Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৭ ১৪২৮ ||  ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কোভিড-১৯ সম্পর্কে নতুন যা জানা গেছে

এস এম ইকবাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৩, ১১ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৫:৫৪, ১১ অক্টোবর ২০২১
কোভিড-১৯ সম্পর্কে নতুন যা জানা গেছে

কোভিড-১৯ সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য জানা যাচ্ছে। কেবল করোনাভাইরাস নয়, চলমান যেকোনো মহামারিতে সময় পরিক্রমায় নতুন কিছু জানা যায়। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সকল তথ্যই যে সঠিক এমনটা নয়।

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ সম্পর্কে এমন অনেক কিছু সামনে এসেছে, যা পরবর্তীতে গুজব হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।গবেষকরা কোভিড-১৯ সংক্রান্ত গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন। তাই আমরা এখনো নতুন কিছু জানতে পারছি বা ভুল তথ্য চিহ্নিত করতে পারছি। এখানে  সম্প্রতি কোভিড-১৯ সম্পর্কে জানা গেছে এমন পাঁচটি তথ্য দেওয়া হলো।

যারা বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন

অনেকেই ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ কোভিড টিকা নিয়েছেন। কেউ ফাইজার, কেউ মডার্না, কেউ অ্যাস্ট্রাজেনেকা, কেউ সিনোফার্ম অথবা কেউ অন্য কোম্পানির কোভিড টিকা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, সময়ের আবর্তনে এসব টিকায় অর্জিত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) কমতে থাকে। তাই গবেষকরা টিকাগ্রহীতাদেরকে বুস্টার ডোজ দেয়া যায় কিনা বিবেচনা করেছেন। তাদের গবেষণা আলোর মুখ দেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে,

যাদের বয়স ৬৫ বছর বা তদোর্ধ্ব, অথবা যারা দীর্ঘসময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তারা ফাইজার বুস্টার নিতে পারবেন।

যাদের বয়স ৫০ থেকে ৬৪ বছর, তাদের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে ফাইজার বুস্টার গ্রহণ করতে পারবেন।

যাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৯ বছর, তাদেরও কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে ফাইজার বুস্টার নেওয়া উচিত।

১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সীরা এমন চাকরি করলে যেখানে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি আছে, তাদেরও ফাইজার বুস্টার গ্রহণ করা উচিত।

শিশুরাও শিগগির করোনার টিকা নিতে পারবে

আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি যে, বড় শিশু (১২ বছর বা তদোর্ধ্ব বয়সী)-কিশোর-প্রাপ্তবয়স্করা করোনার টিকা নিতে পারবে।বয়স ১২ হলেই ফাইজারের টিকা গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু এর চেয়ে কম বয়সীদের কী হবে? অনেক পিতামাতা ছোট শিশুদেরকেও করোনার টিকা দিতে আগ্রহী। তাদের জন্য খুশির খবর আছে- সম্প্রতি ফাইজারের গবেষণা উপাত্ত থেকে জানা গেছে, ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ফাইজারের কম ডোজের কোভিড টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। ফাইজার আশা করছে, মাসখানেকের মধ্যে অনুমোদন পেয়ে যাবে। এমনটা হলে ৫-১১ বছরের শিশুদেরকেও শিগগির টিকার আওতায় আনা যাবে, যার ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখা যাবে।

কোভিড টিকার উপকারিতা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি

কোভিড টিকা গ্রহণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া। এটাই এই টিকার প্রধান উপকারিতা।কোভিড টিকার প্রসঙ্গ আসলে আমাদের মন আপনাআপনি বলে ওঠে যে, এটা কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা দেবে। এসময় আমাদের চিন্তাভাবনায় অন্যকোনো উপকার হয় কিনা তা আসে না, বরং গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে কিনা এটা নিয়েই চিন্তিত হই। কিন্তু গবেষকদের মতে, কোনো সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার টিকা নিলে অন্যান্য উপকারও হতে পারে। হতে পারে শারীরিক বা মানসিক উপকার। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, যারা করোনার টিকা নিয়েছেন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে। এমনকি যারা এখনো পর্যন্ত একটি ডোজ নিয়েছেন তাদের বিষণ্নতাও কমে এসেছে। এই মহামারিতে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য বেশ চাপে পড়েছে। তাই টিকা নেওয়াতে মানসিক স্বাস্থ্যের স্বাভাবিকতা ফিরে আসলে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর টিকা নিলে উচ্চ ইমিউনিটি পাওয়া যায়

করোনায় সংক্রমিত হলে শরীরে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। এসব অ্যান্টিবডি ভবিষ্যতে পুনরায় করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হলে শরীরে প্রাকৃতিকভাবে যে ইমিউনিটি আসে তা সময় পরিক্রমায় হ্রাস পেতে থাকে। একারণে বিশেষজ্ঞরা করোনার সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পর কোভিড টিকা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। সিডিসির প্রতিবেদনেও করোনায় আক্রান্তদের (উপসর্গ দূর হওয়ার পর) কোভিড টিকা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনটা করলে ভবিষ্যতে আবারও কোভিড-১৯ হলেও গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমে আসবে, যেহেতু শরীরে উচ্চ ইমিউনিটি রয়েছে।

টিকা না নেওয়া করোনা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি ১০ গুণ বেশি

বিশেষজ্ঞরা সহমত যে, করোনার টিকা কোভিড-১৯ জনিত গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে পারে, এমনকি পুনঃসংক্রমণও ঠেকাতে পারে। এখনো পর্যন্ত সবচয়ে আধিপত্য বিস্তারকারী ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার বিরুদ্ধেও এসব টিকা বেশ কার্যকর। সম্প্রতি সিডিসি প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড টিকা গ্রহণ করলে গুরুতর পরিণতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে আসে। যার ফলে এসব রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। গবেষণাটিতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষকরা জানান, যারা কোভিড টিকা নেননি তারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি ১০ গুণ বেশি, এমনকি মৃত্যুরও অনুরূপ ঝুঁকি রয়েছে। এই তুলনা করা হয়েছে যারা সম্পূর্ণ টিকা গ্রহণ করেছেন তাদের সঙ্গে।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়