ঢাকা     শনিবার   ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৫ ১৪২৯

সুরঞ্জনার কাশবনে

মহিউদ্দিন অপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৬:০০, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
সুরঞ্জনার কাশবনে

‘ফিরে এসো সুরঞ্জনা, নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে; ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে...’

কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশলীনা’ কবিতার এই সুরঞ্জনা কাল্পনিক হলেও বরগুনায় সন্ধান পাওয়া গেছে এক সুরঞ্জনার। এখানে অবশ্য নামটি ব্যবহার করা হয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উদাহরণ হিসেবে। এই সুরঞ্জনার সান্নিধ্যে মিলবে সবুজ আরণ্য ঘেরা বিস্তীর্ণ মাঠ, শরতের কাশফুল ও স্নিগ্ধ বাতাস। জোছনা রাতে প্রকৃতির রূপ এখানে উপচে পড়ে। 

ইকো ট্যুরিজমের উন্নয়নের লক্ষ্যে বরগুনায় সম্প্রতি তৈরি হয়েছে ‘সুরঞ্জনা’ নামে ইকোপার্ক। বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের বরইতলা সংলগ্ন বিষখালী ও খাকদোন নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা এই পার্কে রীতিমত দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে।

ভরদুপুরে দূর থেকেও এখানে শোনা যায় পাখির ডাক। পার্কের দুই দিকে সবুজ বনের বুক চিড়ে সাপের মতো একেবেঁকে কাঠের সড়ক চলে গিয়েছে বনের গহীনে। কাঠের সেই পথ ধরে বনের ভেতর হারিয়ে যাওয়া প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে সত্যি অভাবনীয় এক অনুভূতি। 

এখানে রয়েছে প্রাণ-প্রকৃতির অবাধ বিচরণ। ছৈলা, গোলপাতার গাছ, কেওড়াসহ নানা ধরনের বনজ বৃক্ষে ভরপুর দৃষ্টিনন্দন এই ইকোপার্কের মাঝখানে বসানো হয়েছে বিশালাকৃতির কুমির ও কাঁকড়ার ভাস্কর্য। এ ছাড়াও রয়েছে বাঘ, সিংহ, হরিণ, বক, জিরাফসহ বেশ কিছু জীবজন্তুর মূর্তি।  

শুধু অবয়বই নয় এখানে জল ও স্থলে রয়েছে নানা রকমের জীবজন্তুর বাস। পাখি, শৃগাল, বেজি, কাঠবিড়ালি, গুইসাপ, গিরগিটিসহ নানা প্রাণীর দেখা মিলবে এখানে। রয়েছে জঙ্গল বাড়ি, ক্যাফে, মটকা চায়ের দোকান। এ ছাড়াও মান্না দে'র বিখ্যাত সেই কফি হাউজ গানের নিখিলেশ, মইদুলসহ স্মরণীয় নামগুলোতে গড়া হয়েছে একাধিক ফ্যামিলি কটেজ। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বহনকারী পালকি, দোলনাও রয়েছে এখানে। বসছে বায়স্কোপ।

পার্কটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। তারপরও পার্কটিতে প্রবেশের পর নিখাঁদ প্রকৃতির আবেশে মন্ত্রমুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। কথা হয় ভ্রমণপিপাসু কয়েকজন প্রকৃতিপ্রেমীর সঙ্গে। তাদের মধ্যে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আমিনুর রহমান বলেন, বরগুনায় বিনোদনের জন্য উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই নেই। পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে মনোরম এমন একটি প্রাকৃতিক পরিবেশের দরকার ছিল।

কিশোরী জেরিন, মীম ও তাব্বাসুম বলেন, এ যেন এক টুকরো সুন্দরবন। শহরের পাশে বসে এভাবে প্রকৃতি উপভোগ করার এতো সুন্দর জায়গা আর কোথাও আছে বলে আমাদের জানা নেই। গোধূলির সময় পালকিতে কিংবা দোলনায় দোল খেতে খেতে দোদুল্যমান সাদা কাশফুলগুলো দেখে মন আনন্দে ভরে ওঠে।

ইকোপার্কটির উদ্যোক্তা সাংবাদিক ও আইনজীবী সোহেল হাফিজ বলেন, উপকূলীয় বরগুনা জেলার পরিচিতি বহন করতেই এই সুরঞ্জনার আয়োজন। এ জেলায় এমন দর্শনীয় অসংখ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় স্থান রয়েছে। তবে উদ্যোগের অভাবে জেলার ইকোটুরিজম বিকশিত হয় না। 
 

/তারা/ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়