ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

বাবা বিচারপতি ছেলে ব্যারিস্টার

মেহেদী হাসান ডালিম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১৩ ৭:৫৩:৩৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-২১ ২:০৬:২৬ পিএম
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও ছেলে ব্যারিস্টার জাকের চৌধুরী

মেহেদী হাসান ডালিম: বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ব্যারিস্টার হওয়ার। সে লক্ষ্যে পাড়িও জমিয়েছিলেন বিলেতে। কিন্তু বাবার অর্থের প্রাচূর্য না থাকায় ব্যারিস্টারি না পড়েই চলে আসেন দেশে। পরে দেশেই আইন বিষয়ে ডিগ্রি নিয়ে প্র্যাকটিস শুরু করেন। এক পর্যায়ে ২০০১ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ‍তিনি হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে বিচার কাজ পরিচালনা করেন। নিজে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি নিতে না পারলেও তার একমাত্র ছেলে আহমেদ জাকের চৌধুরী ব্যারিস্টারি পড়া শেষ করে আইন পেশাকেই বেছে নিয়েছেন। বাবার সততা তাকে আকৃষ্ট করলেও বিচারপতি হতে চান না জাকের। স্বপ্ন তার আকাশ ছোঁয়া। প্রয়াত সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলাম ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের মত প্রখ্যাত আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন এই তরুণ ব্যারিস্টার। জাকের ভালবেসে বিয়ে করেছেন ব্যারিস্টার নিলুফার মান্নান চৌধুরীকে। জীবনের বাঁকে বাঁকে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে এই প্রথম কথা বলেছেন  ব্যারিস্টার আহমেদ জাকের চৌধুরী। নবীন আইনজীবীদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নিজেও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম

রাইজিংবিডি: শৈশব-কৈশোর-লেখাপড়া …

জাকের চৌধুরী: জন্ম ১৯৮৬ সালে সিলেটে। তখন আব্বু সিলেটে প্র্যাকটিস করতেন। আমার প্রথম স্কুল ছিল সিলেটের  ব্লু-বার্ড স্কুল। ওইখান থেকে ১৯৯১ সালে আমরা ঢাকায় চলে আসি। আব্বু তখন সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেন। ঢাকায় এসে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি হই। এখানে এক দুই বছর থাকার পর ম্যাপললিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ও লেভেল এবং এ লেভেল সম্পন্ন করি। ২০০৫ সালে আইন পড়তে আমি লন্ডনে যাই।  ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধীনে কুইন মেরি কলেজে ভর্তি হই। ২০০৮ সালে আইন পড়া শেষ হয়ে গেল। ওই বছরই বার এট ল পড়া শুরু করে দিলাম। ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে বার এট ল পড়া শেষ হয়ে যায়। এরপর দেশে চলে আসি। দেশে থেকেই ২০১১ সালে লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম শেষ করি।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, পুত্র ব্যারিস্টার জাকের চৌধুরী ও পুত্রবধু ব্যারিস্টার নিলুফার চৌধুরী


রাইজিংবিডি : দেশে ফিরে আসা এবং প্র্যাকটিস শুরু …

জাকের চৌধুরী : ২০০৯ সালে দেশে ফিরে আমি ড. কামাল হোসেন স্যারের চেম্বারে কাজ শুরু করি। বাবা তখন বিচারপতি। এটা আপনি জানেন, ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ঢোকাটা একটা সৌভাগ্যর বিষয়। ওইদিন থেকে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হয়। স্যারের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। স্যারের যারা আরো পার্টনার আছেন ওনাদের কাছ থেকেও আমি ট্রেনিং পেয়েছি। ব্যারিস্টার রমজান আলী শিকদার, ড. শরিফ ভূঁইয়া, আশরাফুল হাদী ওনাদের সঙ্গে আমার সরাসরি কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। ব্যারিস্টার সারা হোসেনের সঙ্গেও কয়েকদিন কাজ করার সুযোগ হয়েছে। ওইখান থেকে আমার হাতে খড়িটা বেশ ভাল হয়েছে। এখনও আছি ওই চেম্বারে। আব্বু  অবসরে যাওয়ার পর উনি তো শুধু সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্র্যাকটিস করেন। মাঝে মাঝে সকাল বেলাটা আব্বুকে সাহায্য করি। এতে আমারও শেখা হয়।  

