নেতানিয়াহু ‘দানব, মানবতার কলঙ্ক’: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে একজন ‘দানব’ ও মানবতার জন্য ‘কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ধর্ষণকে প্রশ্রয় ও উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ তিনি এই মন্তব্য করেন।
বৃস্পতিবার (১৪ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য একটি সমন্বিত ইসরায়েল-বিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি আরো দাবি করেন, পাকিস্তান ইরানি সামরিক বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা থেকে বাঁচাতে আশ্রয় দিয়েছে।
ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় আসিফ নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধে নেতানিয়াহুর সমর্থনের বিষয়টি সামনে আনেন।
বুধবার (১৩ মে) নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “দেখুন কে কথা বলছে! এমন এক দানব যে ইসরায়েলি সৈন্য, জেলরক্ষী এবং কুকুরের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি বন্দিদের- নারী, পুরুষ ও শিশুদের- ধর্ষণ করতে উৎসাহ দেয় এবং প্রশ্রয় দেয়। মানবতার মাথা আজ লজ্জায় নত।”
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেস্কা অ্যালবানিজ গত মার্চ মাসে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিলেন, ইসরায়েলি আটককেন্দ্রে ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘সম্মিলিত প্রতিশোধ’ হিসেবে নজিরবিহীন নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ওই প্রতিবেদনে নিষ্ঠুর মারধর, অনাহার ও যৌন সহিংসতার মতো ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে ৩৫০ শিশুসহ ৯ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন মার্কিনির মধ্যে ৬ জনই ইসরায়েলের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। এই হার ২০২৫ সালের তুলনায় ৭ শতাংশ এবং ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে নেতানিয়াহু এই ভাবমূর্তি সংকটের জন্য গাজায় তার সামরিক অভিযানকে দায়ী না করে সামাজিক মাধ্যমের ‘অপপ্রচার’কে দায়ী করেছেন। তিনি সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমের কারসাজিতে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনের অবনতি আমরা দেখেছি।”
গাজা উপত্যকায় নেতানিয়াহুর নির্দেশিত চলমান সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গত মার্চের শুরু থেকে দক্ষিণ লেবাননেও সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করেছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২ হাজার ৮৬৯ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক যুদ্ধে প্ররোচিত করেছিলেন, যা দ্রুত একটি আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয় ও বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করে। এই যুদ্ধে ইরানে শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। ৪০ দিন পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে এই যুদ্ধের অবসান ঘটে।
ঢাকা/ফিরোজ