ঢাকা     শুক্রবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৯

৭ রানে বাংলাদেশের কষ্টের জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ২৩:৪৯, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
৭ রানে বাংলাদেশের কষ্টের জয়

৭ রানে জিতলো বাংলাদেশ। রান তাড়ায় নেমে আমিরাত দারুণ শুরু করে। রানআউট হয়ে ওয়াসিম (১৫) ফিরলেও আরেক ওপেনার চিরাগ ছিলেন ভয়ঙ্কর। মিরাজ তাকে থামান ৩৯ রানে। মাত্র ২৪ বলে এই রান করেন তিনি। চিরাগের আউটে পতন ঘটে আমিরাতের ব্যাটিং লাইনআপে। ৩৬ রানে তারা হারায় ৬ উইকেট। শেষ ২ ওভারে আমিরাতের প্রয়োজন ছিল ২১ রান। ১৯তম ওভারে সাইফউদ্দিন ১০ রান দেন। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১১। আমিরাতের ছিল ২ উইকেট। সাইফউদ্দিন ক্যাচ মিস করলেও পরপর দুই বলে ২ উইকেট নিয়ে নেন। মোস্তাফিজ-শরিফুল ডেথ ওভারে করা ২ ওভারে ১১ রানে নেন ৩ উইকেট। সর্বোচ্চ ৩ উইকেট করে নেন শরিফুল-মিরাজ। দুই ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশ: ১৫৮/৫ (২০ ওভার)

আরব আমিরাত: ১৫১/১০ (১৯.৪ ওভার)

ডেথ ওভারে দারুণ মোস্তাফিজ, ১২ বলে আমিরাতের প্রয়োজন ২১

ডেথ ওভারে দারুণ মোস্তাফিজুর রহমান। ১৭তম ওভারে ৮ রান দিয়ে নিলেন ১ উইকেট। শেষ বলে কার্তিক মায়াপ্পনকে ফেরান বোল্ড করে। এর আগে ৩ ওভারে দিয়েছিলেন ২৩ রান। 

৩৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে আরব আমিরাত

মিরাজের সঙ্গে শরিফুল-মোস্তাফিজদের আঘাতে ৩৬ রানে ৬ উইকেট হারায় আরব আমিরাত। মিরাজ নেন ৩ উইকেট। আর মোস্তাফিজ-শরিফুল নেন ১টি করে উইকেট। দুজন রানআউট হন। সবশেষ আফিফ হোসেনের সরাসরি থ্রোতে সপ্তম উইকেট হারায় আরব আমিরাত। ২২ বলে ৪১ রান প্রয়োজন আরব আমিরাতের।

মিরাজের ঘূর্ণিতে ম্যাচের নাটাই বাংলাদেশের হাতে

১৩তম ওভারে শরিফুলের আঘাতের পরেই আবার মিরাজের আক্রমণ। নিজের টানা তিন ওভারে নিলেন ৩ উইকেট। আরব আমিরাত হারালো ষষ্ঠ উইকেট। লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন অরবিন্দ, কিন্তু টাইমিং ঠিকঠাক হয়নি। মিরাজের হাতেই ক্যাচ দেন তিনি। ১৬ বলে ১৬ রান করেন অরবিন্দ। 

মিরাজের পর মোস্তাফিজের আঘাত

মোস্তাফিজের বলে মিরাজের দারুণ ক্যাচে ফিরলেন রিজওয়ান। ১ চারে ৬ বলে ৫ রান করেন মিরাজ। মোস্তাফিজের এটি প্রথম উইকেট। এর আগের ওভারে দিয়েছিলেন ১৩ রান। 

পরপর ২ ওভারে মিরাজের ২ উইকেট

ভয়ঙ্কর চিরাগ সুরিকে সাজঘরে পাঠালেন মিরাজ। ২৪ বলে ৩৯ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এক ওভার পরেই আবার মিরাজের আঘাত। এবার ফেরালেন সেট ব্যাটসম্যান আরিয়ানকে। ১৫ বলে ১৯ রান করেন আরিয়ান। 

মোস্তাফিজ-নাসুমের ২ ওভারে আরব আমিরাতের ২৮

মোস্তাফিজের করা পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে টানা তিন চারে চিরাগ সুরি নেন ১৩ রান। পরের ওভারে নাসুম দেন আরও ২ রান বেশি। সুরি-আরইয়ান লাকরা একটি করে চার-ছক্কায়  নেন ১৫ রান। দুজনে ২ ওভারে দেন ২৮ রান। দুজনে ২০ বলে ৩৭ রান যোগ করেন। 

রানআউটে প্রথম উইকেটের দেখা পেলো বাংলাদেশ

মোহাম্মদ ওয়াসিমের রানআউটে প্রথম উইকেটের দেখা পেলো বাংলাদেশ। শরিফুলের বলে চিরাগ সুরি সোজাসুজি ডিফেন্ড করলে শরিফুল হাতের স্পর্শ লেগে বল উইকেট ভেঙে দেয়। নন স্ট্রাইক প্রান্তে থাকে ওয়াসিম বেরিয়ে যান বক্স থেকে। চেষ্টা করেও ফিরতে পারেননি। রিপ্লে দেখে আউট ঘোষণা করেন টিভি আম্পায়ার। ১৫ বলে ১৫ রান করে থামেন ওয়াসিম। 

