ঢাকা     রোববার   ০৮ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৩ ১৪৩২ || ১৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

লুসাইলের মঞ্চে মুখোমুখি মেসির আর্জেন্টিনা ও ইয়ামালের স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১৬, ১৩ অক্টোবর ২০২৫  
লুসাইলের মঞ্চে মুখোমুখি মেসির আর্জেন্টিনা ও ইয়ামালের স্পেন

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা আবারও দক্ষিণ আমেরিকার সেরা দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে। ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের পর তারা এবার ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালিসিমায়। যেখানে লড়বে দুই মহাদেশের সেরা দুই দল। আর এবার জানা গেল, সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের তারিখ ও ভেন্যু।

স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই মহারণ। এখানেই মেসি তুলেছিলেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্রফি, ২০২২ বিশ্বকাপের শিরোপা। সেই একই মাঠে আবারও ফিরছেন তিনি, এবার নতুন এক গৌরবের উদ্দেশ্যে।

আরো পড়ুন:

ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ওয়েম্বলি কিংবা উরুগুয়ের সেন্টেনারিওর মতো ভেন্যুও আলোচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আরব বিশ্বের ক্রমবর্ধমান ফুটবল প্রভাব ও অবকাঠামোর মানের কারণে বেছে নেওয়া হয়েছে লুসাইলকে। ভৌগোলিক দিক থেকেও এটি তুলনামূলক নিরপেক্ষ। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা দুই মহাদেশের সমর্থকদের জন্যই এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প।

যদি সব ঠিক থাকে, তবে এই ফাইনালিসিমা হয়ে উঠবে প্রজন্মের সংঘাতের প্রতীক। এক পাশে থাকবেন লিওনেল মেসি। যিনি ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের একজন। অন্যপাশে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই স্পেন ও বার্সেলোনার আলোচিত প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল।

বার্সার দুই প্রজন্মের এই লড়াই নিঃসন্দেহে রূপ নেবে ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ে। মেসির প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা আর ইয়ামালের তারুণ্যের ঝলক; লুসাইলের আকাশে ফুটবলের এক মহাকাব্য লিখবে।

ফাইনালিসিমা বা ইউরোপ-দক্ষিণ আমেরিকা নেশনস কাপের ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। তারপর দীর্ঘ বিরতি শেষে ২০২২ সালে আবারও ফিরে আসে এই প্রতিযোগিতা, যেখানে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ইতালিকে হারিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। এর আগে শুধুমাত্র ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা একবার করে জিতেছিল এই আসর।

এবারের ফাইনালিসিমা তাই আর্জেন্টিনার জন্য ইতিহাস টিকিয়ে রাখার লড়াই। আর স্পেনের জন্য ইতিহাস গড়ার সুযোগ। প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। যাদের মাঝমাঠের দখলদারিত্ব ও সৃজনশীল আক্রমণ হতে পারে আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মেসিরা যেখানে চায় ফাইনালিসিমার শিরোপা ধরে রেখে নিজেদের আধিপত্য অটুট রাখতে, সেখানে ইয়ামাল ও তার সতীর্থরা ইতিহাসের পাতায় নতুন নাম লেখানোর মিশনে নামবে।

ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষায় ২০২৬ সালের মার্চে, সেই লুসাইল স্টেডিয়ামে, যেখানে মেসি একদিন বিশ্বজয়ের আনন্দে কেঁদেছিলেন। সেই একই মঞ্চে হয়তো আবারো লেখা হবে ফুটবলের নতুন মহাকাব্য।

ঢাকা/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়