Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৮ ||  ১৬ সফর ১৪৪৩

ইলিশের পেটে বসে ইলিশ খাওয়া 

খায়রুল বাশার আশিক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৮:৪৮, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
ইলিশের পেটে বসে ইলিশ খাওয়া 

নিশ্চয়ই আপনি ইলিশ খেতে পছন্দ করেন! সমুদ্রপাড়ে গেলে ইচ্ছেটা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু সেই ইলিশ যদি ইলিশের পেটের মধ্যে বসে খাওয়া যায়, তবে ব্যাপারটা কেমন হবে? বিষয়টি অভিনব মনে হচ্ছে কী?

এমন অনুভূতি দিতে রয়েছে ইলিশ রেস্তোরাঁ। ইলিশের আদলে গড়ে ওঠা এই রেস্তোরাঁর অবস্থান পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায়। সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের ব্যতিক্রমী আনন্দ দিতে ইলিশ পার্ক রিসোর্ট অভ্যন্তরে গড়ে তোলা হয়েছে এই রেস্তোরাঁ।

ইলিশ রেস্তোরাঁর মূল আকর্ষণ ইলিশের হরেক রান্না। ভোজন রসিকদের চাহিদা অনুযায়ী মজার সেসব খাবার সরবরাহ করে এখানকার রাঁধুনীরা। কুয়াকাটা ভ্রমণার্থীদের কাছে এটি একটি আকর্ষণের নাম। ইলিশের পেটে বসে ইলিশ খাওয়ার অনুভূতি যেন সত্যিই ভিন্নধর্মী। ভ্রমণকারীরা তাজা ইলিশের স্বাদ পাচ্ছেন নান্দনিক এই রেস্তোরাঁয়। এখানে মিলবে সরষে ইলিশ, ফ্রায়েড ইলিশ, ইলিশ কারি, ইলিশ ভুনা, ভাপা ইলিশ, নোনতা ইলিশ, সবজি ইলিশ, ডাল ইলিশ, ইলিশ ভর্তা, ইলিশ-মুড়িসহ ইলিশের ডিম।  
শুধুই ইলিশ নয়, প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামুদ্রিক মাছের রেসিপি পাওয়া যাবে এই রেস্টুরেন্টে।  ফিস বারবিকিউ, ফিস ফ্রাই, ফিস বল, কাকড়া ফ্রাই, ২০-২৫ রকমের মাছ ভর্তা, মাছের শুঁটকি রান্না থেকে শুরু করে নানা মুখরোচক খাবার মিলবে এখানে। 

পানি ছাড়া কোনো খাবার এই রেস্তোরাঁয় ফ্রিজিং করা হয় না। ব্যবহার করা হয় না কোনো প্লাস্টিক পণ্য। চা কিংবা কফি পান করতে ব্যবহার করা হয় নারিকেলের মালশা। এখানে মাটির পাত্র ও কলাপাতায় খাবার সরবরাহ হয়। খাবারের মূল্য তালিকাও রাখা হয়েছে সাধ্যের নাগালে। প্রয়োজন কিংবা শখে পরিবারের রান্না নিজে যদি করতে চান রয়েছে সে ব্যবস্থা!

রেস্তোরাঁর ধারণ ক্ষমতা ৫০ জন। ইলিশের মতোই রুপালি রঙে সাজানো হয়েছে রেস্তোরাঁর দেয়াল। দেয়ালে সূর্যের আলো পড়ে চিক চিক করে। রাতে রঙিন আলোয় পার্কটি সাজে নতুন রূপে- সবুজ, হলুদ, লালসহ নানা রঙের বাতি দেখে মনে হবে এ যেন রাঙা এক দ্বীপ!

নানা দেশি-বিদেশি গাছে ঘেরা রেস্তোরাঁর চারপাশ। সমনেই রাখা হয়েছে নানা বন্য প্রাণীর ভাস্কর্য।  সাদা বক, সিংহ ও বাঘ, ক্যাঙারু, হরিণ ও হরিণের বাচ্চা, ব্যাঙ, খরগোশ, কচ্ছপ, বানরসহ হরেক পশুপাখির ভাস্কর্য রয়েছে এই আঙিনায়। রেস্তোরাঁর পাশেই খাঁচায় রাখা হয়েছে শকুন, মেছোবাঘ, বনবিড়াল, টারকি, গুজো বক, খরগোশ, সাদা ইঁদুরসহ বেশ কিছু প্রাণী। প্রাণীগুলো স্থানটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুণ।   

বিলুপ্তপ্রায় সামুদ্রিক মাছের পরিচিতি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে রেস্তোরাঁর পার্ক কম্পাউন্ডে রয়েছে একটি মৎস্য জাদুঘর। কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রাখাইন সংস্কৃতির ছবিতে সাজানো হয়েছে একটি ফটো গ্যালারি। পার্কের লেকের মধ্যে সাম্পান নামের একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার হয় এই সাম্পান। আরও রয়েছে শিশুদের জন্য ভূতের বাড়ি ও বিভিন্ন খেলার সামগ্রী। 

ইলিশ পার্কে রয়েছে আবাসিক কয়েকটি কটেজ। আগত রুচিশীল দর্শনার্থীরা মুগ্ধতা নিয়ে এসব কটেজে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। রয়েছে বেশ কয়েকটি ছনের ঘর। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ১০ মিনিটের পায়ে হাঁটা দূরত্বে এই ইলিশ পার্ক ও রেস্তোরাঁর অবস্থান। পার্কটি দেখা ও রকমারি খাবারের স্বাদ নিতে এখানে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। সব মিলিয়ে ভোজন সুখের সন্ধান মিলছে এই ইলিশ পার্ক ও রেস্তোরাঁয়। 

এ প্রসঙ্গে কথা হয় ইলিশ পার্কের স্বত্বাধিকারী রুমান ইমতিয়াজ তুষারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ’ইলিশের সঙ্গে আমাদের একটি বড় সম্পর্ক রয়েছে। রুপালি ইলিশ আমাদের দেশের জন্য আশীর্বাদ। ইলিশকে দেশে-বিদেশে আরও পরিচিত করে তুলতেই ২০১৫ সালে ইলিশ ক্যাফে চালু করি। ইলিশের পেটে ইলিশসহ মিলছে সামুদ্রিক মাছের খাবার। এই রেস্তোরাঁকে কেন্দ্র করে পাশেই তৈরি হয় নান্দনিক কটেজ ও ছোট পার্ক। যার নাম দেওয়া হয় ইলিশ পার্ক ইকো রিসোর্ট। যা এখন একটি আলাদা ভ্রমণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।’ 

সমুদ্রের মুক্ত বাতাস দর্শনার্থীদের উদাস করে তোলে। সমুদ্রের নোনা জল ধুয়ে নেয় মানুষের দুশ্চিন্তা। স্নিগ্ধ সমুদ্রের ঢেউ আমাদের মন জুড়ায়। সেই সমুদ্র পাড়ে দর্শনার্থীদের ভোজন বিলাশের আনন্দ দিতে প্রস্তুত হয়েছে ইলিশ রেস্তোরাঁ। যে কারণে দীর্ঘ লকডাউনের পরে আবার শুরু হয়েছে ইলিশের পেটে ইলিশ ভোজন। 

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়