আফিফ-সোহানের ব্যাটে ১৫৯ রানের সংগ্রহ পেল বাংলাদেশ

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। এরপর আফিফ হোসেনের ব্যাটে ভর করে এগোয় বাংলাদেশ। ষষ্ঠ উইকেটে তাকে যোগ্য সহায়তা দেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। তারা দুজন অবিচ্ছিন্ন থেকে তোলেন ৮১ রান। তাতে বাংলাদেশ পায় ১৫৯ রানের সংগ্রহ। আফিফ ৫৫ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৭ রানে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গে ২৫ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন সোহান।

আফিফের ফিফটিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

৩৮ বেলে ৫টি চার ও ১ ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেন আফিফ। টি-টোয়েন্টিতে আফিফের এটি তৃতীয় ফিফটি। তার ও সোহানের ব্যাটে ভর করে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। সোহান ১৯ বলে ২১ রানে ব্যাট করছেন।

আফিফ-সোহানের ব্যাটে শতরান পেরিয়ে বাংলাদেশ

৭৭ রানে মোসাদ্দেক ফেরার পর জুটি বাঁধেন আফিফ ও নুরুল হাসান সোহান। তারা দুজন দলীয় সংগ্রহকে শতরান পার করিয়েছেন। ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেট হারিয়ে ১০৪ রান। আফিফ ৪৫ ও সোহান ১৪ রানে ব্যাট করছেন।

ফিরলেন মোসাদ্দেকও

৪৭ রানেই ৪ উইকেট হারানোর পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও আফিফ হোসেন মিলে ২৩ বলে ৩০ রানের জুটি গড়েন। তাতে দলীয় সংগ্রহ বেড়ে হয় ৭৭। কার্তিক মায়াপ্পনের করা একাদশ ওভারের শেষ বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্ট্যাম্পড হয়ে যান মোসাদ্দেক। ৮ বল খেলে ৩ রান করে যান তিনি। 

আউট মিরাজও

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই শূন্য রানে আউট সাব্বির। তার পর ক্রিজে এসে ১৩ রানে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। সম্ভাবনা দেখিয়ে সাজঘরে ফিরলেন মেহেদি হাসান মিরাজও। ১৪ বলে ১২ রান করেন মিরাজ। 

লিটন ফিরলেন ১৩ রানে 

সাব্বিরের আউটের পর ক্রিজে এসেই এক বল পর লিটন দারুণ চার হাঁকান। পরের ওভারে হাঁকান আরও দুই চার। এরপরেই বাঁধে বিপত্তি। স্লগসুইপ করতে গিয়ে ধরা পড়েন জুনায়েদের হাতে। ৮ বলে ১৩ রান করেন লিটন। 

সাব্বির ফিরলেন শূন্য রানে

এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সাব্বির-মিরাজকে ওপেন করিয়েছিল বাংলাদেশ। আরব আমিরাতের বিপক্ষেও তাই। সাব্বির নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এই ম্যাচেও। পুল করতে গিয়ে ধরা পড়েন বাউন্ডারি লাইনের কাছে। আউট হন শূন্য রানে। 

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে যারা

আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিং করবে নুরুল হাসান সোহানের দল। 

বাংলাদেশ একাদশ: একাদশে ফিরেছেন নুরুল হাসান সোহান, ইয়াসির আলী রাব্বি, লিটন দাস ও শরিফুল ইসলাম। তারা কেউ এশিয়া কাপের দলে ছিলেন না। 

কাজী নুরুল হাসান সোহান, আফিফ হোসেন ধ্রুব, লিটন দাস, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, ইয়াসির আলি রাব্বি, নাসুম আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। 

চোখ বিশ্বকাপে 

‘অবশ্যই একটা কনসার্ন থাকবে, বিশ্বকাপের সম্ভাব্য একাদশটা যেন আমরা দাঁড় করাতে পারি। তার আগে আমাদের এখানে দুইটা ম্যাচ আছে, নিউজিল্যান্ডে ম্যাচ আছে। অবশ্যই আমাদের যে সেরা কম্বিনেশন সেটা খোঁজার চেষ্টা করা হবে’-আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন এভাবেই বলেছেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। মূল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান না থাকলেও তার পরামর্শও নিচ্ছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। বলা যায় বিশ্বকাপের আগে নিজেদের সেরা একাদশ বাছাইয়ের জন্য এই ম্যাচগুলো ড্রেস রিহার্সাল।

প্রতিপক্ষ দুর্বল ভাবছে না বাংলাদেশ 

প্রতিপক্ষ টিম নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আরব আমিরাত অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল। তাদের হারালে ভুল আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে কী না প্রশ্নে উড়িয়ে দিয়েছেন সোহান।  ‘প্রথমত আমি কোনো দল দুর্বল কিংবা ছোট এই শব্দটা কখনোই ব্যবহার করতে চাই না। তারা যেহেতু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলছে, তারা ক্যাপাবল। টি-টোয়েন্টিতে আপনি দেখবেন যারা যেদিন ভালো খেলে ফল তাদের পক্ষে আসে।’

একমাত্র দেখায় জয় বাংলাদেশের 

এই দেশটির বিপক্ষে বাংলাদেশ মাত্র ১টি ম্যাচ খেলে। ২০১৬ এশিয়া কাপে ঘরের মাঠে এই ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পায় ৫১ রানে। এর মধ্যে দিয়ে দুবাইয়ে জয়ের খরাও কাটাতে পারে বাংলাদেশ। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই হেরেছে। এছাড়া আরব আমিরাতে খেলা সবশেষ ৭ ম্যাচের একটিতেও জেতেনি বাংলাদেশ।

ঢাকা/রিয়াদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়