RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৭ ||  ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

সংকট মেটাবে পেঁয়াজের গুঁড়া

এনাম আহমেদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩১, ২২ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৪:৪১, ২২ অক্টোবর ২০২০
সংকট মেটাবে পেঁয়াজের গুঁড়া

দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাবে বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্র থেকে উদ্ভাবিত পেঁয়াজের গুঁড়া। গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাসুদ আলমের ৫ বছরের গবেষণায় এই সফলতা পেয়েছে গবেষণাগারটি।

২০১৫ সালের জুনে পেঁয়াজের এই গুঁড়া উদ্ভাবনা হলেও এর ব্যবহার এখনও শুরু হয়নি। তবে দেশের কিছু মসলা কোম্পানি পেঁয়াজের গুঁড়া নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

পেঁয়াজের গুঁড়ার ব্যবহার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে এবং এর ব্যবহার বাড়লে কাঁচা পেয়াজের ওপর চাপ কমবে। ফলে অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি নির্ভরশীলতা অনেকটা কমে যাবে।

গত দু’ বছর ধরে হঠাৎ করেই ইন্ডিয়া থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে রান্নার প্রয়োজনীয় মসলা কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। ২০১৯ সালে ইন্ডিয়া পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রাখায় দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেন। দাম গিয়ে ঠেকে কেজিতে ২৫০ টাকায়। চলতি বছরেও ইন্ডিয়া থেকে পেঁয়াজ বন্ধ করার পরপরই পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা কেজিতে। খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। কাঁচা পেঁয়াজের বাজারের এমন অবস্থার মাঝে বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্র থেকে উদ্ভাবিত পেঁয়াজের গুঁড়া দেশের মানুষের ঘরে আশীর্বাদ হিসেবে আসতে পারে। কারণ উদ্ভাবক জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘরেই যে কেউ এটি বানাতে পারবেন।

বগুড়া থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিবগঞ্জের মসলা গবেষণা কেন্দ্র। ১৯৯৬ সালে ২১০ বিঘা জমির ওপর মসলা গবেষণা কেন্দ্র নামে স্থাপন করা হয় দেশের একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানটি। পেঁয়াজ মরিচসহ প্রায় ৩৫টি মসলা নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন এখানকার কৃষি বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে ২০০৯ সালের দিকে পেঁয়াজের গুঁড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুর করেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাসুদ আলম। ২০১৫ সালের জুনে তিনি সফলতা পান। তার তত্ত্বাবধানে গবেষণাগারে গুঁড়া পেঁয়াজের উৎপাদন চলছে। পেঁয়াজের গুঁড়া হলুদ মরিচের মতো দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখা যাবে। অন্তত ২ বছর পর্যন্ত এটি সংরক্ষণ করা যাবে বলে গবেষণা কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে।

গবেষণাগার থেকে পেঁয়াজের গুঁড়া তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে জানা গেছে, পেঁয়াজের গুঁড়া তৈরি করতে প্রথমে খোসা ছাড়িয়ে পেঁয়াজ প্রথমে স্লাইস করে ভাপ দিতে হবে। পরে তা শুকিয়ে সোডিয়াম মেটাবাইসারফেট দ্রবণে ৪/৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর তা শুকাতে হবে। এরপর সাধারণ ব্লেন্ডিং মেশিনেই এটি গুঁড়া করা যাবে। এক কেজি পেঁয়াজ শুকিয়ে গুঁড়া পাওয়া যায় ২৫০ গ্রাম। খুব সহজ পদ্ধতি হওয়ায় যে কেউ এই পেঁয়াজের গুঁড়া উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারবেন।

গবেষণার থেকে আরও জানা গেছে, বছরে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ৩৫ লাখ টন। কিন্তু উৎপাদন হয় ২৫ লাখ টন। পেঁয়াজ পচনশীল মসলা। যে কারণে মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভাগ পেঁয়াজই বিভিন্ন ভাবে পচে নষ্ট হয়ে যায়। তবে পেঁয়াজের গুঁড়ার ব্যবহারের প্রচলন যদি ব্যাপকভাবে শুরু হয় তবে পেঁয়াজ পচে নষ্টের হার অনেকাংশ কমবে। যে সময় পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয় সে সময় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পায়। যখন বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ভাল থাকে সে সময় দাম ২০-২৫ টাকা কেজিতে থাকে। সে সময় যদি কাঁচা পেঁয়াজ কিনে এভাবে পাউডার করে রাখা যায় তাহলে সংকটের সময় কাজে আসবে। এভাবে পেঁয়াজের গুঁড়া দেশের পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে আমদানি নির্ভরতা কমবে।

মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাসুদ আলম জানান, তিনি আমেরিকায় রসুনের গুঁড়া এবং ব্যাংককে আদার গুঁড়া দেখেন। এরপর তিনি রসুন, আদা’র পাশাপাশি পেঁয়াজ এবং কাঁচা মরিচের গুঁড়া তৈরির পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ৫ বছর গবেষণার পর ২০১৫ সালের জুনে এই পেঁয়াজের গুঁড়া উদ্ভাবন করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর, জাতীয় উন্নয়ন মেলা, বিশ্ব খাদ্য মেলা, কৃষি মেলাসহ বিভিন্ন মেলায় মসলা গবেষণা কেন্দ্রের স্টলে পেঁয়াজের গুঁড়ার প্রদর্শনী করা হয়।

এছাড়া, মসলা গবেষণা কেন্দ্র থেকে যে প্রশিক্ষণগুলো হয় যেখানে কৃষি কর্মকর্তাসহ কৃষকরাও থাকেন সেখানেও এই পেঁয়াজের গুঁড়া সম্পর্কে জানানো হয় এবং কীভাবে প্রস্তুত করতে হয় সেটি শেখানো হয়। বাজারজাতকরণ আমরা করতে পারি না। এটা মসলা বিক্রির কোম্পানি করবে।

আমাদের কাজ কোনো কিছু উদ্ভাবন হলে সেটা জানানো। ঢাকা থেকে প্রাণ, বসুন্ধরাসহ বেশ কিছু কোম্পানি এই প্রযুক্তি নেওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। নিয়ম অনুযায়ী একটি চুক্তি হলেই এটি বাজারে পাওয়া যাবে। এটি বানানো খুব সহজ। তবে যে কেউ চাইলে এটি বাড়িতে বানাতে পারেন। তিনি জানান, পেঁয়াজের গুঁড়ার মতোই তিনি আদা, রসুন আর কাঁচা মরিচের গুঁড়া তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।

বগুড়া/বুলাকী

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়