রাইজিংবিডি : আইন পেশায় আসার কারণ …

জাকের চৌধুরী : বাবা আইনজীবী, বিচারপতি- এটা অবশ্যই আমাকে আইন পেশায় আসতে প্রভাবিত করেছে। সব বাবাই তার ছেলের কাছে একটা রোল মডেল হিসেবে থাকেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা আমাকে এই পেশার প্রতি আকর্ষণ করে সেটা হল এ পেশা intellectually challenging। আরেকটা জিনিস যেটা আকৃষ্ট করে সেটা হল  আমার কাছে মনে হয়েছে আইন পেশায় মানুষকে সাহায্য করাটা সহজ। 

রাইজিংবিডি : ইংল্যান্ডে কাটানো দিনগুলো …

জাকের চৌধুরী : আসলে আমার বাবা যেহেতু বিচারপতি ছিলেন ওনার অঢেল সম্পদ ছিল না। কুইন মেরিতে পড়া বেশ ব্যয়বহুল ছিল। যেহেতু ব্যয়বহুল ছিল সেহেতু আমাকে কাজ করে পড়তে হয়েছে। তাই আমার খুব একটা বেশি  অবসর সময় ছিল না। যখন আমার ক্লাস শেষ হয়ে যেতো তখন আমি চিন্তা করতাম এখন আমার কাজে যেতে হবে। এইজন্য প্রথম চার বছর বন্ধুদের সঙ্গে সময়টা খুব কম ছিল। আমার কাজ ছিল রাতে। আমি বই খাতা নিয়ে কাজে চলে যেতাম। সৌভাগ্যবশত কাজটা ছিল খুব সহজ।  বিভিন্ন ইভেন্টে কাজ করতাম। ইভেন্টে রাতের শিফটগুলো ইচ্ছে করে নিতাম। কারণ, রাতে তো ইভেন্টে মানুষ থাকে না তখন আমি ইচ্ছামতো পড়ালেখা করতাম। পরের দিন ক্লাস করে গিয়ে ঘুমাতাম। আমার লন্ডনের জীবনটা ছিল রাত কেন্দ্রিক। দিনের বেলা দেখা যেত আমি বিশ্রাম নিচ্ছি।

ব্যারিস্টার জাকের চৌধুরী ও নিলুফার চৌধুরীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন রাইজিংবিডির প্রতিবেদক


রাইজিংবিডি : ইংল্যান্ডে শিক্ষণীয় যে বিষয়গুলো …

জাকের চৌধুরী : আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন লন্ডনের সেই দিনগুলোতে সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা কি, তাহলে আমি বলবো, আসলে আমরা দেশে জন্মেছি সোনার চামচ মুখে নিয়ে। গাড়ি করে স্কুলে যেতাম, গাড়ি করে ফেরত আসতাম, কাপড় চোপড় ধুয়ে দিচ্ছেন একজন, বাজার করে দিচ্ছেন আরেকজন। কিন্তু লন্ডনে গিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটা শিখলাম সেটা হল নিজের সব কিছু নিজে করা। এই ট্রেনিংটা আমাদের খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। কারণ, এই প্রফেশনটায় কিন্তু আপনার নিজেরটা নিজেকেই করতে হবে। আরেকটা হল যে, একইসঙ্গে ৪/৫ জিনিস ম্যানেজ করা। যখন আমি দেশে ফেরত এসে প্র্যাকটিস শুরু করি তখন আমার কাছে মনে হল আমার জীবন কত সহজ।

রাইজিংবিডি : বাবাকে মূল্যায়ণ …

জাকের চৌধুরী: বাবাকে মূল্যায়ণ করার কোন যোগ্যতা আসলে আমার নেই। তারপরেও বিচারপতি বাবা সম্পর্কে আমি প্রথমত সিনিয়রদের কাছ থেকে শুনেছি যে উনি সৎ ছিলেন। এ ব্যপারে কারো দ্বিমত নেই।

দ্বিতীয়ত হলো, বাবা বিচারিক জীবনে কেবল মামলার গুনাগুণ বিচার করে রায় দিয়েছেন। তৃতীয়ত হলো, আমার বন্ধুরা বলেছে, বিচারপতি থাকাকালীন বাবা  নবীন আইনজীবীদের খুব  উৎসাহ প্রদান করতেন। 

রাইজিংবিডি : বাবার যে কথাগুলো প্রেরণা যোগায় ...

