Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৮ ||  ১৬ সফর ১৪৪৩

বাউহাউস শিল্পগতিধারা: শতবর্ষ পরে 

শরীফ আতিক-উজ-জামান  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫২, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১  
বাউহাউস শিল্পগতিধারা: শতবর্ষ পরে 

১৯১৯ সালে জার্মানিতে ওয়াল্টার গ্রোপিয়াসের নেতৃত্বে সূচিত বাউহাউস শিল্পগতিধারার মূল উদ্দেশ্য ছিল চারুকলা, স্থাপত্যকলা ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে শিল্পকলা, শিল্পকারখানা এমনকি আসবাবপত্রের নির্মাণশৈলীর মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা। তিনি সমস্ত শিল্পকলা, স্থাপত্যকলা ও জ্যামিতিক নকশার মধ্যে সামঞ্জস্য নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন।

Bauhaus জার্মান শব্দ hausbauu-এর বিপরীতায়ন, যার অর্থ হলো building house. আবার কারো কারো মতে শব্দটি এসেছে Bauhutte থেকে যার অর্থ গোথিক গীর্জা নির্মাতাদের আস্তানা। উৎস যা-ই হোক, উপাদান ব্যবহারে নিখুঁত ও বিশ্বস্ত থাকাটাই এই শিল্পগতিধারার মূল সুর। উপাদানসমূহ সঠিক গড়ন ও অপরিবর্তিত বৈশিষ্ট্যসহ ব্যবহৃত হোক এমনই ছিল তাদের প্রত্যাশা। যেমন, কোনো আসবাব নির্মাণে ব্যবহৃত ধাতুর দৃশ্যমান থাকাটা তাদেরই ভাবনাজাত এবং টেবিল, চেয়ার, সোফা ইত্যাদিতে ধাতুর কাঠামো ব্যবহারকে তারাই উৎসাহ যুগিয়েছিলেন। তাদের ভাবনার এই নতুনত্ব শিল্পী, নকশাবিদ ও স্থপতিদের মনযোগ কেড়েছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সূচিত এই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে নাজিদের চাপে সাময়িক স্থগিত হয়েছিল। বাউহাউস শিল্পকলা, বাণিজ্যিক শিল্প ও প্রযুক্তিকে প্রভাবিত করলেও আধুনিক আসবাবের নকশা নির্মাণ শৈলীর ওপর এর অধিক প্রভাব ছিল। আমেরিকান স্থপতি লুই সুলিভানের form follows function কথাটাকে বাউহাউস শিল্পগতিধারার প্রবক্তারা তাদের প্রধান ও মৌলিক আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তারা মনে করতেন, কোনো গড়নের নান্দনিক আবেদনের চেয়ে তার কার্যকারিতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উপযোগিতা অলঙ্করণের চেয়ে অধিক কাম্য, তাই অলঙ্করণ  পরিত্যাজ্য।

বাধ্যতামূলক সেবাদানের অংশ হিসেবে গ্রোপিয়াস যখন সেনাবাহিনিতে ছিলেন তখন তাকে ওয়েইমারের ‘আকাদেমি অব ফাইন আর্টস’ এবং ‘আর্টস এন্ড ক্রাফটস স্কুল’-এর মাঝে সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পরিকল্পনা ও অর্থ খরচের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ায় তিনি তার সাথে কাজ করার জন্য প্রথমে ৭ জন চিত্রশিল্পীকে আমন্ত্রণ জানালেন যাদের মধ্যে পল ক্লী, ক্যান্ডিনেস্কি ও মোহোলি নাগি সাড়া দিলেন। সবাই মিলে কাঠের আসবাব, ধাতু, সিরামিক, দেয়াল চিত্রের রং ও নকশা নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করলেন এবং প্রতিটি মাধ্যমের নৈপুণ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে এর মধ্যে সামঞ্জস্য নির্মাণ করতে উদ্যোগী হলেন। চেয়ার, নানা ধরনের পাত্র, ল্যাম্প ইত্যাদিসহ পণ্যের আকর্ষণীয় নির্মাণচিন্তার সূচনা বাউহাউসদের মাধ্যমেই হয়েছিল।

