Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২৭ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১১ ১৪২৮ ||  ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

Risingbd Online Bangla News Portal

চায়নাম্যান রুবেল: ইউল্যাবের মাঠ থেকে মিরপুরের সবুজ গালিচায়

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৩:৫২, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
চায়নাম্যান রুবেল: ইউল্যাবের মাঠ থেকে মিরপুরের সবুজ গালিচায়

মুঠোফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসা কণ্ঠে পরিষ্কার আঞ্চলিকতার ছাপ। তবে কথাগুলো বেশ ঝরঝরে, স্পষ্ট। নরসিংদী রায়পুরে জন্ম নেওয়া শফিউল ইসলাম রুবেল টুকটাক ক্রিকেট খেলে পরিচিতি পেলেও জাতীয় পর্যায়ে একদমই অচেনা।

তবে এই অচেনা রুবেল হুট করে নজর কাড়লেন চায়নাম্যান বোলিংয়ে। দেশে অনেক তারকা স্পিনার থাকলেও হাহাকার রয়েছে লেগ স্পিনার-চায়নাম্যান বোলারের জন্য। রুবেল সেই শূন্যস্থান পূরণ করলেন। এ যেন তপ্ত মরুর বুকে এক পশলা বৃষ্টি!  যাকে গড়ে তুলেছেন কোচ হুমায়ুন কবির শাহীন। বড় অবদান রেখেছেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম।

২০০৯ সাল থেকে ক্লাব ক্রিকেটে ব্যাট-বলের সঙ্গে হাতেখড়ি রুবেলের, ২০১৫ সাল পর্যন্ত মূলত ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলেন। এরপরই যেন বদলে যায় দৃশ্যপট, বনে যান পুরোদস্তুর বাঁহাতি চায়নাম্যান বোলার!

ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক শেষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবে এমবিএতে ভর্তি হওয়া রুবেলের এখন মনোযোগ পুরোপুরি ক্রিকেটে। নিয়মিত অনুশীলন-জিম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে কথা বলে বোলিংয়ের আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করেছে রাইজিংবিডির ক্রীড়া প্রতিবেদক সাইফুল ইসলাম রিয়াদ…

ক্রিকেটে আপনার শুরুটা কীভাবে?

রুবেল: আমি খেলা শুরু করেছি ২০০৯ সালে ধানমন্ডি ক্লাব থেকে, যা এখন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব নামে আছে। ওটা এক সময় বন্ধ হয়ে যায়, তারপর চলে যাই ধানমন্ডি ক্রিকেট একাডেমিতে, ওখানে অনুশীলন শুরু করি। ২০১৫ সালের শেষের দিকের ঘটনা, খুলনার দলের বিপিএলের অনুশীলন ছিল আমাদের ইউল্যাবের মাঠে। আমাদেরও অনুশীলন ছিল, আমরা শ্রীলঙ্কা খেলতে যাব। আমি একা একাই বল করছিলাম। শাহীন স্যার তখন আমাকে দেখে কাছে এসে পরামর্শ দেয়। এরপর মিরপুরে অনুশীলন শুরু করি। আসলে বোলিংয়ের মূল কাজগুলো শুরু করি।

শুরু থেকেই কি চায়নাম্যান বোলার ছিলেন?

রুবেল: ঢাকায় যখন ক্রিকেট খেলতে আসি তখন লেগস্পিনটাও করতাম। তবে মূলত আমি ছিলাম ব্যাটসম্যান। অনেকে বলত তোমার লেগ স্পিনটা ভালো হয়। সেকেন্ড ডিভিশন পর্যন্ত ব্যাটসম্যান হিসেবে মূলত খেলতাম। ফার্স্ট ডিভিশনে এসে লেগ স্পিনে মনোযোগী বেশি হই, শাহীন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে। মূলত উনি ভালো লেগ স্পিনার ছিলেন তো, আমিও ছোটবেলা থেকে এমন একজনকে খুঁজতাম যার কাছে শিখতে পারব। উনাকেও ভাগ্যক্রমে সময়মতো পেয়ে গেছিলাম। এ জন্যই আজকে আমি চায়নাম্যান বোলার।

ক্লাব পর্যায়ে কোথায় খেলেছেন?

