ঢাকা, সোমবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে, ‘সেঞ্চুরি’

মিরপুর থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২২ ৯:৪২:১৯ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২২ ৫:৩৪:১৫ পিএম

ছোট্ট মুমিনুল হকের পাশে সুঠামদেহী ক্রেইগ আরভিন।

মিরপুর শের-ই-বাংলার সবুজ গালিচায় টস করতে নেমেছেন দুজন। সাদা পোশাকের ওপরে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্যর ব্লেজার। মাথায় সেই পুরোনো টেস্ট ক্যাপ।  মুমিনুল কয়েন ছুঁড়লেন। আরভিন ডাক দিলেন। জিতলেন অতিথি অধিনায়ক। টস জিতে বাংলাদেশকে পাঠালেন বোলিংয়ে।

এ ম্যাচের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সেঞ্চুরি পূর্ণ করল বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। গত ২২ বছরে দুই দল তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৯৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। আজ মিরপুরে পূর্ণ হল সেঞ্চুরি। ৯৯ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৫৭ ম্যাচে, জিম্বাবুয়ের জয় ৩৯, ড্র হয়েছে তিনটি ম্যাচ।

বাংলাদেশ বর্তমান পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকলেও মুখোমুখি লড়াইয়ের শুরুতে আধিপত্য দেখিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ১৯৯৭ সালের ১১ অক্টোবর দুই দল প্রথম মুখোমুখি হয় নাইরোবিতে। ওই সময়টা ছিল জিম্বাবুয়ের স্বর্ণযুগ। ফ্লাওয়ার ব্রাদার্স তখন বোলারদের জন্য রীতিমত হুমকি, অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের দুর্দান্ত অধিনায়কত্ব আর হিথ স্ট্রিক, রেমন্ড প্রাইস, ডগলাস হোন্ডোর বোলিং আক্রমণ ছিল ভয়ঙ্কর।

মুখোমুখি লড়াইয়ের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হার ৪৮ রানে। ওই ম্যাচের পর আরও ছয় ওয়ানডেতে হার বাংলাদেশের। ২০০১ সালের ১১ এপ্রিল বুলাওয়েতে দুই দল প্রথম টেস্ট খেলে। সাদা পোশাকেও হারে শুরু বাংলাদেশের। পরপর চার টেস্টেও হার।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম জয় পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ১৬ ম্যাচ। এর মধ্যে টেস্ট ছিল পাঁচটি, ওয়ানডে দশটি। জিম্বাবুয়ের মাটিতে ২০০৪ সালের ১০ মার্চ বিজয়ের কেতন উড়ায় বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জয় পায় ৮ রানে। হাবিবুল বাশারের দল হারায় হিথ স্ট্রিক, গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার, তাতেন্ডা তাইবুদের জিম্বাবুয়েকে। আশরাফুলের ৩২ বলে ৫১ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ পেয়েছিল জয়।

এরপর ধীরে ধীরে পারফরম্যান্সের সূচক উর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে বাংলাদেশের। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জিতে টেস্ট ম্যাচও। ২০০৫ সালের ৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়েকে ২২৬ রানে হারায় বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে সেটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম জয়। স্পিনার এনামুল হক জুনিয়রের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশ টেস্ট জয়ের খাতা খুলে।

ওয়ানডে ও টেস্টে প্রথম মুখোমুখিতে হারলেও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ জিতেছিল প্রথম ম্যাচ। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর খুলনায় ৪৩ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। দুই দলেরই সেটি ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাফল্যর সূচক বাড়তে থাকে। অন্যদিকে আধিপত্য হারানোর পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের সূচক ধারাবাহিক নিচে নেমেছে।

২০০৬ সালের ৬ আগস্ট থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের বিপক্ষে টানা নয় ম্যাচে জয় পায় বাংলাদেশ। আবার ২০১৩ সালের ১২ মে থেকে ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ১৩ ম্যাচে বাংলাদেশ হারেনি। পারফরম্যান্সের এমন ধারাবাহিকতায় মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশ একটা সময় টপকে যায় জিম্বাবুয়েকে। পাশাপাশি তিন ফরম্যাটেই র‌্যাঙ্কিংয়ে জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ।

মুখোমুখি লড়াইয়ে ২০০৯ সালে সবথেকে ভালো সময় কাটে বাংলাদেশের। ওই বছর ১৪ ম্যাচে ১০ জয় বাংলাদেশের, চারটি জিম্বাবুয়ের। ২০০১ সালে বাংলাদেশের সবথেকে খারাপ সময় যায়। দশ ম্যাচের নয়টিতেই হার, ড্র করে একটিতে।

দুই দল বাংলাদেশের মাটিতে ম্যাচ খেলেছে ৫৯টি। যার ৪১টিতে জয় বাংলাদের, হার ১৬টি, ড্র দুটি। জিম্বাবুয়েতে খেলেছে ৩৭ ম্যাচ। ১৫টি জয় বাংলাদেশের, জিম্বাবুয়ের ২১টি ও ড্র একটি। ভারতের মাটিতে দুই দল একটি ম্যাচ খেলেছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ওই ম্যাচে জিতেছিল বাংলাদেশ। কেনিয়াতে দুটি ম্যাচের দুটিতেই জয় জিম্বাবুয়ের।

বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে দুই দলই এর বাইরে আর কোনো দলের বিপক্ষে এত ম্যাচ খেলেনি। বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৯ ম্যাচ খেলেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। জিম্বাবুয়ে ৮৭ ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

 

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল