ঢাকা, সোমবার, ৩ পৌষ ১৪২৫, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ঢাবির টিভি অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজে অনার্স চালু

: রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৪-০৩-৩১ ৩:৫২:১৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৪-০৩-৩১ ৭:৫৩:০৮ পিএম

আবু বকর ইয়ামিন
অনার্স কোর্স চালু হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগে। এ বছর থেকেই বিভাগটিতে শিক্ষার্থীরা চার বছর মেয়াদী অনার্স কোর্সে ভর্তি হতে পারছেন। দুই বছর আগে থেকে বিভাগটিতে শুধু মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। অন্য যেকোনো বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করে কেউ চাইলেই এখানে এসে মাস্টার্স করতে পারতেন। এবার এখানেই চালু হলো অনার্স কোর্স।

অনার্স কোর্স চালুর বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভাগটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউল আলম ভূঁইয়া মনে করছেন, এ বিভাগের শিক্ষার্থীরাই আন্তর্জাতিক মানের ফিল্ম তৈরি করবে। কারণ বিভাগটিতে ফিল্ম, ডকুমেন্টারিসহ নানা ধরনের প্রোডাকশনের প্রায়োগিক দিক বিশেষভাবে প্রাধান্য পাবে।  

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিগুলোর খুব খারাপ অবস্থা। মানসম্পন্ন ফিল্ম মেকারের বড় সঙ্কট। এই সঙ্কট নিরসনেই টেলিভিশন এন্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগ কাজ করছে। টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র দু’টিই শক্তিশালী গণমাধ্যম। এগুলো মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত এসব বিষয় মাথায় রেখে বিভাগটিতে অধ্যয়নের পরিধি বাড়ানো হলো।

অধ্যাপক আবু জাফর শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘ভারত মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র দিয়ে বিশ্বের বাজার দখল করতে পেরেছে। আমাদেরও মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র তৈরি করতে হবে। এজন্যই টেলিভিশন এন্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগ। এখানে শিক্ষার্থীরা ডুকোমেন্টারি তৈরি থেকে শুরু করে ফিল্ম তৈরি, টক শো প্রযোজনাসহ বিভিন্ন প্রোডাকশনের উপরই ব্যবহারিক ধারণা লাভ করে থাকেন। এর ফলে দেশে এসবের (ফিল্ম, টকশো) মানসম্পন্ন প্রেডকশন বাড়বে। বিদেশি চলচ্চিত্র বাদ দিয়ে একসময় দেশি চলচ্চিত্র দেখবে মানুষ।  

তিনি বলেন, মিডিয়া একটি ভালো ব্যবসা। যেমন কিছুদিন আগে সরকার সংবাদপত্র ও চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে প্রাইভেট চ্যানেলগুলো বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন এ বিভাগ যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এই শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে। এক্ষেত্রে সরকার ক্ষুদ্র ঋণের পাশাপাশি চলচ্চিত্র খাতেও সহযোগিতা করতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি।

অধ্যাপক আবু জাফর আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দিচ্ছি। এখানে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। আমি তো আশা করব এখানকার একজন শিক্ষার্থী টেলিভিশনে গিয়ে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে গিয়ে তার সর্বোচ্চ উৎকর্ষটা দেখাতে পারবে।’

টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান হুসাইন বললেন, ‘আগে থেকেই মিডিয়া জগতে যুক্ত হওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল আমার। আর ঢাবিতে সাংবাদিকতা অথবা ক্রিমিনোলজি (অপরাধবিজ্ঞান) পড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন জানতে পারলাম এখানে টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগ আছে, শর্ত অনুযায়ী আমি এই বিভাগে ভর্তি হতে পারব, তখন ভর্তি হয়ে গেলাম বিভাগটিতে। ভালোই লাগছে।’

বিভাগটির দেয়ালের একপাশে টাঙানো ছিল তারেক মাসুদ ও মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর ছবি। ওগুলো দেখিয়ে ইমরান বললেন, ‘এরাই আমার প্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা।’

মাস্টার্স দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারহানা শারমিন সূচি। তিনি বলেন, টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগে অধ্যয়ন করে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের জন্য দক্ষ করে তুলতে পারেন।

সূচি আরো বললেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমান যে ভাবধারার চলচ্চিত্র হয়ে থাকে তাতে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। আমি মনে করি, এসব দুর্বলতা কাটিয়ে আমরা আরো বেশি মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র বানাতে পারি। যা শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হবে।

টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চার বছর মেয়াদী অনার্সে মোট ৩২ কোর্স পড়ানো হবে। মোট নম্বর ৩২০০। কোর্সগুলো পড়ানো হবে ৮টি সেমিস্টারে। প্রতি সেমিস্টারে চারটি কোর্সের জন্য ৪০০ নম্বর।

প্রথম সেমিস্টারের কোর্সগুলো হচ্ছে : ইন্ট্রোডাকশন টু টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ, ফান্ডামেন্টাল অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম, বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ স্কিলস ফর অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়া এবং ইন্ট্রোডাকশন টু ফটোগ্রাফি।