জাকের চৌধুরী : বাবার অনেক কথা আমাকে প্রেরণা যোগায়। উনি আমাকে বলেছেন, “Remember, the Bar is crowded but there is always room at the top”। উনি আরো বলেছেন, কখনও যদি দেখ একটা লোক শুধু টাকার অভাবে তোমার কাছে আসতে পারছে না। তুমি ওই ব্যক্তিকে কখনও ফিরিয়ে দেবে না। তুমি প্রয়োজনে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেবে না। 

রাইজিংবিডি : কোর্টে প্রথম দিনের শুনানির স্মৃতি …

জাকের চৌধুরী : হাইকোর্টে আমার এনরোলমেন্ট হয় ২০১৩ সালে। ওই বছরই ফিজিওথেরাপিস্টদের চাকরি সংক্রান্ত একটা রিট নিয়ে যাই বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর কোর্টে। প্রথম দিন নার্ভাস হওয়ার কথা। কিন্তু কেন যেন আমি নার্ভাস হইনি। আমার প্রস্তুতি ভাল ছিল। প্রথম মামলায় আইনজীবী হিসেবে আমার ত্রুটি নিশ্চয়ই ছিল। কিন্তু বিচারকরা খুব ভাল চোখে দেখেন। ভাল চোখে দেখে আমাকে রুল ও স্টে দেন। এটাই আমার  প্রথম মামলা। আমার মনে আছে সিনিয়ররাও আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর হাতে রাইজিংবিডির ঈদ সংখ্যা তুলে দিচ্ছেন প্রতিবেদক


রাইজিংবিডি : বাবা বিচারপতি হওয়ার কারণে সুবিধা পেয়েছেন কি …

জাকের চৌধুরী : এই প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে  ধন্যবাদ। অবশ্যই আমরা সুবিধা পাই। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। এটা চেয়ে পেতে হয় না। আমরা কোন কোর্টে গেলে যেহেতু উনারা আমাদেরকে আগে থেকেই চেনেন। আমি যদি আদালতকে ভুল বোঝাই আমার কোন নিস্তার  নেই। এই জন্য ওনারা হয়তো আমাদের সঙ্গে একটু নমনীয় আচরণ করেন।

রাইজিংবিডি: যে কারণে বিচারপতি হওয়ার ইচ্ছে নেই …

জাকের চৌধুরী : আমার এখন পর্যন্ত বিচারপতি হওয়ার ইচ্ছা জাগেনি। একেবারেই ইচ্ছাটা নেই। কারণ, আমি চাই না আমার ছেলেটা আমার মত এত কষ্ট করে পড়ালেখা করুক।

এই প্রসঙ্গে আমার মনে পড়ে যায় আরেকজন শ্রদ্ধেয় সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোস্তফা নিয়াজ মোহাম্মদ স্যারের একটি উক্তি “I am not ready to hear whatever nonsense one speaks for days together.”

রাইজিংবিডি : আইন পেশায় যাদের অনুসরণ করেন …

জাকের চৌধুরী : বাবা তো আছেনই। বাবা ছাড়া ড. কামাল হোসেন স্যারকে যদি আদর্শ হিসেবে না মানা হয় তো মহাপাপ হয়ে যাবে। আরেকজন আদর্শ আছেন, উনি  হলেন  অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় সদ্য প্রয়াত সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলাম। আমি চাই যেন ভবিষ্যতে উনাদের মত আইনজীবী হতে পারি। 
    

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও ছেলে ব্যারিস্টার জাকের চৌধুরী


রাইজিংবিডি : বাবার কাছ থেকে যা শিখছেন …

জাকের চৌধুরী : বাবা অবসরে যাওয়ার পর ওনার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হচ্ছে। এইজন্য আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করি। কারণ, অনেক কিছু শিখতে পারছি বাবার কাছ থেকে। যেগুলো আমার আগে শেখা হয়নি। যেমন দেওয়ানি আইনের বিষয়গুলো।  

