RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭ ||  ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

গরু পালনে ব্যবহার হচ্ছে নলডাঙ্গার পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র!

আরিফুর রহমান, নাটোর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:০৬, ৩০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১০:১১, ৩০ অক্টোবর ২০২০
গরু পালনে ব্যবহার হচ্ছে নলডাঙ্গার পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র!

নাটোরে নলডাঙ্গা উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র রয়েছে ঠিকই, কিন্তু নেই চিকিৎসক।  সেবাবঞ্চিত নলডাঙ্গা উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষ। চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে উপজেলার ব্রহ্মপুর, মাধনগর, খাজুরা, পিপরুল, বিপ-বেলঘড়িয়া এ ৫ ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের কার্যক্রম একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে।  স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম। এতে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের নেওয়া সব প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে।

এদিকে চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী না থাকায় উপজেলা ৫ ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলো গবাদী পশু পালনে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। এতে প্রত্যন্ত এলাকার বিপন্ন রোগীরা চিকিৎসা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের।  এ অবস্থায় উপজেলা সদরের প্রাইভেট হাসপাতাল ও জেলা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতে বাধ্য হচ্ছে বিপন্ন মানুষগুলো।

নলডাঙ্গা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। এখানকার কোনো মুমূর্ষু রোগীকে শহরে নিতে-নিতে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যায়, ঘটেছে মৃত্যু ঘটনাও।  অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত নলডাঙ্গা উপজেলার ৫ ইউনিয়নে প্রায় ২ লাখ মানুষের বসবাস। মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রায় একযুগ আগে প্রতিটি ইউনিয়নে স্থাপন করা হয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলো।

প্রতিটি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে একজন করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, উপসহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ফার্মাসিস্ট, পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা, পিয়ন ও আয়া থাকার কথা। কিন্তু এসব কেন্দ্রগুলোতেই একজন চিকিৎসকও নেই।

জানা গেছে, ব্রহ্মপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র একজন ফার্মাসিস্ট এবং আয়া দিয়ে চলে, মাধনগর ইউনিয়ন কেন্দ্র শুধু একজন পরিদর্শক রয়েছে।  খাজুরায় ফার্মাসিস্ট ও আয়া, পিপরুলে পরিদর্শক ও আয়া, বিপ-বেলঘড়িয়া পরিদর্শক ও আয়া রয়েছে।

মাধনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান জানান, এখানে একজন করে উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার, প্যারামেডিক্যাল এবং ভিজিটর দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকলেও এদের কেউই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেননি।

ব্রহ্মপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বাবু বলেন, দোতলা বিশিষ্ট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে নানা সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা এখানে না আসায় ভবনটিও দিন-দিন হতশ্রী হয়ে পড়ছে।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম সরদার বলেন, ব্রহ্মপুর, মাধনগর,খাজুরা, বিপ-বেলঘরিয়াও পিপরুল প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রথমদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রতিদিন বহু মানুষ চিকিৎসা নিতে ভিড় করতো। কিন্তু প্রতিষ্ঠার কয়েকবছর যেতে না যেতেই এতিমের মতো হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। এ কারণে সাধারণ মানুষকে জরুরি চিকিৎসা সেবা পেতে হলে দীর্ঘ হালতি বিল বা কাঁদাপথ পেরিয়ে নাটোর সদরে যেতে হয়। এ পরিস্থিতিতে মাঝপথেও অনেক বিপন্ন রোগী তাৎক্ষণিক চিকিৎসার অভাবে মারা পড়েন। এনিয়ে জেলা ও উপজেলার স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অতিদ্রুত ৫ ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সঠিকভাবে দেখতে চাই। যে উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়েছে তার যথাযথ বাস্তবায়ন চাই।

ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সালমা বেগম (২৬) বলেন, শুরু থেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ।

খাজুরা ইউনিয়নের স্থানীয়রা আবীর হোসেন, তুলসী রানী, ফাতেমা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, আমরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা যে ঘুরে আসি ডাক্তার না থাকার কারণে আবার ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পায় না এখানে স্বাস্থ্যসম্মত চিকিৎসা পেলে আমার গরিব মানুষ খুব উপকার হত।

এ ব্যাপারে নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পকনা কর্মকর্তা ডা. ইয়াদুল আলী বলেন, সপ্তাহে দুদিন প্রতিটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি খোলা হয়। জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত খোলা সম্ভব হয় না। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা শুধু লিখতে পারি। আমরা আমাদের ওপরের কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।

এ বিষয়ে নাটোর জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. জাকির হোসেন বলেন, জনবল সঙ্কটের কারণে ওখানে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। জনবল নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারবো না।

নাটোর/এসএম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়