ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৭ ১৪৩০

ভেঙে যাওয়া সংসার জোড়া দিলেন আদালত

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১৭, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  
ভেঙে যাওয়া সংসার জোড়া দিলেন আদালত

জান্নাত ফেরদৌসের সঙ্গে শিমুল পারভেজের বিয়ে হয়েছিল ২০২১ সালের ২ এপ্রিল। এরপর সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে আটমাস আগে তাদের সংসার ভেঙে যায়। তালাকও কার্যকর হয়েছে। ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে আদালতে ঘুরছিলেন জান্নাত। তাই শিশুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আদালত তাদের ভাঙা সংসার জোড়া দিয়েছেন। নতুন করে বিয়ে হয়েছে আদালতেই।

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে-২ এ এই বিয়ের আসর বসেছিল। শিমুল রেলওয়ের কর্মচারী। তাদের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌর এলাকার সমসাদিপুর মহল্লায়। সংসার ভেঙে যাওয়ার কয়েক দিন পরে গত ১২ অক্টোবর মেয়েটির মা আদালতে মামলা করেন। সেই মামলা চলছিল রাজশাহী মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে-২ এ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আদালতে শিশুটির বাবার জামিন শুনানিকালে ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুজজামান লক্ষ্য করেন, সাক্ষীর কাঠগড়ায় মামলার বাদী জান্নাত ফেরদৌসের ৬ মাসের শিশু কাঁদছে।  আসামির কাঠগড়ায় শিমুল পারভেজ। আদালতে জান্নাতের বাবা-মা এবং শিমুলের বাবা উপস্থিত ছিলেন। শুনানিকালে জান্নাতের চোখে পানি ছিল এবং শিমুলও মাথা নিচু করে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুই পক্ষের আইনজীবী পক্ষে-বিপক্ষে তাদের বক্তব্য রাখছেন, কিন্তু আদালতের দৃষ্টি পড়ে থাকে অসহায় শিশুটির দিকে।

শুনানির সময় আদালত জানতে চান, শিশুটির ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বাদী ও আসামি আপোষ করতে চায় কি-না। তখন জান্নাত  ও শিমুল পরস্পরের কিছু দোষ ত্রুটি উল্লেখ করতে শুরু করেন। এই পর্যায়ে আদালত নিজ দায়িত্বে সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের উদ্দেশে কিছু উপদেশমূলক কথা বলেন। এক পর্যায়ে তারা দুজনই আপোষ করতে রাজি হন। কিন্তু তা অবশ্যই আদালতের মধ্যস্থতায় করতে চান। এ সময় দুইপক্ষের আইনজীবীর অনুরোধে আদালত তার বিচার কার্য শেষ করেন।

অভিভাবক ও বার সমিতির সেক্রেটারির উপস্থিতিতে কাজী ডাকা হয়। আদালতের ভেতরে ১ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পুনরায় তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় আদালতের পক্ষ থেকে সবাইকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী রেবেকা সুলতানা বলেন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুজ্জামান স্যার অত্র আদালতে যোগদানের পরেই তিনি বিভিন্ন মামলায় তার মানবিক আচরণ করে আসছেন। তিনি সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে তার আন্তরিক মধ্যস্থতায় অনেক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে যাচ্ছেন এবং মানবিক বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আদালত কক্ষে এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজনের মাধ্যমে একটি সংসার জোড়া লাগলো। এর মাধ্যমে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত হলো। 
 

কেয়া/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়