ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৯ ১৪২৭ ||  ০৬ সফর ১৪৪২

পদ্মফুলের বিল

বাদল সাহা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২২, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৪:৩৩, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
পদ্মফুলের বিল

জলজ ফুলের রাণী বলা হয় পদ্মকে। জলাশয়ে ফুটে থাকা পদ্মফুল প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোলাগা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই পদ্মফুল দেখতে গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার বলাকইড় বিলে ছুটে আসে সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ। 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের বলাকইড় বিলে গিয়ে দেখা গেছে, ভোরে বিস্তীর্ণ বিলে ফুটে রয়েছে পদ্মফুল। যেদিকে দৃষ্টি যায়, শুধু গোলাপি আর সাদা পদ্মফুলের সমাহার। 

বলাকইড় বিলের পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে জেলাশহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরের বলাকইড় গ্রামে। ১৯৮৮ সাল থেকে বর্ষাকালে এই বিলে জন্মাচ্ছে পদ্মফুল। প্রথমে অল্প হলেও পরে তা বিস্তৃত হতে থাকে। এখন বলাকইড় বিল পদ্মবিল নামে পরিচিতি পেয়ে গেছে। 

ভ্রমণপিপাসুরা কাকডাকা ভোরে ছেলে-মেয়ে, পরিবার-পরিজন বিলে হাজির হন বিলে। বিলের মধ্যে নৌকায় ঘুরে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দেন। তখন এই অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করতে ভুল করেন না তারা। স্থানীয়রাও তাদের সব সহযোগিতা করেন।

বর্ষা মৌসুমে এই বিলে ৮/১০ হাত গভীর পা‌নি‌ থাকে। স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষেরা দর্শনার্থীদের নৌকায় ঘুরিয়ে দেখান। এতে তারা প্রতিদিন ৮০০-৯০০ টাকা আয় করেন। এভাবে এখানে দুই শতাধিক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে।

ঘুরতে আসা গোপালগঞ্জ জেলা শহরের নিউটন মোল্যা, সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্দি ছিলেন। কিছুটা প্রশান্তির জন্য বেড়াতে এসেছেন। বিস্তীর্ণ বিলে পদ্মফূল দেখে ভালো লাগছে। তবে এ বছর বিলে পদ্মফুল কম বলে তারা মনে করছেন।

খুলনা থেকে ঘুরতে আসা শুভজিত সাহা বলেন, টেলিভিশন ও ইউটিউবে গোপালগঞ্জের পদ্মবিল দেখেছেন। এ বছর ছুটি থাকায় বাস্তবে দেখতে এসেছেন। এখানে এসে তার ভালো লাগছে। বিলের নৌকার মাঝি আরিফুল ইসলাম ও সুমন চৌধুরী জানালেন, সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার দর্শনার্থী বেশি থাকে।

ঢাকা থেকে যেভাবে যাবেন

রাজধানীর গুলিস্তান, সায়েদাবাদ বা গাবতলী থেকে গোপালগঞ্জে যাওয়ার জন্য টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, এমাদ পরিবহন, দোলা, বিআরটিসিসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাস রয়েছে। ভাড়া সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। এসি বাসের ভাড়া সাড়ে ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। এসব বাসে রাতে উঠলে কাকডাকা ভোরে নামিয়ে দেবে গোপালগঞ্জ শহরতলির পুলিশ লাইনস মোড়ে অথবা বেদগ্রাম মোড়ে। সেখান থেকে ইজিবাইক বা মাহেন্দ্র ভাড়া করে সদর উপজেলার বলাকইড় গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় যাওয়া যায়। ভাড়া নেবে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। সময় লাগবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট।

নৌকা ভাড়া ও ঘোরাঘুরি

বলাকইড় গ্রামের দক্ষিণপাড়ার পীরু সরদারের বাড়ির কাছের সেতুর নিচ থেকে নৌকা ভাড়া করার পরে মাঝি দুই ঘণ্টায় পুরো বিল ঘুরিয়ে দেখাবেন। ভাড়া নেন নৌকার প্রকারভেদে ৩শ’ থেকে এক হাজার টাকা।

কী খাবেন

খাওয়ার পর্বটা গোপালগঞ্জ শহরে সারলেই ভালো। শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে বেশকিছু ভালো হোটেল আছে। এখানকার হোটেল ‘বার বি কিউ’, ‘সিসিয়ান চায়নিজ রেস্টুরেন্ট’, ‘শম্পা হোটেল’-এ নাশতা ও দুপুরের খাবার খেতে পারেন। দেশীয় খাবার ও বিলের তাজা মাছ খেতে চাইলে যেতে পারেন শহরের পোস্ট অফিসের মোড়ে। সেখানে তিন-চারটি হোটেল রয়েছে। হাতে সময় থাকলে চলে যেতে পারেন গোপালগঞ্জ শহরতলির বেদগ্রামের হোটেলগুলোয়। যেখানে ভুনা খিচুড়ির সঙ্গে সুস্বাদু হাঁসের মাংস দিয়ে দুপুরের খাওয়া সেরে নিতে পারেন।

রাতে থাকবেন কোথায়

কেউ যদি রাতে থাকতে চান তবে তাকে ফিরে আসতে হবে গোপালগঞ্জ শহরে। বলাকইড় গ্রামে থাকার ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। শহরে এসে হোটেলে উঠতে পারেন। বিল থেকে শহরে আসার পথে পাবেন পলাশ গেস্ট হাউস, জিমি হোটেল, হোটেল রাজ প্রভৃতি। এগুলোতে এসি ও নন-এসি রুম পাবেন। এসি রুমে ভাড়া পড়বে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। নন-এসি রুমের ভাড়া ৩শ’ থেকে ৬শ’ টাকা।

ঢাকা/বকুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়