Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১ ||  বৈশাখ ২৩ ১৪২৮ ||  ২৩ রমজান ১৪৪২

মাস্ক না-পরাসহ ৪ কারণে বাড়ছে করোনায় মৃত‌্যু-সংক্রমণ 

হাসিবুল ইসলাম মিথুন  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৫, ২১ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৮:১১, ২১ মার্চ ২০২১
মাস্ক না-পরাসহ ৪ কারণে বাড়ছে করোনায় মৃত‌্যু-সংক্রমণ 

গাবতলী বাস টার্মিনালে কাউন্টারের সামনে মাস্ক ছাড়া যাত্রীরা

দেশে হঠাৎ করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। সঙ্গে মৃত্যুর হারও। এজন‌্য বিশেষজ্ঞরা ৪ কারণকে দূষছেন। তারা বলছেন, মাস্ক না-পরা, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা না করা, হ‌্যান্ডস‌্যানিটাইজার ব‌্যবহার না করা ও সাবান দিয়ে হাত না ধোয়ায় বাড়ছে সংক্রমণ। আর এই সংক্রমণ থেকেই মৃত‌্যুর হারও বাড়ছে। 

রোববার (২১ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল, বাস টার্মিনাল  ঘুরে দেখা গেছে, করোনা সংক্রমণের হার হঠাৎ করে ঊর্ধ্বমুখী হলেও মানুষের মধ্যে তেমন সচেতনতা নেই।  

গাবতলী বাস টার্মিনাল, কল্যাণপুর বাস স্টেশন, শ্যামলী স্কয়ার, নিউমার্কেট, মিরপুর-১ নম্বরের প্রিন্স বাজারের সামনে  দেখা গেছে, কেউ সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। গাদাগাদি করে বাসে উঠছেন।  বেশিরভাগই মাস্ক ব‌্যবহার করেননি। কেউ কেউ ব‌্যবহার করলেও থুতনির নিচে ঝুলছে। 

যাত্রী ও কাউন্টার মাস্টার কারও মুখেই মাস্ক নেই। একজনের মাস্ক থুতনির নিচে

গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে খুলনা যাবেন মোহাম্মদ হামিদ হোসেন। তিনি মাস্ক ব‌্যবহার করেননি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাড়ি যাচ্ছি জরুরি কাজে। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মাস্ক নিয়ে বের হতে মনে ছিল না। তবে, আমি সব সময়ই মাস্ক পরি। এখন কিনে পরবো।’ 

বাস টার্মিনালের একাধিক বাস টিকিট কাউন্টার ম‌্যানেজারকে মাস্ক না পরে টিকিট বিক্রি করতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আমরা মাস্ক পরি। তবে গরমের কারণে ইদানীং পরে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। তাই মাঝে মধ্যে খুলে রাখি।’

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বাস কাউন্টারের সব কর্মী যেন মাস্ক পরেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন এই ব‌্যাপারে  মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কড়াকড়ি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এটাও বলা হয়েছে, মাস্ক ছাড়া যেন কোনো যাত্রী বাসে না ওঠেন, তাও নিশ্চিত করতে হবে। যদি এই নিয়ম কেউ না মানেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

মিরপুর ১ নম্বরের ফুটপাতে মাস্ক ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতা 

এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরেও দেখা গেছে ক্রেতাদের মাস্ক না পরার প্রবণতাই বেশি। বিশেষ করে নিউমার্কেট ও মিরপুরের বিভিন্ন মার্কেটে এই দৃশ্য বেশি। ক্রেতারা মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করছেন। মার্কেট কর্তৃপক্ষও কোনো নিয়ম মানছে না। তবে, নামি-দামি ব্র্যান্ডের শোরুমগুলো মাস্ক ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এছাড়া, তারা হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ব্যবহার করছে ক্রেতাদের জন্য। 

এদিকে, রোববার থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের পুলিশ সদস্যরাও সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করছেন। কেউ মাস্ক না পরে বের হলে  তাকে মাস্ক দিচ্ছেন। করোনা সংক্রমণের বিষয়ে সচেতন করছেন।  

এ বিষয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘নাগরিকদের নিজেদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করতে হবে। একজন সচেতন নাগরিকের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যিনি টিকা নিচ্ছেন, তাকেও মাস্ক পরতে হবে। দুই ডোজ টিকা নেওয়ার ২ সপ্তাহ পরে ইউমিনিটি সিস্টেম ডেভেলপ করে। তবে, এমন নয় যে, করোনা তখন আর হবে না। করোনা হতেই পারে। করোনা হবে না, এমন কোনো টিকা আবিষ্কার হয়নি। টিকা হচ্ছে মূলত মৃত্যু ঝুঁকি কমানো বা গুরুতর অসুস্থ না হওয়ার জন‌্য। তাই টিকা নিলেও মাস্ক পরতে হবে। বিশেষ  করে যতদিন পর্যন্ত সহনশীল অবস্থা না হয়, ততদিন মাস্ক পরতেই হবে।’ 

মিরপুর ১ নম্বরের একটি মার্কেট, মাস্ক ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতা 

যখন মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানে, মাস্ক পরে, তখন করোনার সংক্রমণ কমে যায় বলে মনে করেন আইইডিসিআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম আলমগীর। রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, ‘আবার যখন মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানে না বা মাস্ক পরে না, তখন সংক্রামণ বেড়ে যায়। তাই আমাদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।’ 

মাস্ক ব্যবহার না করাকে মারাত্মক ঝুঁকি বলে মন্তব‌্য করলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ড. রুবেদ আমিন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এখন কার শরীরে করোনা আছে, তা কিন্তু আমরা কেউই জানি না। তাই মাস্ক না পরলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। এজন্য আমাদের সবার জন‌্যই মাস্ক পরা জরুরি।’ 

উল্লেখ‌্য, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। 

রোববার (২১ মার্চ) সকাল পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬৯০ জন। আর করোনা শনাক্তের পরিমাণ ৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৮ জনে দাঁড়ালো।

#কেন বাড়ছে করোনায় মৃত্যু? 

ঢাকা/হাসিবুল/এনই 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়