ঢাকা     বুধবার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৯ ১৪২৯

গণশুনানি শেষ হলেও বিদ্যুতের মূল্য ঘোষণা এখনই হচ্ছে না

হাসান মাহামুদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩৭, ১০ জানুয়ারি ২০২৩  
গণশুনানি শেষ হলেও বিদ্যুতের মূল্য ঘোষণা এখনই হচ্ছে না

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির গণশুনানি শেষ হয়েছে। সাধারণত গণশুনানি থেকে বিদ্যুতের নতুন মূল্যের ঘোষণা আসে। মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) দিনভর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও গুঞ্জন ছিল বেশ। কিন্তু, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্র জানিয়েছে, মাসের শেষ ছাড়া বিদ্যুতের নতুন দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসবে না।

কারণ হিসেবে জানা গেছে, বিইআরসির বর্তমান কমিশনের মেয়াদ ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যেই বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিতে চায় কমিশন। এ লক্ষ্যে গত রোববার ও সোমবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের গণশুনানি হয়। শুনানি শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান আবদুল জলিলও বলেছিলেন, চলতি মাসেই মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা আসবে।

তিনি বলেছিলেন, কমিশনের মেয়াদ আছে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। তার মধ্যেই বিদ্যুতের দামের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। তবে, আজ বা চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসার সম্ভাবনা নেই।

বিইআরসির বিদ্যুৎবিষয়ক সদস্য বজলুর রহমান বলেন, গণশুনানির যাবতীয় বিষয় পর্যালোচনা শেষে বিদ্যুতের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে। তবে, আজ ঘোষণা আসছে না। ঘোষণা এলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে, বিদুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যের বিষয়ে শুনানি করেছে বিইআরসি। এখন তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। জনজীবনে যেন দুর্বিষহ প্রভাব না পড়ে, সেজন্য কিন্তু বিইআরসি সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করেছে। আশা করছি, বিইআরসি হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।

জানা যায়, এবার দাম পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভর্তুকি ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ দাম বাড়ানোর পরও বিদ্যুতের উৎপাদন পর্যায়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেবে সরকার।

কমিশন গত ২১ নভেম্বর পাইকারি দাম বৃদ্ধির আদেশ দেওয়ার সময় জানায়, এই দাম বৃদ্ধির ফলে এখনই গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না। তবে, এই দাম বৃদ্ধির আগের দিনই ২০ নভেম্বর প্রথম কমিশনে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আবেদন করে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।

বিদ্যুতের গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়লে মানুষের বাসাবাড়ির দামের সঙ্গে শিল্প এবং বাণিজ্যের দাম বাড়বে। ফলে, দেশে আরেক দফা মূল্যস্ফীতি বাড়বে। গত বছর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ সংকটের মধ্যে আছে।

গত ২১ নভেম্বর বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এরপর বিদ্যুতের খুচরা দাম বৃদ্ধির আবেদন করে পাঁচ প্রতিষ্ঠান। সবগুলো প্রতিষ্ঠান বলছে, পাইকারি দাম বৃদ্ধির পর খুচরা দাম না বাড়ালে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব ছাড়াও ট্যারিফের ওপর শুনানি হয়। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) তাদের প্রস্তাবে আগেই জানায়, দাম না বাড়লে তাদের ক্ষতি হবে ১১২৭ কোটি টাকা। একইভাবে পিডিবি ২৩৪ কোটি, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ১৫৫১ কোটি, ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ১৪০২ কোটি টাকা, নর্দান ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) ৫৩৫ কোটি টাকা লোকসান হবে। ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) কোনও আর্থিক অঙ্ক দাঁড় না করালেও বলেছে, দাম না বাড়লে তাদের ক্ষতি হবে।

গত নভেম্বরের আগে বিদ্যুতের গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ে ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি।

হাসান/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়