ঢাকা     শুক্রবার   ০১ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৮ ১৪৩০

তরমুজে লেগেছে গরমের তাপ

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩৮, ১৮ এপ্রিল ২০২৩  
তরমুজে লেগেছে গরমের তাপ

খুলনায় প্রচণ্ড গরম ও তাপদাহের কারণে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে তরমুজের চাহিদা। যে কারণে দামও বেড়ে গেছে গ্রীষ্মকালীন এ ফলটির। বর্তমানে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা দাম বেড়ে ফলটি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এর আগে কেজিপ্রতি ফলটি বিক্রি হচ্ছিল ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে।

এদিকে, রমজানের শেষ সময়ে তরমুজ বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন খুলনার কৃষকরা। তবে ৪ মাস রোদে পুড়ে হাড় ভাঙা খাটুনি করে কৃষক যে মুনাফা করছেন, তার থেকে তিনগুণ মুনাফা করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

খুলনার পাইকারি মোকাম কদমতলায় গতকাল সোমবার  মাঝারি সাইজের তরমুজ গড়ে বিক্রি হয়েছে (১০০ পিস) ৬ হাজার টাকায়। অর্থ্যাৎ ছোট-বড় সব তরমুজের গড় মূল্য প্রতি পিস ৬০ টাকা। মাত্র এক কিলোমিটার দূরে নগরীর ময়লাপোতা মোড়ে ভ্যান ও ফলের দোকানে সেই তরমুজ বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।

খুলনার বাজারে অন্য জেলার তরমুজ নেই। গরমে চাহিদা বাড়ায় সবাই তাকিয়ে আছেন দাকোপে চাষ হওয়া তরমুজের দিকে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা অনেকে দাকোপে গিয়ে তরমুজ কিনে নিয়ে আসছেন। দাকোপের তরমুজ আকারে ছোট।

কৃষকরা জানান, দুইভাবে তরমুজ বিক্রি হয়। ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা দাকোপে এসে মাঠ থেকে সরাসরি তরমুজ কেনেন। তারাই ট্রাকে করে তরমুজ নিয়ে যান। চলতি সপ্তাহে ছোট আকারের তরমুজ (৩-৫ কেজি) প্রতি বিঘা বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। একই তরমুজ গত বছর বিক্রি হয়েছে ৩০/৩৫ হাজার টাকা। এছাড়া বড় আকারের (৮ কেজির ওপরে) তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ টাকায়।

এছাড়া কিছু কৃষক নিজেই তরমুজ নিয়ে খুলনার কদমতলায় পাইকারি বিক্রি করেন। পাইকারি তরমুজ বিক্রি হয় পিস হিসেবে। ছোট আকারের প্রতিপিস তরমুজ (৩-৫ কেজি) গতকাল বিক্রি হয়েছে ৫০/৬০ টাকা। বড় তরমুজ বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা পিস।

দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের কৃষক আজগর হোসেন জানান, শুরুতে প্রতি বিঘা ৪০/৪৫ হাজার টাকায় তরমুজ বিক্রি হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন দাম ৭০ হাজারের ওপর। আমরা কৃষকরা খুশি।

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম মাকসুদুন্নবী জানান, গতকাল সোমবার পর্যন্ত আড়াই হাজার হেক্টর জমির তরমুজ বিক্রি হয়েছে। প্রতিদিন ৫০০/৬০০ হেক্টর জমির তরমুজ সংগ্রহ হচ্ছে। বেশিরভাগ তরমুজই ঢাকায় যাচ্ছে। ঈদের আগেই ৮৫ শতাংশ তরমুজ বিক্রি করা হবে।

এদিকে কৃষকরা অভিযোগ করেন, তরমুজ বিক্রিতে বড় বাঁধা হয়ে দেখা দিয়েছে পরিবহনে চাঁদাবাজি। প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক তরমুজ পরিবহনের জন্য দাকোপ থেকে বিভিন্ন রুটে যাচ্ছে। মোড়ে মোড়ে তারা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। এ থেকে পরিত্রাণের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, এ বছর খুলনায় ১২ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দাকোপ উপজেলাতেই চাষ হয়েছে ৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে। অন্যান্য জেলার তরমুজ আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এখন দাকোপ উপজেলার তরমুজই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।

মাসুদ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়