ঢাকা     শুক্রবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

আ.লীগের অনাপত্তিতে রেকর্ড স্বতন্ত্র, চ্যালেঞ্জে দলীয় প্রার্থীরা

এসকে রেজা পারভেজ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৪, ২৯ নভেম্বর ২০২৩   আপডেট: ২২:৪১, ২৯ নভেম্বর ২০২৩
আ.লীগের অনাপত্তিতে রেকর্ড স্বতন্ত্র, চ্যালেঞ্জে দলীয় প্রার্থীরা

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান এবার নির্বাচন করছেন না। তার ছেলে রাশেক রহমান পেয়েছেন দলীয় মনোনয়ন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে রাশেককে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন উপজেলার চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার। নির্বাচন করতে উপজেলার পদ থেকে পদত্যাগও করেছেন তিনি। 

নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জাকির হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এখানে যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন, তিনি গত উপজেলা নির্বাচনে আমার বিরোধিতা করেছেন। অথচ আমি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলাম। ১৪৮টির মধ্যে ১৪৬টি আসনে আমি জয়ী হয়েছি। যেহেতু, নেত্রী বলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীতে আপত্তি নেই এবং এলাকার নেতাকর্মীদের চাপ আছে, সেহেতু আমি তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রার্থী হয়েছি। নৌকার সাথেই আছি।’    

জাকির হোসেনের মতো সারাদেশে বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। অনেক জায়গায় একাধিক দলীয় নেতা প্রার্থী হয়েছেন। কোথাও কোথাও স্বতন্ত্র এসব প্রার্থীর কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন দলীয় প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না এলে আ.লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং অন্য দলগুলোর যেসব প্রার্থী থাকবেন, তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শতভাগ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনে আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি পুরো বাস্তবায়ন হবে নির্বাচনে। এতে নৌকা যদি কোথাও হেরেও যায়, তাতেও লাভ আ.লীগের। যদি শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে আসে, সেক্ষেত্রে দল চাপ দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করাতে পারে। সেই সুযোগও রাখা হয়েছে। আবার যদি জোটবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করে, সেক্ষেত্রে বেশ কিছু আসন ছেড়ে দিতে হতে পারে।

গত ২৬ নভেম্বর আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কিছু নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী হিসেবে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সবাই যেন ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান, সেটাও বলেছেন। এ ছাড়া, মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর পাশাপাশি ডামি ক্যান্ডিডেটও (বিকল্প প্রার্থী) রাখতে বলেছেন, যেন কারও মনোনয়ন বাতিল বা মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে যেন ডামি ক্যান্ডিডেট নির্বাচন করতে পারে।

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রতিযোগিতামূলক ভোট আয়োজনে ভালো ভূমিকা রাখবেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এতে বিএনপি নির্বাচনে না এলেও ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি হবে। আর দলীয় নিষেধাজ্ঞা না থাকায় প্রতিটি আসনে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকছেন। তবে কোনোভাবেই যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে রূপ না নেয়, সেই বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে দলটির।

যেমনটি বলছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া কোনও নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে তাতে আপত্তি নেই আ.লীগের। কৌশলগত কারণে দলের প্রয়োজনেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা থাকতে পারে কারও কারও। কৌশলগত কারণে দলের প্রয়োজনেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুমতি।

সারাদেশের বিভিন্ন আসনভিত্তিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন উন্মুখ করায় অনেকগুলো আসনে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে নৌকার প্রার্থীরা। অনেক আসনে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর চেয়ে জনপ্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আবার দল যে প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, তার চেয়েও ভালো প্রার্থী ছিল, কিন্তু তিনি মনোনয়ন পাননি। যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি বিতর্কিত এবং নেতাকর্মীরা পছন্দ করেন না। সেক্ষেত্রে নেতাকর্মীরা হেলে পড়তে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে।    

ঢাকা-৫ আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনুর রশিদ মুন্না। নেতাকর্মীরা এই আসনে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবিলায় তরুণদের কাছে জনপ্রিয়, পরীক্ষিত সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতার প্রমাণ আছে; এমন কাউকে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সেটি না হওয়ায় একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকতে পারে এই আসনে। তাছাড়া হারুনুর রহমান মুন্নাকে এই আসনে দলীয় নেতাকর্মীরা পছন্দ করেন না। দলের প্রয়োজনে বড় কোনও ভূমিকাও কেউ দেখেনি। যে কারণে নৌকার এই প্রার্থী বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন হাবিবুর রহমান মোল্লার জ্যেষ্ঠ পুত্র মশিউর রহমান মোল্লা সজল।

রংপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. রেজাউল করিম রাজু। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু। তিনি বলেন, ‘সুযোগ আছে। দলীয় কোনও সমস্যাও নেই। নেত্রী বলেছেন, নেতৃত্ব বিকাশ ও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রমুখী করতে। নির্বাচনী মাঠে আছি।’   

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে চট্টগ্রাম-১ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। এবার তিনি নিজের আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন তার ছেলে মাহবুবুর রহমান রুহেলকে। রুহেল এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা প্রসঙ্গে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘মিরসরাইয়ের মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। মিরসরাইয়ের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে আমি বছরের পর বছর কাজ করে আসছি। সেই ধারাবাহিকতায় মিরসরাইয়ের সর্বস্তরের মানুষের দাবি ও চাওয়ায় আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, নেত্রী বলেছেন কেউ যেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত না হয়। যেহেতু, মিরসরাইয়ের মানুষ আমাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন তাই তাদের ইচ্ছায় আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছি। আগামীকাল ৩০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসকের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করবো।

বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উৎসাহিত করায় প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এখন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে। কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রার্থীর বিপরীতে দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন এবং তাদের জয়ী করতে মাঠে নেমেছেন। পরিস্থিতি এমন যে, নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী এখন নৌকা।

চট্টগ্রাম ১২-তে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকা ঘোষণার পর নিজে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের হুইপ সামসুল হক চৌধুরী। আর তাকে বিজয়ী করতে শপথ নিয়েছেন পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরাফাত শাকিল।

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। এখানে তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন গোদাগাড়ী দেউপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান, মুন্ডুমালা পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম রাব্বানী, অভিনেত্রী শারমিন আক্তার নিপা মাহিয়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী শাহনেওয়াজ আয়েশা আকতার জাহান।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান বলেন, নৌকার প্রতীকের বাইরে স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। তাই স্বতন্ত্রে দাঁড়িয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। আমার এলাকাবাসী যোগ্য লোককেই ভোট দিয়ে জয়ের মালা পরাবে।

রাজশাহী-৫ আসনে (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আব্দুল ওয়াদুদ। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি মনসুর রহমান, জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি ওবায়দুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল হক মাসুদ।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলম। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ।

ফরিদপুর-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুর রহমান। ফরিদপুর-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন মিয়া। সেখানে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শাহদাব আকবরের নাম ঘোষণা করা হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এ কে আজাদ। এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হককে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। ফরিদপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহকে।

হবিগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাহবুব আলীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সাবেক যুবলীগ নেতা ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। সরওয়ার হোসেন এই আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে তিনি নুরুল ইসলাম নাহিদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

সুনামগঞ্জ-১ আসনে তিন বারের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রনজিত চন্দ্র সরকার। তবে রতন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে নৌকার টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র পদে তিন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ এবং তার ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শহিদুল্লাহ শহীদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এ ছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মুরাদ হাসান। এ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান।

মাদারীপুর-৩ (কালকিনি, ডাসার ও সদরের একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবদুস সোবহান গোলাপের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য তাহমিনা বেগম।

রাজবাড়ী-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়তে চান রাজবাড়ী সদর উপজেলার টানা চার বারের চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক বিশ্বাস। মানিকগঞ্জ-২ আসনে সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের হাতেই রয়েছে নৌকার বৈঠার দায়িত্ব। তবে এ আসনে স্বতন্ত্র হয়ে লড়বেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাহাবুদ্দিন আহমেদ চঞ্চল। যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে এবার প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন চিকিৎসক তৌহিদুজ্জামান তুহিন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির। রংপুর-৬ আসনে আবারও নৌকা পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। নৌকা না পেয়ে এখান থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম। ইতোমধ্যে তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

চাঁদপুর-৪ আসনে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য শামসুল হক ভূঁইয়া। চাঁদপুর-১ আসনে এবার নৌকা পেয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ড. সেলিম মাহমুদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নৌকা পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান আলম। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মঈন উদ্দিন মঈন। নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন মোশতাক আহমেদ রুহী। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত জালাল উদ্দিন তালুকদারের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ঝুমা তালুকদার।

কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) আসনে নৌকার টিকিট পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান সাংসদ মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার নাঈম হাসান। কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরী। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছেন হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ ও মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শফিকুল আলম।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সাংসদ ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার। কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে নৌকার মাঝি হয়েছেন বর্তমান এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি অ্যাড. হাশেম খান। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বপন।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সাংসদ ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন প্রয়াত সাংসদ অধ্যাপক আলী আশরাফের পুত্র চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটু। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন কিছুদিন আগে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ পাওয়া এসকিউ গ্রুপের চেয়ারম্যান এজেডএম শফিউদ্দিন শামীম। এ আসনে প্রয়াত সাবেক চার বারের সাংসদ আব্দুল হাকিমের ছেলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইনুল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

রাজশাহী-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা। তিনি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তবে দারার সঙ্গে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়তে চান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ। রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে দলীয় প্রার্থী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বিপক্ষে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক এমপি রায়হানুল হক। রায়হানুল রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর তালিকায় আছেন সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস। এ ছাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. গোলাম রাব্বানী, জয়পুরহাট-১ (সদর-পাঁচবিবি) আসনে সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল আজিজ মোল্লা, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান, নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে জাহিদুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, নির্বাচনের ঢেউ সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী যে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে পারেন। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীরা কীভাবে নির্বাচন করবে, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে পথরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী দিনেও দলের নির্দেশনার বাইরে নেতাকর্মীরা কাজ করবেন না।

উল্লেখ্য, তিন শ’ আসনের বিপরীতে ৩ হাজার ৩৬২টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করে আওয়ামী লীগ। এতে আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। গত ২৬ নভেম্বর দুই আসন বাকি রেখে ২৯৮টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।

চলতি মাসের ১৫ তারিখ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়নের আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত এবং ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ৭ জানুয়ারি।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন রাইজিংবিডি ডটকম-এর রংপুর প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম) রেজাউল করিম, রাজশাহী প্রতিনিধি শিরিন সুলতানা কেয়া।

ঢাকা/এনএইচ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়