Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ৯ ১৪২৮ ||  ১২ জিলহজ ১৪৪২

ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে যা করবেন

এস এম গল্প ইকবাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৭, ১ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১১:০০, ১ জানুয়ারি ২০২১
ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে যা করবেন

সকালে ঘুম থেকে জেগে অনুভব করলেন যে ঘাড় নাড়াতে কষ্ট হচ্ছে, অর্থাৎ ঘাড় শক্ত বা অনমনীয় হয়ে গেছে। এতে ঘাবড়াবেন না, বিভিন্ন স্বাস্থ্য গবেষণা আশ্বস্ত করছে যে ঘাড়ের অনমনীয়তা মারাত্মক বা প্রাণনাশক রোগের লক্ষণ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অধিকাংশ ঘাড়ের অনমনীয়তা তথা ব্যথা সাধারণত সরল কারণে হয়ে থাকে।

জীবনধারার কিছু ত্রুটির কারণে আমাদের ঘাড় সহজেই শক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই জীবনধারায় শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে ঘাড়ের অসুবিধা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু জীবনধারায় পরিবর্তন এনেও ঘাড়ের সমস্যা দূর না হলে আর দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এখানে ঘাড়ের এ ধরনের সমস্যায় কিছু করণীয় উল্লেখ করা হলো।

* ঘাড়কে হালকা স্ট্রেচ করুন: ঘাড়ের অনমনীয়তা জনিত ব্যথা উপশমের জন্য কিছু কার্যকর নেক এক্সারসাইজ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬০ স্পোর্টস মেডিসিন অ্যান্ড স্পাইন থেরাপির ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট শেলী কফম্যান বলেন, ‘ঘাড়ে সঠিক রক্তপ্রবাহ ও প্রদাহ প্রশমনের জন্য সমতলভাবে শুয়ে ঘাড়ের নিচে একটি রোল করা তোয়ালে রাখুন। তারপর ধীরে ধীরে মাথাকে এমনভাবে রোটেট (এপাশ-ওপাশ) করুন যেন মনে হবে আপনি না বলছেন। এরপর মাথাকে ধীরেধীরে এমনভাবে নাড়ান (ওপর-নিচ) যেন মনে হবে আপনি হ্যাঁ বলছেন। এভাবে দুটি সেট সম্পন্ন করুন, প্রত্যেক সেটে ২০টি রেপ থাকবে। প্রতিদিন দুই-তিনবার রিপিট করুন।

* গরম সেঁক ও ঠান্ডা সেঁক দিন: শক্ত ঘাড়ে গরম সেঁক দিলে পেশীগুলো শিথিল হবে ও সেখানে তাজা রক্ত ছুটে আসবে, বলেন ডা. কফম্যান। ঘাড়ে গরম সেঁক দিতে হিটিং প্যাড অথবা সহনীয় গরমের কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। এর কিছুসময় পর ঠান্ডা সেঁকও দিতে পারেন, যা আপনার ঘাড়ের ব্যথাকে অসাড় করবে ও প্রদাহ কমাবে। গরম সেঁক ও ঠান্ডা সেঁকের মধ্যে ন্যূনতম ১০ মিনিটের ব্যবধান থাকা চাই, এভাবে দিনে পাঁচ-ছয়বার রিপিট করুন। ব্যথা বেশি থাকলে এক ঘণ্টা পরপর উভয় সেঁক দিতে পারেন। ঘাড়ে অনমনীয়তার পাশাপাশি প্রচুর ব্যথা অনুভূত হলে বরফ ব্যবহার করতে পারেন, বলেন ডা. কফম্যান। এটা মনে রাখা ভালো যে, অতিরিক্ত বা ঘনঘন গরম সেঁকে প্রদাহ ও ব্যথা বেড়ে যেতে পারে, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত অথবা প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

* প্রদাহরোধী ওষুধ সেবন করুন: অ্যাডভিল বা মটরিনের মতো প্রদাহরোধী ওষুধ ঘাড়ের অনমনীয়তা দ্রুত কমাতে পারে। এসব ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ প্রদাহ কমিয়ে কাজ করে, তাই আপনি দ্রুত ভালো অনুভব করবেন, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন অনুসারে। কিন্তু যেকোনো ওষুধ ব্যবহারে ঝুঁকি রয়েছে, এমনকি ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধও- একারণে ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেয়া ভালো।

* এপসম সল্টের পানিতে ঘাড় ভেজান: বাথটাবের কুসুম গরম পানিতে এপসম সল্ট দিয়ে কিছুসময় ঘাড় ভিজিয়ে রাখলে ব্যাথা দূর হবে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘আপনার বাথটাবের কুসুম গরম পানিতে ৩০০ গ্রাম এপসম সল্ট মেশান, বাথটাব না থাকলে একাজে বড় গামলা ব্যবহার করতে পারেন। আপনি ১৫ মিনিটের মধ্যে এপসম সল্টের মানসিক ও শারীরিক উপকার পেতে শুরু করবেন।’

