লকডাউনে পরিবহন সংকটে শ্রমিকদের ভোগান্তি
সাভার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সারা দেশে আজ থেকে কঠোর লকডাউনের শুরু হয়েছে। লকডাউনের সকালে পরিবহন সংকটে গার্মেন্টসগামী পোশাক শ্রমিকরা ভোগান্তিতে পরেছেন।
বৃহস্পতিবার (০১ জুলাই) সকালে ঢাকার সাভারের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা, নবীনগর চন্দ্রা ও টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গণপরিবহনের জন্য শ্রমিকদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন। এছাড়া, বাইপাইল, নবীনগর, জিরানী, শ্রীপুর, জামগড়া, শিমুলতলা, নরসিংহপুর, হেমায়েতপুর, উলাইল, রেডিওকলোনী এলাকায় গণপরিবহনের জন্য শ্রমিকদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সড়কগুলোতে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিলো অনেক কম। রিকশা-ভ্যানেই কয়েক গুণ বেশি ভাড়ায় গাদাগাদি করে কারখানায় যাচ্ছেন শ্রমিকরা। মাঝে মধ্যেই বাসের দেখা মিললেও ওঠার প্রতিযোগিতায় যেতে পারেননি অনেকেই। পরিবহন সংকটে শ্রমিকদের অনেকেই অবশেষে পায়ে হেঁটে গিয়েছেন গন্তব্যে। তবে দূরের কারখানার যাত্রীরা বেশি ভাড়াতেই যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় পরিবহনের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় শারমিন গ্রুপের শ্রমিক ইতি খাতুন। পরিবহন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
শ্রমিক ইতি খাতুন বলেন, ‘রাস্তায় কি যাওয়ার জন্য কোন গাড়ি আছে? এটা কি লকডাউনের পরিস্থিতি? এটা কিসের লকডাউন। এটা হলো আমাগো সাধারণ মানুষরে শাস্তি দেওন কয়।’
বেঙ্গল গ্রুপের শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মনে করেন ১০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা দিয়া আসলাম। রিকশাওয়ালা, অটোয়ালারা ভাড়া বেশি চাইয়া হাসতাছে। এটা কি মজার বিষয় না? আমরা বাংলাদেশের সবচেয়ে নিম্নস্তরের লোক ভাই। আমরা সবচেয়ে বঞ্চিত। আমাদের গার্মেন্ট শ্রমিকদের কোনো নিরাপত্তা নাই।’
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, ‘শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো সদিচ্ছা এই লকডাউনে নেই। কারণ যেখানে ৫০ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সেখান তাদের ঝুঁকিতে রেখে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই লকডাউনে সবকিছু বন্ধ রাখা হলেও গার্মেন্টস কারখানা খোলা রাখা হয়েছে। মালিকদের পরিবহন ব্যবস্থা করার কথা বলা হলেও তারা বলছে, শ্রমিকরা না কি এক-দুই কিলোমিটারের ভিতরে থাকে। এই পথও কিন্তু শ্রমিক ৫-১০টাকা ভাড়া দিয়ে বাসেই কারখানায় যায়। সেই পরিবহন না থাকার কারণে আজ শ্রমিকরা বৃষ্টির মধ্যেই পায়ে হেঁটে কারখানায় যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতে শ্রমিকরা সম্পূর্ণভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম জানান, কঠোর লকডাউনে করোনার বিধি-নিষেধ মানাতে সাভারে বিজিবি এক প্লাটুন, সেনা বাহিনী ১ কোম্পানিসহ আনসার ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া চার জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
সাব্বির/বুলাকী