিলাম আমরা। এরপর সৌর বিদ্যুৎ আসলেও সবকিছু করা যাচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুৎ আসলে খুব ভালো হবে। ছেলেমেয়ের লেখাপড়া, কৃষিকাজ থেকে শুরু করে সব উন্নয়নে বিদ্যুৎ ভূমিকা রাখবে। চরের জীবন পাল্টে যাবে।

/মাহি/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়