রুবেল: থার্ড ডিভিশনে সবুজ বাংলা ক্রীড়া চক্রের হয়ে শুরু করেছিলাম কোয়ালিফাইং দিয়ে, ওখানে আমাদের দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তারপর সেকেন্ড ডিভিশনে খেলেছি দুই বছর ধানমন্ডি ক্রিকেট একাডেমির হয়ে। এরপর ফার্স্ট ডিভিশনে সূর্য তরুণ ক্লাবে চার বছর খেলেছি। এ বছরের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আমি খেলাঘরে খেলতাম, কিন্তু করোনা পজিটিভ হওয়াতে আর খেলা হয়নি। আগামীবারও খেলাঘরে খেলার সম্ভাবনা বেশি, কথা চলছে।

ব্যাটসম্যান, সাধারণ লেগ স্পিনার থেকে একেবারে চায়নাম্যান, কীভাবে? 

রুবেল: আমি যখন ছোট ছিলাম, গ্রামের ক্রিকেটে টেপ টেনিস বলে লেগস্পিন বল করতাম। তখনো জানতাম না এটা যে চায়নাম্যান স্টাইল। ঢাকায় আসার পরে যখন ভালোভাবে বোলিং শুরু করি তখন জানতে পারি এটা চায়নাম্যান। মুশফিক ভাইকে বোলিং করার পর উনিও বলেছেন। এ ছাড়া মুশফিক ভাই তো সব সময় পরামর্শ দিয়ে থাকেন, কীভাবে কী করতে হবে।

মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে কীভাবে পরিচয়? 

রুবেল: শাহীন স্যার আমাকে নিয়ে এসেছিলেন, উনিই আমাকে মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় করে দিয়েছিলেন। এরপর মুশফিক ভাইকে আমি বল করছিলাম। মুশফিক ভাই আমাকে জাতীয় দলের নেটে বল করতে নিয়ে যান। সেখানে (মাহমুদউল্লাহ) রিয়াদ ভাইসহ সবাই ছিলেন। যখন গিয়েছিলাম তখন ডমিঙ্গো স্যার ছিলেন, হেরাথ স্যার ছিলেন না। এর আগেরবার যখন গেয়েছিলাম তখন সুনীল স্যার (সুনীল যোশি, স্পিন কোচ) ছিল। আমাকে বোলিংয়ে অনেক পরামর্শও দিয়েছিলেন তখন।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বোলিং নিয়ে অভিজ্ঞতা কেমন?

রুবেল: শেষবার অনুশীলনের সময় আমি জিজ্ঞেস করছিলাম মুশফিক ভাইকে, আমার এখনকার অবস্থা নিয়ে। জানতে চেয়েছিলাম আমার আর কী করা লাগবে, তখন উনি বলেছেন সব কিছু তো ঠিক আছে, আস্তে-জোরে বল করছিস, বল উপরে রোলিং করছে ভালো। রিয়াদ ভাইও করোনার আগে আমার বল খেলতেন নিয়মিত, এখন তো খেলা হয় না। আর শেষ যেদিন অনুশীলন করেছিলাম ওই দিন ১৫ মিনিটের মতো বোলিং করছিলাম রিয়াদ ভাইকে। সবাই আমার বোলিং নিয়ে ইতিবাচক কথা বলেন।

কী পরিকল্পনা নিয়ে এখন এগোচ্ছেন...

রুবেল: আমার পড়াশোনা শেষ হয়ে গেছে, এখন খেলাটা নিয়ে আমি মূলত ব্যস্ত আছি। নিয়মিত অনুশীলন করে যাচ্ছি, জিম করে যাচ্ছি। নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের ক্রিকেটে ভালো জায়গায় অবস্থান করতে চাই। চায়নাম্যান বোলারের অভাব পূরণ করতে চাই।

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়