ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ৩১ ১৪৩৩ || ২৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

আনন্দ ছুঁয়ে গেছে তাদেরও

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫৩, ১৪ মে ২০২৬  
আনন্দ ছুঁয়ে গেছে তাদেরও

ভারত শেষবার ২০২২ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে দুই টেস্ট খেলল, প্রতিদিনের খেলা শেষে কোচ রাহুল দ্রাবিড় উইকেট দেখতে যেতেন। ক্রিজে স্পর্শ করা যাবে না। তাই খুব কাছ থেকে দিয়ে উইকেটের পরিবর্তন বোঝার চেষ্টা করতেন।

বাংলাদেশ দলে এমন কাজটা রোজকার কেউ করেন না। তবে দলের নির্বাচকদের একজন মাঠে এলেই কাছ থেকে গিয়ে উইকেট দেখে আসেন। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। ঢাকা টেস্টের পাঁচদিনের চারদিনই তাকে খেলা শেষে মাঠে পাওয়া গেছে। উইকেট তো দেখেছেনই, সঙ্গে খেলোয়াড়দের সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেছেন।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, মিরাজের সঙ্গে তাকে কথা বলতে দেখা যায়। সেই আলোচনায় যোগ দেন নির্বাচক প্যানেলের বাকি তিন সদস্যও। ব্যাট-বলে মিলে গেলে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকেও দেখা যায়।

প্রধান নির্বাচক হওয়ার পর টেস্টে হাবিবুলের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ছিল ঢাকা টেস্ট। অভাবনীয় পারফরম্যান্সে দলকে জিততে দেখায় যারপরনাই খুশি হাবিবুল। প্রতিটি দিন দারুণভাবে লড়াই করা, প্রতিটি সেশনে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করা, পিছিয়ে পড়লেও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছে দল। সবশেষে চোখে চোখ রেখে দাপুটে পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে নেয় অতি সহজেই।

হাবিবুলের চোখে ধরা পড়েছে সব, ‘‘টেস্টে জয় তো আমরা আগেও পেয়েছি। প্রধান নির্বাচক হওয়ার পর আমার প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে জয় এটা বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে। শুধু আমাকে না, বাকিদেরও। আমরা যেভাবে ম্যাচটা খেলেছি সেটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ছাড় দেইনি। পিছিয়ে পড়েছিলাম কিন্তু হাল ছাড়িনি। এই মানসিকতার কারণেই আমরা আসলে ম্যাচটা জিতেছি।’’

‘‘খেয়াল করলে দেখবেন প্রতিটি খেলোয়াড় যেভাবে ম্যাচটা জিততে তৎপর ছিল। শেষ সেশনে যেভাবে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের চাপ রেখেছিল তাতেই ওরা অর্ধেক লড়াইয়ের শক্তি হারিয়ে ফেলে। আমরা হয়তো ২৫-৩০ ওভার বোলিং করলেও করতে পারতাম। ৭ উইকেট এক সেশনে নেওয়া, তাও টেস্টের পঞ্চম দিনে। যেখানে ব্যাটসম্যানদের জন্য সুবিধা ছিল। অসাধারণ।’’

হাবিবুলের মনে ধরেছেন অধিনায়ক নাজমুলের অধিনায়কত্ব, ‘‘শান্তর অধিনায়কত্ব ছিল টপ ক্লাস। ও খুব ভালো করে জানত কখন কী করতে হবে। কোন পেসারকে কার সামনে বোলিং করাতে হবে। কখন পেসারকে বিশ্রাম দিতে হবে। এটা তখনই হবে যখন আপনি অধিনায়ক হিসেবে সবার আছে গ্রহণযোগ্যতা রাখবেন। তখন বাকিরাও এসে আপনাকে দল চালাতে সাহায্য করবে। এটা পরিবেশ এমনভাবে ও তৈরি করে নিয়েছে যেখানে আসলে সুস্থ প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কিছু চলে না। বাকিরা সবাই সবার জন্য পাশে আছে।’’

ঢাকা থেকে সিলেট। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ১৬ মে। হাবিবুলের বিশ্বাস সিরিজটাও জিততে পারবে বাংলাদেশ, ‘‘আমরা যেই মনোযোগ দিয়ে ঢাকা টেস্টটা খেলেছি, একই মনোযোগে যদি সিলেটে খেলতে পারি তাহলে ম্যাচটা জিততে পারবো। আত্মবিশ্বাস তো তৈরি হয়েছেই। এখন কেবল নিজেদের শান্ত রেখে পারফর্ম করা। তাহলেই যথেষ্ট।’’

টেস্টে সবার নজর কাড়া নাহিদ রানাকে নিয়ে কিছু না বললেই নয়। হাবিবুল এক শব্দে বললেন, ‘‘আগুন।’’

ঢাকা/ইয়াসিন 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়