ঢাকা     শনিবার   ২২ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৮ ১৪৩১

সিংড়া উপজেলা নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী পলকের শ্যালকের মনোনয়পত্র প্রত্যাহার

নাটোর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৩, ২১ এপ্রিল ২০২৪   আপডেট: ১৬:৫৪, ২১ এপ্রিল ২০২৪
সিংড়া উপজেলা নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী পলকের শ্যালকের মনোনয়পত্র প্রত্যাহার

লুৎফুল হাবিব রুবেল

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক লুৎফুল হাবিব রুবেল সিংড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন থেকে মনোনয়পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্যের আত্মীয়-স্বজনকে নির্বাচন না করার জন্য বলেছেন, সেই আলোকে রুবেল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। 

রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুরে নাটোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখের কাছে এসে চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুর হাবিব রুবেলের পক্ষে প্রত্যাহারপত্র জমা দেন তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিনহাজ উদ্দিন।

প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ।

প্রত্যাহারপত্রে রুবেল বলেছেন, ‘আমি মো. লুৎফুল হাবিব সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০২৪ এ চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করি। কিন্তু ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কারণে আমার নির্বাচন করা সম্ভব নয়।’

এরআগে সকালে ভিডিও বার্তায় লুৎফুর হাবিব রুবেল তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই প্রত্যাহারপত্র জেলা নির্বাচন অফিসে জমা দেওয়া হয়।

ভিডিও বার্তায় লুৎফুল হাবিব রুবেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ২০০২ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে রয়েছি। ২০০৫ সালে সিংড়া গোল-ই আফরোজ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছি। গত ৩ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পদত্যাগ করি। ইউনিয়ন পরিষদের পরপর তিন বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। গত ৮ তারিখে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সাবমিট করি। তারপর থেকে যেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন মহল সক্রিয় আছে।’

গত ৩ এপ্রিল লুৎফুল হাবিব রুবেল শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হন। তিনি উপজেলার পরিষদের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অপহরণ করা হয়। এ নিয়ে মামলা হয়। এতে বিভিন্নভাবে লুৎফুল হাবিব রুবেলের নাম উঠে আসে।   

গত সোমবার (১৫ এপ্রিল) সিংড়া উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ব্যাংকে জামানতের টাকা জমা দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। এদিকে, জরুরি প্রয়োজনে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে গেলে সেখান থেকে কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত দেলোয়ার হোসেনের ভাই আলাউদ্দিনসহ দুই জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে দেলোয়ার হোসেন নির্বাচন অফিস থেকে নেমে আসলে তাকেও মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে নেয়।

এ সময় দেলোয়ার হোসনেকে গাড়ির ভিতর মারধর করে দুর্বৃত্তরা। পরে বিকেলে বাড়ির সামনে তাকে ফেলে দিয়ে যায়। চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণের দুটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা গেছে, দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণ করে যে গাড়িতে তোলা হয়, সেটি তার প্রতিদ্বন্দ্বী লুৎফুল হাবিব রুবেলের। পরে আহত দেলোয়ার হোসেনের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। গত ১৯ এপ্রিল অসুস্থ দেলোয়ার হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

আরিফুল/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