একটা মজার ঘটনা বলি, আমি এ পেশায় আসার পর বাবা তখন সিভিল বেঞ্চের বিচারপতি ছিলেন। এইজন্য আমাকে তখন সিভিল বিষয়ে রাখা হতো না চেম্বার থেকে কারণ, এতে কনফ্লিক্ট হতো। এইজন্য ওই জায়গাটা আমার খালি রয়ে গিয়েছিল। আব্বু অবসরে যাওয়ার পর এই শূণ্যতা আমার আস্তে আস্তে পূরণ হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু উনার সঙ্গে আমি সিভিল বিষয়গুলো দেখছি।

রাইজিংবিডি : ভালবেসে যাকে বিয়ে …

জাকের চৌধুরী : নিলুফার মান্নান (নিতু) তখন ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে শিক্ষানবীশ ছিলেন। তখনও তিনি বার এট ল করেননি। আমি বার এট ল করে সদ্য ওই চেম্বারে ঢুকলাম। ওইখানেই পরিচয়। ২০১১ সালে নিতু বার এট ল শেষ করেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমাদের বিয়ে হয়।

আল্লাহ আমাদের একটি পুত্র সন্তান দিয়েছেন। নাম রেখেছি আরিয়ান জাবির চৌধুরী। ওর বয়স এখন ১৬ মাস। বাচ্চা যেহেতু ছোট এইজন্য আমার স্ত্রী আপাতত পেশায় সক্রিয় নেই।  

রাইজিংবিডি : স্বামী-স্ত্রী দুইজনই ব্যারিস্টার- এটা কেমন লাগে ?

নিলুফার মান্নান চৌধুরী : আমার কাছে এটা খুবই মজার। মজার এই কারণে যে, ও যেহেতু প্র্যাকটিসে আছে এইজন্য আমি প্র্যাকটিসে না থেকেও অনেক কিছু জানতে পারি। আব্বুর কাছ থেকে যেমন ওনাদের সময় বা একটা জাজমেন্ট দিতে গিয়ে উনি কি চিন্তা করছেন বা  আইনজীবীরা কি বলছেন আমি যেমন এই কথাগুলো ওনার কাছ থেকে শুনতে পারছি। একটা কেস কীভাবে প্রিপেয়ার করছেন কিংবা কীভাবে এটার হেয়ারিং করবেন। ওই জিনিসগুলো জানা আমার কাছে খুব মজার। দেখা যায় কোর্টে না গিয়েও আমি কোর্ট সম্পর্কে সব জানতে পারি।

রাইজিংবিডি : ভবিষ্যতে যা  করতে চান …

জাকের চৌধুরী-নিলুফার চৌধুরী : ভবিষ্যতে পরিবেশ নিয়ে কাজ করতে চাই। সেটা পরিবেশ বিষয়ে জনস্বার্থে মামলা হোক, মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হোক। যেভাবেই হোক,  আমাদের পরিবেশ নিয়ে কিছু করার ইচ্ছা আছে। কারণ,   দেশের জন্য তো অবশ্যই, পুরো মানবজাতির জন্য এখন সবচেয়ে বড় ঝুকি হচ্ছে পরিবেশ। সবচেয়ে বড় ভয় ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ সমুদ্র সীমার নিচে চলে যাবে। এ কারণে পরিবেশ নিয়ে কাজ করতে চাই। এছাড়া শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করার ইচ্ছাও আছে কারণ, তারা তো ভবিষ্যত। এক কথায় বলতে গেলে ভবিষ্যত নিয়েই আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা।  

রাইজিংবিডি : জীবনের স্মরণীয় কোন ঘটনা…

জাকের চৌধুরী: বাসায় তখন বড় বোন, ছোট বোন দু্জনই ছিলেন। একদিন আম্মু কি মনে করে বললেন, তোমাকে নিয়ে ঘুরে আসি। শুধু তোমাকে নেব আর কাউকে নেব না। আমি রেডি হলাম। আম্মুর সাথে গেলাম। তখন ধানমন্ডি মাঠে বৈশাখী মেলা হত। এই মেলায় পুতুল নাচ হতো। আমাকে নিয়ে আম্মু পুতুল নাচ দেখতে গেলেন। পুতুল নাচ দেখে ভাল লাগল। ওই যে মাকে আমি এককভাবে পেয়েছিলাম- এটা আমার কাছে স্মরণীয়। এখন তো আম্মার কোন পাত্তাই পাইনা। কারণ, আমার ছেলে হয়েছে, বোনের মেয়ে হয়েছে তারা সবাই মিলে দাদুকে নিয়ে মেতে থাকে।

রাইজিংবিডি : অবসর সময় যেভাবে কাটে ...

