ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

এপস্টাইন অধ্যায় ভুলে সামনে এগোনো উচিত : ট্রাম্প

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:১৬, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১১:২৯, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এপস্টাইন অধ্যায় ভুলে সামনে এগোনো উচিত : ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দেশের মানুষের এখন জেফরি এপস্টাইন ইস্যুটি ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, এপস্টাইন এবং অন্যরা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

গত মঙ্গলবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি এখন দেশের অন্য কিছুতে মনোযোগ দেওয়ার সময়। কারণ আমার বিরুদ্ধে কিছুই বেরিয়ে আসেনি বরং এটি ছিল আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র, যা আক্ষরিক অর্থেই এপস্টাইন এবং অন্যান্যরা মিলে করেছিলেন।”

আরো পড়ুন:

তিনি আরো যোগ করেন, “মাইকেল উলফ নামের একজন সাংবাদিক এবং এপস্টাইন মিলে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এটি গতকালই সামনে এসেছে... তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন যাতে নির্বাচনে আমার হার নিশ্চিত করা যায়। আমার সম্পর্কে কেবল এই বিষয়টিই সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।”

এপস্টাইন ফাইলে উল্লেখিত অন্যান্য নাম, যেমন মার্কিন প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প উত্তর দেন, “আমি নিশ্চিত তারা ঠিক আছেন। অন্যথায় এটি বড় সংবাদের শিরোনাম হতো।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো যখন মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে যে, তারা এপস্টাইনের যৌন-অপরাধ তদন্ত সংশ্লিষ্ট কয়েক লাখ নথির পর্যালোচনা শেষ করেছে। ডেপুটি ইউএস অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেছেন, এই নথিগুলো নতুন করে কোনো মামলা করার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, “সেখানে প্রচুর চিঠিপত্র রয়েছে... কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা কাউকে অভিযুক্ত করতে পারবো।”

তা সত্ত্বেও, মার্কিন কংগ্রেস তাদের নিজস্ব তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। আইন প্রণেতারা অবমাননার কার্যধারা শুরু করার হুমকি দেওয়ার পর, প্রতিনিধি পরিষদ এই মাসের শেষের দিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্য গ্রহণের সময় নির্ধারণ করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশ করা এপস্টাইন ফাইলগুলোতে ট্রাম্পের নাম ৬ হাজার বারের বেশি এসেছে, যার বেশিরভাগই এপস্টাইন ও তার সহযোগীদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে। নব্বইয়ের দশকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও এপস্টাইনকে একসঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকেই তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে।

২০১১ সালের একটি ইমেইল-যা এপস্টাইন ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে লিখেছিলেন- সেখানে একজন ভুক্তভোগীর প্রসঙ্গে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, যদিও ট্রাম্প এতে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।

এপস্টাইনের যৌন অপরাধের শিকার কিছু ভুক্তভোগী বিচার বিভাগের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একজন ভুক্তভোগী বিবিসিকে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং তাদের মনে হচ্ছে কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে ‘কোনো ধরনের খেলা খেলছে’।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, সব প্রাসঙ্গিক নথি জনসমক্ষে আনা হয়েছে কি না। সিনেটের মাইনরিটি লিডার চাক শুমার প্রশ্ন করেছেন, “যেসব নথিতে ‘ট্রাম্প’ শব্দটি উল্লেখ আছে তার সবকটি কি প্রকাশ করা হয়েছে?”

যদিও ট্রাম্পের কিছু সমর্থক বিষয়টি ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে, তবে বিবিসি উল্লেখ করেছে, সম্পাদিত নয় এমন মূল নথিপত্রের দাবি এবং ভবিষ্যতে নতুন সমন জারির সম্ভাবনার কারণে এপস্টাইন মামলাটি মার্কিন রাজনীতি থেকে এত দ্রুত মুছে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়