আজ ভোটের মাঠে নামছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
ফাইল ফটো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে মাঠে নামছে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) এবং কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনীর মোট প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ সদস্য ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবেন। পুলিশের প্রায় দেড় লাখ, সশস্ত্র বাহিনীর এক লাখ এবং বিজিবির প্রায় ৩৫ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিপত্রে আরো বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানা ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় এলাকায় মোতায়েন থাকবে কোস্টগার্ড। সব বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট করবে এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
সূত্র জানায়, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬–১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭–১৮ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রে ১৬–১৮ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এসব সদস্য ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে রয়েছে। রবিবার থেকে আরো সদস্য যুক্ত হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের আগে ও পরে মোট সাতদিন তারা দায়িত্ব পালন করবে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য সহায়ক।”
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “সব ব্যালট বাক্স ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করছেন। বর্তমানে সবাই ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।”
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো আছে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা/এমএসবি/মাসুদ