* হাঁটতে বের হোন: আপনার কাছে এটা সাংঘর্ষিক মনে হতে পারে, কিন্তু হাঁটার মতো লো-ইম্প্যাক্ট এক্সারসাইজ হচ্ছে অনমনীয় ঘাড়ের অন্যতম সেরা চিকিৎসা। এক্সারসাইজ সকল নরম টিস্যুতে অক্সিজেন বহনে সাহায্য করে, এর মধ্যে মেরুদন্ড সংশ্লিষ্ট টিস্যুও অন্তর্ভুক্ত- এটি নিরাময় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে আপনি কঠিন বা ভারী এক্সারসাইজ করতে পারবেন না, তাই আপনাকে হাঁটার মতো সহজ এক্সারসাইজ বেছে নিতে হবে, বলেন ডা. কফম্যান। ঝাঁকুনিমূলক বা যন্ত্রণাদায়ক কাজকর্ম এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করুন।

* ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন: সকালে ঘাড়ের অনমনীয়তা এড়াতে কাত অথবা চিত হয়ে শোয়াই উত্তম, কখনো উপুড় হয়ে না শোয়াই ভালো। পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমালে আপনার মাথা দীর্ঘসময় বেঁকে থাকবে, এর ফলে ঘাড় আহত হতে পারে। এছাড়া বিছানার সঙ্গে পেট দেবে থাকলে নিচের পিঠেও ব্যথা হতে পারে। আপনি ঘাড়ের জন্য সহায়ক এমন বালিশও কিনতে পারেন। আপনার বালিশটি যেন ঘাড়ের প্রাকৃতিক বক্রতাকে সাপোর্ট দেয়।

* কাজকর্মে কিছু পরিবর্তন আনুন: অনুচিত শারীরিক ভঙ্গির কারণে আপনার ঘাড়ে অনমনীয়তা ও ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এ অবস্থায় অঙ্গভঙ্গিতে সঠিক পরিবর্তন না আনলে ব্যথা আরো বেড়ে যাবে। যারা কম্পিউটার নিয়ে কাজ করেন তারা প্রায়শ সঠিক অঙ্গভঙ্গি বজায় রাখার ব্যাপারে অমনোযোগী হয়ে পড়েন। কিন্তু ঘাড়ের অনমনীয়তা এড়াতে আপনার কম্পিউটারকে চোখের লেভেলে রাখা উচিত, অর্থাৎ আপনার চোখকে কম্পিউটার স্ক্রিনের মাঝ বরাবর রাখতে হবে। টাইপ করার সময় পাশে বা নিচের দিকে বেশি ঝুঁকবেন না। আপনার ঘাড়, কাঁধ ও নিতম্ব কম্পিউটারের দিকে থাকবে এবং শরীরের অন্যান্য অংশ ও দৃষ্টি যেন অস্বস্তিতে না ভুগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ডা. কফম্যান প্রতি ঘণ্টাতে অঙ্গভঙ্গি চেক করতে পরামর্শ দিচ্ছেন। আপনার মেরুদন্ডকে স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্টে রাখুন। ডা. কফম্যান বলেন, ‘শারীরিক ভঙ্গি ঠিক রেখে কাজ করলে ঘাড়ের অনমনীয়তা ও ব্যথা থেকে তাড়াতাড়ি মুক্তি পাওয়া যায়।’

* ফোনকে চোখের লেভেলে রাখুন: হাতের ডিভাইস ব্যবহারে সতর্ক না থাকলেও আপনার ঘাড় শক্ত হতে পারে। অধিকাংশ লোক বেশ ঝুঁকে ফোন ব্যবহার করেন, যা ঘাড়ের জন্য কখনোই ভালো নয়। ঘাড়কে অত্যধিক বাঁকালে অথবা টানের মধ্যে রাখলে সেখানে সহজেই অনমনীয়তা জনিত ব্যথা অনুভব হতে পারে। আপনার ফোনকে কোল বরাবর রেখে ব্যবহার করবেন না, এর পরিবর্তে ডিভাইসটিকে চোখের লেভেলে নিয়ে আসুন- এভাবে ফোনের ব্যবহারে ঘাড়ের অসুবিধা এড়াতে পারবেন, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্যানুসারে। যারা ফোন নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন, কিন্তু সঠিক অঙ্গভঙ্গির দিকে নজর দেন না তারা ঘাড়ের অনমনীয়তা কিংবা ব্যথায় বেশি ভুগেন। তাই আপনার উপরের পিঠে ব্যথা অনুভূত হলে আগে লাইফস্টাইলের এ দিকটাতে ত্রুটি আছে কিনা নিশ্চিত হোন, কিন্তু সঠিক অঙ্গভঙ্গির পরও এ সমস্যা লেগে থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়