এক শিল্পের গড়নকে অন্য শিল্পমাধ্যমে ব্যবহারের ধারণাটিও তাদের। তাই তারা ছবি আঁকতে নয়, বরং গড়ন শেখানোতে আগ্রহী ছিলেন। শিল্পকলা শিক্ষার ক্ষেত্রে জগৎবিখ্যাত চিত্রীদের শিল্পকর্ম বিশ্লেষণের গুরুত্ব সম্পর্কে বাউহাউসদের মাঝেই মতদ্বৈধতা ছিল। সকলে এটাকে জরুরি মনে করেন নি। শুরুতে এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সুইস চিত্রশিল্পী জোহানেস ইটেন যে কোনো গড়নের রেখাসমূহ, বাঁক, ভঙ্গি, গতি, বুনট ইত্যাদিকে গুরুত্ব দিতেন। শৈল্পিক সংবেদনশীলতাকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি একটি শিল্পকর্মে প্রকাশিত ভাবকে কীভাবে অনুধাবন করতে হয় তা শেখাতেন যা বাউহাউসরা খুব পছন্দ করেন নি। ফলে সবার আগে ইটেন এই গোষ্ঠী ত্যাগ করেন। 

বাউহাউসদের কাছে বস্তুর প্রকৃত বৈশিষ্ট্য দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। নান্দনিকতার অজুহাতে তারা বস্তুর প্রকৃত আদল বা চেহারাকে লুকাতে অস্বীকৃতি জানান। কোনো নির্মাণকাজে ধাতুর ব্যবহারকে দৃশ্যমান করার পক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছিলেন কারণ তা ওই নির্মাণকাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উপযোগিতা ও উপাদানের যথার্থ প্রকাশ ঘটাতে তারা ক্ষুদ্রশৈলীর নির্মাণ তুলে ধরতে চেয়েছেন। রৈখিক ও জ্যামিতিক গড়নকে তারা প্রাধান্য দিয়েছেন। কাঠ, কাগজ ও ধাতুর সমন্বয়ে, স্বল্প যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও অপব্যবহার রোধ করে তারা কাজ করতে চেয়েছেন। ধাতুকে যন্ত্র ছাড়া কিন্তু কাঠকে যন্ত্র ব্যবহার করে বাঁকিয়ে, আবার ধাতুকে কেটে কিন্তু কাগজকে ছিঁড়ে তারা ব্যবহার করেছেন। শিল্প ও প্রযুক্তির মাঝে সমন্বয় তাদের কাঙ্ক্ষিত  লক্ষ্য ছিল। বাউহাউস শিল্পাদর্শ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শিল্প নির্মাণে প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। সেই অর্থে ‘বাউহাউস’ শিল্পকলায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচনাকারী শিল্পগতিধারার নাম।

অনেকে আজ মনে করেন যে এই শিল্প প্রকৃত অর্থে সামাজিক নয় আধ্যাত্মিক মনোজগতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল। কারণ বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মানুষের মাঝে যে আধ্যাত্মিক খরা দেখা দিয়েছিল এর দ্বারা তা ফিরিয়ে আনার একটা প্রচেষ্টা ছিল। কিন্তু এই মতাদর্শের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন গোচরীভূত হয় না, বরং বস্তু ও দৃশ্যগ্রাহ্য জগতের পরিবর্তনের বিষয়টিই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছে। যারা একে চূড়ান্তভাবে বিপণনযোগ্য পণ্যের কাতারে ফেলেছেন তারাও সবাই মেনে নিতে পারেন নি। তবে বিতর্ক যা-ই থাক না কেন, আজ শতবর্ষ পরে অজান্তেই শিল্পরসিকরা এর মাধ্যমে লাভকৃত পরিবর্তিত শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য উপভোগ করেন।

১৯২২ থেকে ১৯২৪ সাল বাউহাউসদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। ১৯২৩ সালের প্রদর্শনীর সিদ্ধান্ত তারা একবছর আগেই নিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সকলে মনে করেছিলেন যে প্রদর্শনীর এই সিদ্ধান্ত খানিকটা অপরিণত ভাবনার ফসল। মানুষের দাবির কারণে প্রদর্শনীর দ্রুত সিদ্ধান্ত দর্শকের মনে বিরূপ ধারণা তৈরি করতে পারে। কিন্তু গ্রোপিয়াস মনে করেছিলেন যে দর্শকদের কিছু একটা দেখাতে না পারলে এই শিল্প মতবাদের মৃত্যু ঘটবে। আজকে সবাই উপলব্ধি করে যে সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং তা আধুনিক শিল্পকলার ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হয়েছিল।

শিল্পে ঠিক কখন আধুনিকতার সূচনা হয়েছিল তা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও যে প্রতিষ্ঠান বা ঘরানা তাকে অবয়ব দান করেছিল তা নিয়ে তেমন বিতর্ক নেই। সকলেই মোটামুটি একমত যে বাউহাউসদের বৈপ্লবিক ভাবনা শিল্পকে প্রয়োজনীয় বাঁক বদলে সহায়তা করেছিল। এই সময়েই বৈচিত্র্যমণ্ডিত শিল্পভাবনার আবির্ভাব হয়। সবার মতে বাউহাউস একটি দর্শন, জীবনযাপন পদ্ধতি, প্রচলিত ও পশ্চাৎবর্তী শিল্পঘরানার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শিল্প ও জীবনের মধ্যে ঐক্য নির্মাণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিল। এর মাধ্যমে শিল্পের সাথে জীবনের সম্পর্ক এবং এই বিষয়ক কিছু প্রাচীন ধারণার পুনঃনির্মাণ সম্ভব হয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিছু আগে এই শিল্পগতিধারা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল কিন্তু একেবারে মরে যায় নি। শিল্প ও কারিগরি-দক্ষতার মধ্যকার সম্পর্ক পুনঃসংজ্ঞায়িত হয়েছিল। বাউহাউসদের আগমন ঘটেছিল এমন এক অনিশ্চয়তার মাঝে যখন বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবনা চরম বিভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত হয়েছিল। শিল্পায়ন এবং নাস্তিবাদী ও দাদাবাদীদের প্রতিশিল্প-ভাবনা সেই বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে রসদ যুগিয়েছিল। ধীরে ধীরে শিল্প সম্পূর্ণরূপে জনবিচ্ছিন্ন একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছিল এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে শিল্পের সম্পর্ক হারিয়ে যাচ্ছিল যা শিল্পের প্রতি যতটা না, তারচেয়ে বেশি জীবনের প্রতি হুমকি হয়ে উঠেছিল। ওয়াল্টার গ্রোপিয়াস তখন মনে করেছিলেন যে শিল্পের সকল মাধ্যম ও স্থাপত্যকলার সম্মিলনে এমন একটি ক্ষেত্র নির্মাণ করা সম্ভব যার মাধ্যমে শিল্পের সাথে জীবনের সম্পৃক্ততা বাড়ার সাথে সাথে উভয়েই উপকৃত হবে।

শুরুতে এই ভাবনাকে সবাই প্রশংসা ও স্বাগত জানালেও ১৯২৫ সালের দিকে প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে। বাউহাউসরা অ-জার্মান বৈশিষ্ট্য নিয়ে চর্চা চালাচ্ছে যা আধুনিক শিল্পের মান নিচে নামিয়ে দিচ্ছে- এমন প্রচারণা চালিয়ে নাজি পার্টি বাউহাউসদের প্রতিষ্ঠিত স্কুল বন্ধ করে দেয়। স্থান বদল করেও তারা তাদের প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু রাখতে পারেন নি। শিল্প ও কারিগরি দক্ষতার মাঝে সমন্বয়ের একটা প্রচেষ্টা গ্রোপিয়াসের আগেও হয়েছিল যা Arts and Crafts movements নামে পরিচিতি পেয়েছিল। উইলিয়াম মরিস এর প্রবক্তা ছিলেন। মরিস ও গ্রোপিয়াসের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য ছিল, কারণ প্রথমজন শিল্পায়নের সাথে শিল্পকলাকে মেশাতে চান নি। বাউহাউসরা গড়ন ও ব্যবহারিক বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্য নির্মাণ করতে চেয়েছেন। অধিক অলঙ্করণপ্রথা তারা ভেঙে ফেলতে চেয়েছেন। স্থাপত্যকলাকে এই শিল্পগতিধারার সঙ্গে সম্পৃক্তের চিন্তাটা শুরুতেই আসেনি। তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলের ৩ জন পরিচালকের সবাই ছিলেন স্থপতি। উদ্দেশ্যমূলকভাবেই তারা কাজটি করেছিলেন।

বাউহাউসরাই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নকশার সাথে শিল্পের কার্যকরি মিশ্রণ ঘটাতে পেরেছিলেন। সেইসময় তাদের কৃত নকশাই আজকের দিনে ‘ভালো নকশা’র দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাউহাউসদের অনেকে আমেরিকায় অভিবাসী হন যাদের অনেকে প্রভাবশালী স্থপতি হয়ে ওঠেন। আর বাউহাউস শিল্পগতিধারার সাথে যে শিল্পীরা সম্পৃক্ত ছিলেন তারা রীতিমতো বিশ্বখ্যাতি পেয়েছিলেন। এদের মধ্যে পল ক্লী, ওয়েসলি ক্যান্ডিনেস্কি, জোসেফ আলবারস প্রমুখ অন্যতম।

