ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ০৯ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনা যুদ্ধে যেসব পুষ্টি প্রয়োজন

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৬ ৯:৩৭:৩৫ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০৬ ১১:৫২:৪৫ এএম

দেশে দিনদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে লকডাউনও তুলে নেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।

ইমিউন সিস্টেমকে যত শক্তিশালী করা যাবে, করোনাভাইরাস সংক্রমণে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তত বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এমনিতেই তো আর ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয় না তথা রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে না। এর জন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার। আপনার ডায়েটে সেসব খাবার রাখুন যেখানে ইমিউন সিস্টেমের জন্য সহায়ক পুষ্টি রয়েছে। এখানে করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে যেসব পুষ্টি প্রয়োজন তা উল্লেখ করা হলো।

ভিটামিন এ: শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে ভিটামিন এ এর প্রয়োজন রয়েছে। অ্যান্টিবডি সংক্রমণ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। তৈলাক্ত মাছ, ডিমের কুসুম, পনির, টফু, বাদাম, বীজ, গোটা শস্য ও ডাল জাতীয় খাবারে ভিটামিন এ পাবেন। এছাড়া বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাকসবজি খেলে তা শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজি এবং হলুদ ও কমলা রঙের শাকসবজিতে (যেমন- মিষ্টি কুমড়া ও গাজর) বিটা-ক্যারোটিন পাওয়া যায়।

বি ভিটামিন: শরীরের ইমিউন সিস্টেম জীবাণু শনাক্তের পর প্রথম যে অনাক্রম্য প্রতিক্রিয়া দেখায় তাতে বি ভিটামিনেরও অবদান রয়েছে, বিশেষ করে বি৬, বি৯ ও বি১২। প্রাকৃতিক ঘাতক কোষের উৎপাদন ও কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে বি ভিটামিন এই কাজটি করে থাকে। প্রাকৃতিক ঘাতক কোষ সংক্রমিত কোষের কার্যক্রম সীমিত করে ফেলে। এভাবে শরীর অস্বাভাবিক কোষগুলো থেকে মুক্তি পায়, যে প্রক্রিয়াকে অ্যাপপটোসিস বলে।

সিরিয়াল, ডাল জাতীয় খাবার, সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি, ফল, বাদাম, মাছ, মুরগির মাংস ও অন্যান্য মাংসে বি৬ রয়েছে। সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি, ডাল জাতীয় খাবার, বাদাম ও বীজে পর্যাপ্ত পরিমাণে বি৯ বা ফোলেট পাবেন। ডিম, মাংস ও দুগ্ধজাত খাবারের মতো প্রাণীজ খাবার এবং ফর্টিফায়েড সয়া মিল্কে বি১২ বা সায়ানোকোবালামিন থাকে।

ভিটামিন সি ও ই: যখন শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তখন এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সম্মুখীন হয়। অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে ফ্রি রেডিকেলের উৎপাদন বেড়ে যায়। প্রয়োজনাতিরিক্ত ফ্রি রেডিক্যাল কোষের প্রাচীরকে ফুটো করে দিতে পারে ও প্রদাহ বাড়াতে পারে। ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। ভিটামিন সি ইমিউন রেসপন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশেষায়িত কোষ উৎপাদনে জড়িত থেকে কোষীয় বর্জ্য দূর করতেও সহায়তা করে, যেমন- নিউট্রোফিল, লিম্ফোসাইট ও ফ্যাগোসাইট।

ভিটামিন সি এর কিছু ভালো উৎস হচ্ছে কমলা, লেবু, বেরি, কিউই ফল, ব্রোকলি, টমেটো, ক্যাপসিকাম ও কাঁচা মরিচ। বাদাম, সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি ও শাকসবজির তেলে ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

ভিটামিন ডি: সংক্রমণ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করতে কিছু ইমিউন কোষের ভিটামিন ডি প্রয়োজন হয়। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। অধিকাংশ লোকের ক্ষেত্রে কিছু মিনিট রোদে থাকলেই যথেষ্ট মাত্রায় ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয়ে থাকে। এই পুষ্টির উল্লেখযোগ্য খাবার উৎস হচ্ছে ডিম, মাছ, দুধ ও ফর্টিফায়েড খাবার। ভিটামিন ডি ঘাটতিতে আছেন এমন মানুষদের সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে। ২৫টি গবেষণার রিভিউ থেকে জানা গেছে, ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট শ্বাসতন্ত্রীয় সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে, বিশেষত যারা এই পুষ্টির অভাবে ভুগছেন।

আয়রন, জিংক ও সেলেনিয়াম: অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি ইমিউন কোষের বিকাশসাধনের জন্য মানব শরীরে আয়রন, জিংক ও সেলেনিয়াম দরকার হয়। আয়রন ফ্রি রেডিকেলের সংখ্যা বাড়িয়ে সংক্রমণ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করতে সহায়তা করে। এটি এনজাইম রিয়্যাকশনও নিয়ন্ত্রণ করে, যা সংক্রমণ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে শনাক্ত করতে ও লক্ষ্যবস্তু বানাতে ইমিউন কোষের জন্য প্রয়োজনীয়। জিংক আমাদের ত্বক ও শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। জিংক ও সেলেনিয়াম অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবেও কাজ করে। এসব পুষ্টি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস জনিত ক্ষতি সারাতে সহায়ক হতে পারে।

গরুর মাংস, মুরগির মাংস, মাছ, ডাল জাতীয় খাবার, গোটা শস্য ও ফর্টিফায়েড সিরিয়ালে আয়রন পাওয়া যাবে। ঝিনুক, চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, শুষ্ক শিমের বিচি ও বাদামে জিংক পাবেন। সেলেনিয়ামের কিছু ভালো উৎস হচ্ছে গরুর মাংস ও কলিজা, টার্কি ও অন্যান্য মুরগির মাংস, মাশরুম, সূর্যমুখী বীজ, বাদামী চাল ও পালংশাক।

তথ্যসূত্র: দ্য কনভারসেশন



ঢাকা/ফিরোজ