দ্বিতীয় সেমিস্টার : ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য গ্রামার অব অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়া, টেলিভিশন নিউজ রিপোর্টিং অ্যান্ড অ্যাঙ্করিং, টেলিভিশন নিউজ এডিটিং এবং অ্যাকটিং ফর ফিল্মমেকারস।

তৃতীয় সেমিস্টার : সেট ডিজাইন অ্যান্ড লাইটিং ফর টেলিভিশন, সাউন্ড অ্যান্ড মিউজিক ফর টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম, ওয়ার্কিং উইথ ইমেজ এবং নেরেটিভ স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড স্ক্রিপ্ট রাইটিং।

চতুর্থ সেমিস্টার : টেলিভিশন প্রোডাকশন : নিউজ অ্যান্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, টেলিভিশন জার্নালিজম : পলিটিক্স, ক্রাইম অ্যান্ড কোর্ট, কোয়ানটেটিভ রিসার্চ মেথড ফর টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ এবং ইন্ট্রোডাকশন টু ডকুমেন্টারি।

পঞ্চম সেমিস্টার : টেলিভিশন প্রোডাকশন : প্রোগ্রামস, টেলিভিশন জার্নালিজম : বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স, গ্রাফিক্স আর্ট অ্যান্ড এনিমেশন এবং ফিল্ম অ্যান্ড ভিডিও এডিটিং।

ষষ্ট সেমিস্টার : টেলিভিশন জার্নালিজম : কালচার, স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট, অ্যাডভারটাইজিং অ্যান্ড সোশাল কমিউনিকেশন, ব্রডকাস্টিং স্টেশন অ্যান্ড ফিল্ম প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট এবং কোয়ালিটেটিভ রিসার্চ মেথড ফর টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ।

সপ্তম সেমিস্টার : মিডিয়া লজ অ্যান্ড এথিক্স, গ্লোবাল মিডিয়া : ইস্যু অ্যান্ড প্রোবলেমস, ডিজিটাল কালচার এবং টেলিভিশন জার্নালিজম : হেলথ, এনভাইরনমেন্ট অ্যান্ড ডিজাস্টার।

অষ্টম সেমিস্টার : থিওরিটিক্যাল অ্যাপ্রোচেস টু মিডিয়া স্টাডিজ, টেলিভিশন জার্নালিজম : এগ্রিকালচার, এনজিও অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ওয়ার্ল্ড সিনেমা এবং রিসার্চ মনোগ্রাফ অথবা গ্র্যাজুয়েট প্রোডাকশন।

দুই বছর মেয়াদী মাস্টার্স চার সেমিস্টারে ১৬টি কোর্স। মোট নম্বর ১৬০০। প্রতিটি সেমিস্টারে চারটি কোর্স। নম্বর ৪০০।

প্রথম সেমিস্টারের কোর্স সমুহ : ফান্ডামেন্টাল অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম, ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য গ্রামার অব অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়া, থিওরিটিক্যাল অ্যাপ্রোচেস টু মিডিয়া স্টাডিজ অথবা টেকনোলজি, সোসাইটি অ্যান্ড কালচার এবং আন্ডারস্ট্যান্ডিং পলিটিক্স, ইকোনমিক্স অ্যান্ড কালচার অব বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় সেমিস্টারে দু’টি পার্ট। টেলিভিশন ও ফিল্ম। কোর্সগুলো হলো : আন্ডারস্ট্যান্ডিং টেলিভিশন, আন্ডারস্ট্যান্ডিং ফিল্ম, টেলিভিশন রিপোর্টিং, ফিল্ম প্রোডাকশন : স্ক্রিপ্টরাইটিং অ্যান্ড ডিরেক্টিং, টেলিভিশন নিউজ এডিটিং, ওয়ার্কিং উইথ লাইট, সাউন্ড অ্যান্ড ইমেজ, টেলিভিশন প্রোডাকশন : নিউজ, টক শো অ্যান্ড ডকুমেন্টারিজ এবং ভিডিও এডিটিং।

তৃতীয় সেমিস্টারের কোর্স সমুহ : মেথড অব রিসার্চ ইন টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম, স্টাটিসটিক্যাল মেথড ফর সোসাল সায়েন্স রিসার্চ, ব্রডকাস্ট অ্যান্ড ফিল্ম পলিসি, ডাইরেক্টেড রিডিং অ্যান্ড রিসার্চ/প্রোডাকশন প্রোপোজাল প্রেজেন্টেশন।

চতুর্থ সেমিস্টারের কোর্স সমুহ : ফিল্ম থিওরি অ্যান্ড ক্রিটিসিজম অথবা পলিটিক্যাল ইকোনমি অব কালচারাল প্রোডাকশন এবং থিসিস অথবা গ্র্যাজুয়েট ফিল্ম অথবা টিভি ডকুমেন্টারি।

রাইজিংবিডি/ইয়ামিন/কে. শাহীন/৩১ মার্চ ২০১৪


Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC