ঢাকা, বুধবার, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

জয় নিয়ে ফাইনালের মঞ্চে বাংলাদেশ

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২১ ১১:২৯:১৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-২২ ১১:০৬:৩৬ এএম

সাকিব আল হাসান আরো একবার বাংলাদেশকে জেতালেন।  দলের হাল এমন সময়ে ধরলেন যখন বাকিরা আসা-যাওয়ার মিছিলে।

বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে ১৩৮ রানে আটকে রাখার পর ড্রেসিংরুমে হয়তো আনন্দ উল্লাস হয়েছিল।  সহজ লক্ষ্যে সহজে পৌঁছানো সম্ভব এমন ভাবনা হয়তো এসেছিল।  কিন্তু মাঠে আফগানরা সব সময়ই দৃঢ়চেতা।  স্বল্প পুঁজি নিয়েও শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়াই চালাল।  তাতে সাকিব বাদে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অসহায়।

অধিনায়কের অনবদ্য ৭০ রানের ইনিংসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চার ম্যাচ পর টি-টোয়েন্টি জিতল বাংলাদেশ।  এক ওভার আগে আফগানিস্তানের দেওয়া ১৩৯ রানের লক্ষ্য চার উইকেট হাতে রেখে ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

লিটন কুমার দাশ নিজের উইকেটের মায়া কবে করবেন! নয়তো মুজিবকে ওভাবে উইকেট উপহার তো দিতেন না।  মুজিবের সোজা বল হাওয়ায় ভাসাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন আসগরের হাতে।  শান্ত নিজের শট চেক করতে গিয়ে উইকেট বিসর্জন দেন।  ১২ রান তুলতেই দুই ওপেনার সাজঘরে। চাপে পড়া বাংলাদেশকে চেপে ধরে আফগানিস্তান। তাতে পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশের রান মাত্র ২৮। 

তৃতীয় উইকেটে লড়াই শুরু সাকিব ও মুশফিকের।  মুশফিক ১৪ রানের জীবন পাওয়ার পর চাইলেই নিজের ইনিংস বড় করতে পারতেন।  নিজের পছন্দের শটে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে খোলস থেকে বের হয়ে এসেছিলেন। কিন্তু ওই ওভারেই উইকেট বিলিয়ে আসেন।  বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাটিং করে ২৫ বলে করেন ২৬ রান।  বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য জুটি স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৪৪ বলে ৫৮ রান।

এরপর দ্রুত উইকেটের পতন।  মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির ও আফিফ নিজের উইকেট উপহার দেন প্রতিপক্ষকে।  হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লেগে রশিদ খান অষ্টম ওভারে মাঠের বাইরে যান।  ১১তম ওভারে মাঠে ফেরার পর ১৪তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন।  ফিরেই নেন মাহমুদউল্লাহর উইকেট।  পরের ওভারে তার শিকার আফিফ।  সাব্বির মাঝে উইকেট দেন নাবিন উল হককে।  ১০৪ রানে বাংলাদেশের ছয় ব্যাটসম্যান সাজঘরে।  জয়ের থেকে তখনও ৩৫ রান দূরে স্বাগতিকরা।

তবে সাকিব ছিলেন নিজের সেরা সময়ে।  কোনো বোলার দেয়াল হতে দাঁড়াতে পারেননি তার সামনে।  ৩৪ বলে ক্যারিয়ারের নবম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন যা আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম।  বিপজ্জনক হয়ে উঠা রশিদ খানকে ১৮তম ওভারে বেধড়ক পেটান সাকিব ও মোসাদ্দেক।  মোসাদ্দেক প্রথম বলে চার মারার পর চতুর্থ ও পঞ্চম বলে চার ও ছক্কা আদায় করেন সাকিব।

তাতেই বাংলাদেশের ম্যাচ নিশ্চিত হয়ে যায়।  উইনিং রান আসে মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে।  ১২ বলে ১৯ রান করে দলের প্রয়োজন ভালোভাবেই মিটিয়েছেন মোসাদ্দেক।  পঞ্চমবারের মতো ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া সাকিব অপরাজিত থাকেন ৭০ রানে।  ৪৫ বলে আট চার ও এক ছক্কায় সাজান ম্যাচজয়ী ইনিংসটি।

এর আগে টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ভয়-ই পেয়েছিল বাংলাদেশ।  প্রথম নয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে স্কোরবোর্ডে তারা তুলেছিল ৭৫ রান।  বড় সংগ্রহের পথে থাকা আফগানিস্তানকে থামিয়ে দ্বিতীয় অর্ধে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।  পরের ১১ ওভারে ৬৩ রান জমা করে সফরকারীরা।  এজন্য হারায় সাত উইকেট।  নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিয়ে বোলাররা থিতু হতে দেননি কোনো ব্যাটসম্যানকে। 

আফিফ ছিলেন নিয়ন্ত্রিত।  তার হাত ধরেই আসে প্রথম সাফল্য।  ছয় বোলার দিয়েও যখন কাজ হচ্ছিল না তখন আফিফকে বোলিংয়ে আনেন সাকিব।  আফিফের প্রথম দুই বলে বিট হওয়ার পর তৃতীয় বল সুইপ করতে গিয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন জাজাই।  ৩৫ বলে ৪৭ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।  এক বল পর আফিফের শিকার আসগর।  ডানহাতি স্পিনারের প্রথম ওভারে জোড়া উইকেট, সাথে মেডেন।
৭৫ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর ১১৪ রানে যেতেই আফগানরা হারায় ছয় উইকেট।  সাকিব, সাইফউদ্দিন, মুস্তাফিজদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা দিশেহারা হয়ে যান।  শেষ দিকে শফিকউল্লাহ ২৩ ও রশিদ খান ১১ রান তুলে দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন।  কিন্তু সাকিবের দিনে শেষ হাসি হাসার সুযোগ নেই অন্যদের।  স্বল্প পুঁজি নিয়ে আফগানিস্তান লড়াই করলেও সাকিব একপ্রান্ত আগলে দলকে কাঙ্খিত জয় এনে দেন।

দুই দল আগেই ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।  ড্রেস রিহার্সালের লড়াইয়ে বাংলাদেশ হাসল ঠিকই। পাশাপাশি জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখল।  ২৪ ফেব্রুয়ারির ফাইনালে এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে সাকিবের হাতে উঠবে প্রথম শিরোপা।


চট্টগ্রাম/ইয়াসিন/নাসিম

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন