১০ বছরেও শেষ হয়নি বাস টার্মিনালের নির্মাণ কাজ
জাকির হোসেন || রাইজিংবিডি.কম
মেহেরপুর সংবাদদাতা: ১০ বছরেও শেষ হয়নি মেহেরপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নির্মাণ কাজ। দীর্ঘসূত্রিতা, অর্থাভাব ও নতুন সমস্যা তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নির্মাণ কাজ থমকে আছে।
পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন, ৪০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে ৭ বছর আগে। বরাদ্দ না থাকায় বাকি ৬০ ভাগ কাজ আর এগুচ্ছে না।
পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন রাইজিংবিডিকে জানান, অচিরেই ১৮ কোটি টাকার নতুন টেন্ডার হবে। কাজ শেষ হলে টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শহরের শেষ প্রান্তে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের ডানদিকে টার্মিনালটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। নির্মিত টিকেট কাউন্টারগুলো বন্ধ। সেগুলোর কাঠের দরজা জানালা খুলে নিয়ে গেছে। চালুর আগেই ভবনের দেওয়ালগুলোর পলেস্তারগুলো খসে পড়ছে। কাউন্টার ভবনের ছাদের অংশের কোথাও কোথাও পানি চুয়ে পড়ে। ঘরগুলো বিভিন্ন পরিবহনের নামে বরাদ্দ আছে। কিন্তু অব্যবহৃত। ভবনের উপরের কক্ষগুলোতে গাড়ির অচল যন্ত্রাংশ মজুদ আছে। সীমানা প্রাচীর থাকলেও উন্মুক্ত এই চত্বরে সন্ধ্যা নামলে বসে মাদকের নিরাপদ আড্ডা। পরিত্যাক্ত এই স্থানে খুনের ঘটনাও ঘটেছে। শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে হওয়ায় লোক চলাচলও এখানে কম।
টার্মিনাল সংলগ্ন দোকানদার গোলাম কাউসার রাইজিংবিডিকে জানান, মূলত নষ্ট ও হল্টে থাকা গাড়িগুলো এখানে রাখা হয়। এমন ৩০-৪০টা বাস ট্রাক সব সময়ই থাকে। ওই সমস্ত গাড়ি মেরামত ও ধোয়ামোছার কাজ হয় এখানে। তখন যে শ্রমিকরা কাজ করেন তাদের কাছে চা বিস্কুট বিক্রির জন্য ৫ বছর ধরে এ দোকানটি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
মেহেরপুর পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আট একর ৪৫ শতক জমির উপর এই বাস টার্মিনালের অবকাঠামো। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৯ সালের ৬ জুন। এরও দুই বছর আগে ৪৮ লাখ টাকায় শেষ হয় জমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের কাজ। তখন সরকার, বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থায়নে “নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প” (ইউজিআইআইপি) এই প্রকল্পের ব্যয় ধরেছিল সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। কিন্তু এক কোটি ২৪ লাখ টাকায় টার্মিনালের টিকিট কাউন্টার ভবন নির্মাণের পরই ০৯ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পুরো কাজ শেষের আগেই দাতারা প্রথম ধাপের কাজ গুটিয়ে নেওয়ায় প্রকল্পের ধারাবহিকতা থমকে যায়। সময়ের ধারাবহিকতায় নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পেলে পূর্বের টেন্ডার মূল্যে ঠিকাদার কাজ করতে আর চায়না। ওই সময় প্রকল্পটি দ্বিতীয় ধাপে অর্ন্তভুক্ত করে ৫ কোটি টাকার নতুন বরাদ্দ চাওয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিক জটিলতার কারণে কাজটি দ্বিতীয় ধাপে অর্ন্তভুক্ত হয় না। পরে, তৃতীয় পর্বে অর্ন্তভুক্তর প্রস্তাবপত্র পাঠানো হলে, তা অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন করে এ প্রকল্পে ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মেহেরপুর জেলা বাসশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাতিয়ার রহমান রাইজিংবিডিকে জানান, বর্তমানে বাস, ট্রাক, অটোবাইক বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন বাস টার্মিনালটি চালু হলে সবাই স্বস্তি ফিরে পাবে।
মেহেরপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল রাইজিংবিডিকে জানান, নতুন বাস টার্মিনালটি চালু করা খুবই জরুরি। এতে শহরের পরিধি বাড়বে। রিক্সা ও অটোবাইকের কর্মপরিধি ও আয় বৃদ্ধি পাবে।
মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন রাইজিংবিডিকে জানান, আধুনিক এই টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য আধুনিক সকল ব্যবস্থা যেমন, ফোয়ারা, শেড, প্রশস্ত কনক্রিটের পথসহ শত শত বাস রাখার সুব্যবস্থা থাকবে। এজন্য সরকার আরও ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আগষ্টে এ কাজের টেন্ডার হবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে নতুন এই কাজ শেষ হলে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড বন্ধ করে এই কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হবে।
রাইজিংবিডি/মেহেরপুর/২৯ জুলাই ২০১৯/জাকির হোসেন/লাকী
রাইজিংবিডি.কম