২৩ দিনেও মেলেনি বিচার, নিরাপত্তাহীনতায় বাকৃবি ছাত্রদল নেতা
বাকৃবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
দীর্ঘ ২৩ দিন পার হলেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির এক সদস্যকে মারধরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি। এতে হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় সময় কাটছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
গত ২০ এপ্রিল দুপুরে হাসিবুল হাসান কৌশিক নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ঈশা খাঁ হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভুক্তভোগী কৌশিক কৃষি অনুষদের ৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয় ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম সরদারকে। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিককে এবং সদস্য করা হয় ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলম মিয়াকে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও ২৩ দিন পার হওয়ার পরও সেটি প্রকাশ হয়নি। এতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মধ্যে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী হাসিবুল হাসান কৌশিক বলেন, “প্রশাসন আমাকে আশ্বাস দিয়েছিল, হামলার তিন দিনের মধ্যেই অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে। কিন্তু প্রায় ২৩ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা ফলাফল দেখা যায়নি। এতে আমি এবং আমার সহপাঠীরা গভীরভাবে হতাশ।”
তিনি আরো বলেন, “তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো পর্যন্ত তদন্তের কোনো দৃশ্যমান প্রতিবেদন পাইনি। প্রশাসনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে বিচারের দায়িত্ব পুরোপুরি তাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান না পাওয়ায় আবারো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আশা করি, প্রশাসন দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনবে।”
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক বলেন, “আমাদের কার্যপরিধির মধ্যে যতটুকু কাজ করার ছিল, তা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এর মধ্যে চার দিন ভর্তি কার্যক্রম চলায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ ছিল। পরে বাকি কার্যক্রমও শেষ করা হয়েছে। ঘটনার আট দিনের মধ্যেই তদন্তের মূল কাজ শেষ হয়েছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন জমা দেওয়াই বাকি।”
ঢাকা/লিখন/জান্নাত