জাকের চৌধুরী – নিলুফার চৌধুরী : আমরা আসলে ঘরকুনো টাইপের মানুষ। অবসর সময়ে একসঙ্গে মিলে আড্ডা হয়। আর আম্মুর রান্না তো অসাধারণ। বন্ধের দিনে আম্মু স্পেশাল কিছু রান্না করেন। আমরা কোথাও বের হই না। কিছু করি না। শুধু বাসায় বসে একসঙ্গে গল্প, আড্ডা আর খাওয়া দাওয়া চলে।

ব্যারিস্টার জাকের চৌধুরী ও স্ত্রী ব্যারিস্টার নিলুফার চৌধুরী


রাইজিংবিডি : আইন পেশায় নবাগতদের জন্য পরামর্শ ...

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী : এই পেশায় শর্টকাট কোন পথ নেই। এটাতে শ্রম এবং মেধা নিয়োজিত রাখতে হয় বছরের পর বছর। আর এই পেশায় প্রতিনিয়ত পড়ালেখার কোন বিকল্প নেই। নবীন আইনজীবীদের প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় পড়াশুনায় ব্যয় করা উচিত। পাশাপাশি কোর্টে বসে বিচারকদেরকে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তাহলে তারা ভাল আইনজীবী হতে পারবেন।

আরেকটি পরামর্শ। কোর্টে টু দি পয়েন্টে সাবমিশন রাখতে হবে। যেটা ইস্যু সেটা উপরে সাবমিশন করলে বিচারক সন্তুষ্ট হন। ইস্যু ভিত্তিক সাবমিশন রাখতে হবে।

জাকের চৌধুরী : যারা নতুন আইন পেশায় আসেন  তাদের জন্য আমাদের দেশে কোন কাঠামো এখনও দাঁড়ায়নি। ইংল্যান্ডে নতুন আইনজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। প্রথম যখন কেউ আইন পেশায় আসেন তার কোন আয় থাকে না। ক্লায়েন্ট থাকে না, পরিচিতি থাকে না।  

প্রথম আইন পেশায় এলে দু’তিনটে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। প্রথমত, টাকা-পয়সার সমস্যা হয়। যারা নতুন তারা আইন পেশার পাশাপাশি যে কোন কিছু করতে পারেন। আর্থিক সমস্যা আসলে বেশিদিন থাকে না।

সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ পেশাগত দিক হল, আপনি সিনিয়রকে  সবসময় অনুসরণ করবেন। তাহলে আপনি শিখবেন। 

নিলুফার চৌধুরী : আমার মনে হয় নতুন যারা আসছেন তাদেরকে চিন্তা করে আসতে হবে তারা আসলেই এই প্রফেশনে থাকতে চান কিনা। এই প্রফেশন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। প্রথমদিকে অনেক কষ্ট করতে হয়।

আরেকটি কথা, আইন বিষয়ে পড়ালেখা আর প্র্যাকটিস সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই জন্য নতুনরা প্রথমেই এসে একটা ধাক্কা খান এই ভেবে যে, কি পড়ে আসলাম আর এখানে এসে কি হচ্ছে। এখানে আমার পরামর্শ হলো, যারা এ পেশায় নতুন আসছেন তারা যেন এই মানসিকতা নিয়ে আসেন যে, আমাদের নতুন করে শিখতে হবে।

রাইজিংবিডি : সময় দেয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

জাকের চৌধুরী-নিলুফার চৌধুরী : আপনাকে এবং রাইজিংবিডির সকল পাঠককে ধন্যবাদ।





রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭/মেহেদী/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop