ঢাকা     রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৩ ১৪৩২ || ১৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অপকর্ম’ তদন্তের দা‌বি জাপার

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ৫ এপ্রিল ২০২৬  
অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অপকর্ম’ তদন্তের দা‌বি জাপার

জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রধান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই। জনস্বার্থ বাদ দি‌য়ে এটা নি‌য়ে সংস‌দে কথা হ‌চ্ছে।” 

র‌বিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের ইমানুয়েলস পার্টি সেন্টারে জাতীয় পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের যৌথ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠা‌নে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 

আরো পড়ুন:

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অপকর্মের’ বিষয়ে তদন্ত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাপার নেতারা। 

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “সংসদে মানুষের দৈনন্দিন কষ্ট নিয়ে কথা হচ্ছে না। কথা হচ্ছে জুলাই, গণভোট ইত্যাদি নিয়ে। আমরা আগেই বলেছি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই, গণভোটের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। মৌলিক বিষয় পরিবর্তনের জন্য গণভোট হয়। এই পার্লামেন্টের মাধ্যমে যা রিফর্ম করতে চান, তা করা যাবে।” 

জাপার একাংশের চেয়ারম‌্যান বলেন, “আজকে এসব ইস্যু নিয়ে সংসদে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। তেলের দাম নিয়ে কথা বলা উচিত। আমরা বর্তমান সরকারকে সময় দিতে চাই। তার সাথে যোগ হয়েছে বিশ্বের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। আমরা এই সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে চাই।”

লাঙল প্রতীকের বিষয়ে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “কিছুদিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে লড়ব। আশা করি, এই প্রতীক আমরা পাব। ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে এই প্রতীক আমরা পাব, ইনশাআল্লাহ।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের মুখপাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, জনতা পার্টি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও এনডিএফের প্রধান সমন্বয়কারী গোলাম সরোয়ার মিলন, মুসলিম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, জাতীয় ইসলামিক জোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান টেপা ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলন, জাহাঙ্গীর আহমেদ, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজু, জাতীয় পার্টির বরিশাল মহানগরের সদস্য সচিব এ কে এম মোস্তফা, বরগুনা জেলার আহ্বায়ক মাঈনুল হাসান রাসেল, পটুয়াখালী জেলার সহ-সভাপতি মিরাজুল হক মিন্টু।

তা‌রেক রহমা‌নের প্রশংসা ক‌রে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “ক্ষমতায় গেলে অনেকেই অতীত ভুলে যায়। কিন্তু, ব্যতিক্রম দেখলাম আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। সরকারপ্রধান হয়েও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করছেন। কোনো দম্ভ-অহংকার তার মাঝে দেখা যাচ্ছে না। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে। কিন্তু, তার চলাফেরা অত্যন্ত সাধারণ মানুষের মতো। রাস্তায় দাঁড়িয়েও তার সাথে সাধারণ মানুষ কথা বলতে পারছেন।” 

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন, “সকাল ৮টার মধ্যে অফিসে চলে যাচ্ছেন, কাজ করছেন রাত পর্যন্ত। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। সরকারের দেড় মাসের প্রায় সকল কাজই অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে হয়েছে।” 

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিপরিষদকে অভিনন্দন জানি‌য়ে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি চিরতরে অবসানের মধ্যে দিয়ে দেশের মানুষ সত্যিকার অর্থেই একটি প্রতিহিংসামুক্ত নতুন বাংলাদেশ পাবে।” 

তিনি বলেন, “আমরা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করব। তবে, এমন কোনো সমালোচনা করা রাজনৈতিক দল গুলোর উচিত হবে না, যে সমালোচনার কারণে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হলে দেশে কী পরিস্থিতি হয়, সেটি ইউনূস সরকার দেখিয়ে দিয়ে গেছে।” 

বিগত ১৮ মাসে ইউনূস সরকার যে অপকর্মগুলো করেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপকর্মের জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান রুহুল আমিন হাওলাদার। 

“কেন হামের টিকা শিশুদের দেওয়া হলো না বিগত ১৭ মাসে। হামের টিকা না দেওয়ার কারণে অর্ধশতাধিক শিশুকে জীবন দিতে হলো। এই শিশুমৃত্যুর দায় কোনোভাবেই ড. ইউনূস সরকার এড়াতে পারে না”, ব‌লেন রুহুল আমিন হাওলাদা‌র।

‘ইরানে যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। আমাদের দেশেও হয়ত জ্বালানি সংকট হতে পারে। সরকার চেষ্টা করছে জ্বালানি সংকট  নিরসন  করার জন্য। কিন্তু, নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। এ সময় জ্বালানি ব্যবহারে আরো সাশ্রয়ী হওয়া দরকার,” ব‌লেন জাপার মহাস‌চিব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা, মাসরুর মাওলা, নাজমা আকতার, জসিম উদ্দিন ভুইয়া, মো. আরিফুর রহমান খান, সরদার শাহজাহান, ফখরুল আহসান শাহজাদা, মো. বেলাল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, নূরুল ইসলাম ওমর, নাজনিন সুলতানা, আমানত হোসেন আমানত, শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ সালাউদ্দিন সালু, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান দেওয়ান, অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল এম আর করিম, বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আলমগীর হোসেন, আনোয়ার হোসেন তোতা, আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, ডা. সেলিমা খান, মিজানুর রহমান দুলাল, হাজী নাসির উদ্দিন সরকার, সেকান্দর আলী সেরনিয়াবাত, এম এ ইউসুফ, যুগ্ম মহাসচিব এস এম হাসেমসহ জাতীয় পার্টি ও এনডিএফের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। 

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়