এই শিল্প আন্দোলনের মধ্যে এক ধরনের রাজনীতি ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পরাজিত জার্মানি পশ্চিম ইউরোপের রাষ্ট্রীয় ও শাসন কাঠামোসহ অনেক বৈশিষ্ট্য গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিল। বাদ ছিল না শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যও। যুদ্ধের পরে একটা ধারণা বেশ চাউর হয়েছিল যে যুদ্ধ প্রাচীন ধারণার সবকিছু ঝেড়ে ফেলেছে। সেই ধারণার মাঝেই বেড়ে উঠেছিল বাউহাউস শিল্পচেতনা। ওয়াল্টার গ্রোপিয়াসের নেতৃত্বে ভিন্নমতের যে অজস্র শিল্পী, নকশাবিদ ও স্থপতি একত্রে একটি শৈল্পিক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় একত্রিত হয়েছিলেন, তাদের ধারণা ছিল শিল্প ও স্থাপত্যকলা একসাথে মিলে সামগ্রিকভাবে সমাজের খোলনলচে পাল্টে দেবে। তাদের শিল্পচেতনার মধ্যে মানুষ ও শিল্পের মাঝে ঐক্য নির্মাণের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। বিশেষ কিছু মানুষের মাঝে বা সীমিত গণ্ডির ভেতর শিল্পকে আবদ্ধ রাখার প্রচলিত ধারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে তারা চেয়েছিলেন অজস্র মানুষের মাঝে তাকে ছড়িয়ে দিতে। আর তাই প্রচলিত শিক্ষায়তনিক শিল্পবৈশিষ্ট্যকে অগ্রাহ্য করে নতুন কিছু করতে চেয়েছিলেন। এর সাথে অনেক প্রকাশবাদী শিল্পী জড়িত ছিলেন যারা তাদের কাজে আত্মগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে এসেছেন এবং ছবির গূঢ়ার্থ অপেক্ষা আবেগকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু ১৯৩৩ সালে এই ঘরানার শিল্পচর্চা নাজি জার্মানিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বন্দ হয়ে যায়। এর মাঝে তারা বামপন্থার গন্ধ খুঁজে পেয়েছিল। কিন্তু আজ ১০০ বছর পরে বাউহাউস আন্দোলনের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায় গ্রিস ও স্পেনের বাম রাজনৈতিক দল যথাক্রমে স্রাইজা ও পোদেমোজ এবং চিন ও ব্রাজিলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে যারা বৈশ্বিক বাণিজ্যে নিজেদের বৈশিষ্ট্য আরোপ করে চলেছে।

তবে এসব ছাপিয়ে বাউহাউস একটি শিল্পগতিধারাই। পরবর্তী সময়ে অনেক শিল্পী মন্তব্য করেছেন যে নিখুঁত ও সুদৃঢ় গড়ন যে ক্ষেত্র প্রস্তুত করে তার থেকেই সমস্ত কল্পনা জেগে ওঠে। আর গড়নের যুৎসই কোনো আকার না পেয়ে জ্যামিতিকেই সবাই গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। যে কোনো সৃষ্টির মাঝেই জ্যামিতিক গড়ন খুঁজে পাওয়া যায়, আর শিল্পীরাও তার ওপরই নির্ভর করেছেন। সেই গড়নের সঙ্গে রঙের সম্পর্ক খুঁজেছেন। যদিও সেই সম্পর্কের প্রতীকী অর্থ অনুসন্ধান করা সবসময় জরুরি নয়, কারণ আমাদের অবচেতনে এর একটি প্রতিক্রিয়া সবসময়ই থাকে। প্রয়োজন পড়ে শুধু চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার। জোসেফ আলবারস তাই বলেন, ‘শিল্প কোনো বস্তু নয়, একটি অভিজ্ঞতা’।

শিল্প ‘বস্তু’ না হলেও তার নির্মাণে বস্তুর প্রয়োজন রয়েছে, আর শিল্পীর দক্ষতা ও নান্দনিকবোধের মাধ্যমে যা সৃষ্টি হয় তার বাণিজ্যিক মূল্য যেমন রয়েছে তেমনি নান্দনিক-দার্শনিক এমনকি রাজনৈতিক মূল্যও থাকে। দর্শকরা সবগুলোকে একসাথে ধারণ না করলেও কোনো একটি নিশ্চয় ধারণ করেন। সময় বদলে গেলে পুরাতন শিল্পধারা যেমন বদলে যায়, তেমনি মানুষের রুচি ও বোধেও পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তন জরুরি, কারণ সেটাই গতিশীলতা। শিল্পকলা স্থানু নয়, তাই নানা সময়ে তার বাঁকবদল শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে। বাউহাউস শিল্পগতিধারাও তার ব্যতিক্রম নয়।  

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়