Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ৩ ১৪২৮ ||  ০৯ সফর ১৪৪৩

৫৬ হাজার পশু প্রস্তুত, বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩২, ১১ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৯:৫৭, ১১ জুলাই ২০২১
৫৬ হাজার পশু প্রস্তুত, বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

কোরবানির ঈদে ঢাকার পশুর হাটে চাহিদার বড় অংশ সরবরাহ করা হয় মানিকগঞ্জ জেলা থেকে। জেলার খামারিরা সারা বছর গবাদিপশু লালন-পালন করে ঈদে ভালো দামে বিক্রির আশায়। ঢাকার ক্রেতারাও সামর্থ্য অনুযায়ী গবাদিপশু কিনে থাকেন।

তবে গত ১ জুলাই থেকে সারা দেশে কঠোর লকডাউন শরু হওয়ায় মানিকগঞ্জে পশুর হাট এখনও শুরু হয়নি। এ ছাড়া আগামী ১৪ জুলাইয়ের পর লকডাউন শেষ হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা। আবার গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ জেলায় ১০ হাজার ৯২৬ জন খামারি ২৭ হাজার ৫৫৪টি ষাড়, ৯২৮টি বলদ, ৭ হাজার ৯৮৭টি গাভী, ১৩টি মহিষ, ১৬ হাজার ২৮৬টি ছাগল, ২ হাজার ৮৩৯টি ভেড়া ও অন্যান্য ২৮১টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের টেপরী গ্রামের খামারি মো. শাজাহান আলী বলেন, ‘কোরবানির ঈদেক সামনে রেখে সাতটি গরু মোটাতাজা করেছি। এখনও কোনো গরু বিক্রি করতে পারিনি। এমনিতে লকডাউনে বেচাকেনা নেই, এরমধ্যে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছি। গমের ভূসির ৩৭ কেজির বস্তায় ৩০০ টাকা, সয়ামিল ৫০ কেজির বস্তায় ৭০০ টাকা, রাইস পলিসের ৫০ কেজির বস্তায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দাম বেড়েছে।’

গড়পাড়া এলাকার স্বনির্ভর এগ্রোফার্মের মালিক মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, তার খামারে ঈদে বিক্রি করার মতো চারটি গরু আছে। তবে লকডাউনের কারণে তেমন ক্রেতা নেই। এখন যে পরিস্থিতি, তাতে বুঝতে পারছেন না  কী হবে? তার মতো সকল খামারি পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন বলে জানান মুসলিম উদ্দিন।

মানিকগঞ্জ ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন ফার্মের সভাপতি মাহিনুর রহমান বলেন, এ বছর যে টাকা খরচ করে খামারিরা কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করেছে,  সেই পরিমাণ দাম উঠছে না। ঈদের এখনও কয়েকদিন বাকি আছে, দেখা যাক কী হয়?

মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে জেলার সাতটি উপজেলায় ১০ হাজার ৯২৬ জন খামারি ৫৫ হাজার ৮৮৮টি পশু মোটাতাজা করেছেন। করোনার কারণে পশু বিক্রি নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় পড়েছে খামারিরা।

মাহবুবুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনলাইনে পশু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এভাবে ২৫-৩০টি গরু বিক্রয়ও হয়েছে। খামারির গরুর ছবিসহ প্রয়োজনীয় ঠিকানা অনলাইনে দেওয়া আছে। এতে ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলেও জানান জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

চন্দন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়