ঢাকা, শুক্রবার, ৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ জুন ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

স্মরণ ॥ কবি রফিক আজাদ

শাহ মতিন টিপু : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১২ ১১:২২:৩০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৩-১২ ১১:২২:৩০ এএম

শাহ মতিন টিপু :  কবি রফিক আজাদ এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। স্বাধীনচেতা এই কবি স্বাধীনতার মাসে অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১২ মার্চ প্রয়াত হন।

৭৪ বছর বয়সে প্রয়াত কবির শেষ সময়ের ঘটনাক্রম ছিল এ রকম- ১৪ জানুয়ারি রাতে ‘ব্রেইন স্ট্রোক’ হয়। প্রথমে বারডেম, পরে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এরপর ১৫ জানুয়ারি তাকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে পরাজিত হন কবি। ১২ মার্চ মহান স্বাধীনতার মাসেই ছড়িয়ে পড়ে মুক্তিযোদ্ধা কবির মৃত্যুর খবর।

এই কবির সাধারণের প্রতি ছিল গভীর টান, ছিল প্রতিরোধ স্পৃহা। সাধারণ মানুষের জন্য তার টানের যথার্থ প্রতিবাদের উদাহরণ ‘ভাত দে হারামজাদা’। এই কবিতায় যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়েছেন, তা অভূতপূর্ব।

দেশজুড়ে তখন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। ভাতের জন্য হাহাকার, মানুষ মরছে অনাহারে। কাব্যভাষায় প্রতিবাদ জানালেন কবি, বিশ্বব্যাপী বুভুক্ষু মানুষের পক্ষে এটি ছিল এক বলিষ্ঠ উচ্চারণ।  তিনি লেখেন-

‘ভীষণ ক্ষুধার্ত আছিঃ উদরে, শরীরবৃত্ত ব্যেপে/ অনুভূত হতে থাকে- প্রতিপলে- সর্বগ্রাসী ক্ষুধা/ অনাবৃষ্টি- যেমন চৈত্রের শষ্যক্ষেত্রে- জ্বেলে দ্যায়/ প্রভুত দাহন- তেমনি ক্ষুধার জ্বালা, জ্বলে দেহ/ দু’বেলা দু’মুঠো পেলে মোটে নেই অন্য কোন দাবী/ অনেকে অনেক কিছু চেয়ে নিচ্ছে, সকলেই চায়ঃ/ বাড়ি, গাড়ি, টাকা কড়ি- কারো বা খ্যাতির লোভ আছে/ আমার সামান্য দাবী পুড়ে যাচ্ছে পেটের প্রান্তর-/ ভাত চাই- এই চাওয়া সরাসরি- ঠান্ডা বা গরম/ সরু বা দারুণ মোটা রেশনের লাল চাল হ’লে/ কোনো ক্ষতি নেই- মাটির শানকি ভর্তি ভাত চাইঃ/ দু’বেলা দু’মুঠো পেলে ছেড়ে দেবো অন্য-সব দাবী।’

টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার গুণী গ্রামের অভিজাত পরিবারে ১৯৪১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জন্ম কবি রফিক আজাদের। পিতা সলিম উদ্দিন খান ছিলেন একজন প্রকৃত সমাজসেবক এবং মা রাবেয়া খান ছিলেন আদর্শ গৃহিণী। দুই ভাই-এক বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ।

রফিক আজাদ বাংলা একাডেমীর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা উত্তরাধিকার এর সম্পাদক ছিলেন। রোববার পত্রিকাতেও রফিক আজাদ নিজের নাম উহ্য রেখে সম্পাদনার কাজ করেছেন। তিনি টাঙ্গাইলের মওলানা মুহম্মদ আলী কলেজের বাংলার লেকচারার ছিলেন। কাজ করেছেন বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন, উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে। রফিক আজাদ ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা৷ তিনি ১৯৭১ সালে কাদের সিদ্দিকীর সহকারী ছিলেন ৷

প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘অসম্ভবের পায়ে’, ‘সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে’, ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’,‘পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি’, ‘প্রেমের কবিতাসমগ্র’, ‘বর্ষণে আনন্দে যাও মানুষের কাছে’, ‘বিরিশিরি পর্ব’, ‘রফিক আজাদ শ্রেষ্ঠ কবিতা’, ‘রফিক আজাদ কবিতাসমগ্র’, ‘হৃদয়ের কী বা দোষ’, ‘কোনো খেদ নেই’, ‘প্রিয় শাড়িগুলো’ ইত্যাদি।

একুশে পদক  ও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার সহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে-, হুমায়ুন কবির স্মৃতি (লেখক শিবির) পুরস্কার (১৯৭৭), আলাওল পুরস্কার (১৯৮১), কবিতালাপ পুরস্কার (১৯৭৯), ব্যাংক পুরস্কার (১৯৮২), সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), কবি আহসান হাবীব পুরস্কার (১৯৯১), কবি হাসান হাফিজুর রহমান পুরস্কার (১৯৯৬), বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা (১৯৯৭) ইত্যাদি।

‘আমাকে খুঁজো না বৃথা কাশ্মীরের স্বচ্ছ ডাল হ্রদে,/ সুইৎসারল্যান্ডের নয়নলোভন কোনো পর্যটন স্পটে,/ গ্রান্ড ক্যানালের গন্ডোলায়ও নয়,/ খুঁজো না ফরাসি দেশে পারীর কাফেতে, মধ্যরাতে;/ রাইন বা মাইনের তীরে, সুবিস্তীর্ণ ফলের বাগানে. . ./ আমাকে খুঁজো না জাম্বো জেটে,/দ্রুতগামী যাত্রীবাহী জাহাজের কিংবা কোনো/ বৃহৎ সমুদ্রগামী যাত্রীবাহী জাহাজের ডেকে. .।’ (আমাকে খুঁজো না বৃথা - রফিক আজাদ)

কোথাও আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা কবিকে একথা সত্যি কিন্তু তার কবিতা ও কথামালা বারবারই আমাদের সামনে আসবে প্রেরণার সম্ভার নিয়ে। কবিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ মার্চ ২০১৮ /টিপু

Walton Laptop
 
   
Walton AC