ঢাকা     বুধবার   ২৯ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১

খুলনায় গরমে ডায়রিয়ার প্রকোপ 

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫২, ২২ এপ্রিল ২০২৪  
খুলনায় গরমে ডায়রিয়ার প্রকোপ 

তীব্র তাপপ্রবাহে খুলনায় ডায়রিয়া, পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ ছাড়া জ্বর-সর্দি-কাশিসহ ও শ্বাসতন্ত্রের রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তীব্র গরমের মধ্যে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, গরমের সময় অসুস্থতা থেকে বাঁচতে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা।

রোববার (২২ এপ্রিল) খুলনার ৯ উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ জন ডায়ারিয়া রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি মাসের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মোট ৪২১ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা মহানগরীর মীরের ডাঙ্গা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ জন ডায়রিয়া রোগী আসছে। এর মধ্যে অনেকে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

গরমে অসুস্থ হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার প্রায় তিনগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। ৫০০ শয্যার বিপরীতে রোববার (২১ এপ্রিল) ১ হাজার ২৮৬ জন রোগী ভর্তি হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৩০৫ জন। রোগীর চাপে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা সঙ্কুলান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দায়, সিঁড়ি ঘরের সামনে চলাচলের রাস্তার মেঝেতে থাকছেন।

একইভাবে খুলনা শিশু হাসপাতালে অসুস্থ রোগীর জায়গা দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের ২৭০টি শয্যার একটিও খালি নেই। তারপরও প্রতিদিন ৭০-৮০ জন অসুস্থ শিশুকে ভর্তির জন্য হাসপাতালে আনছেন অভিভাবকরা। জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় অনেককে ফেরত দিতে হচ্ছে। এর বাইরে বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে আরও ৫০০-৬০০ শিশু রোগী। যাদের অধিকাংশই জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রমতে, রোববার খুলনার ৯ উপজেলায় স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এবং খুমেক হাসপাতাল মিলে মোট ৩১ জন ডায়ারিয়া রোগী আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার জন, দাকোপে একজন, তেরখাদায় চার জন, দিঘলিয়ায় সাত জন, ডুমুরিয়ায় একজন, পাইকগাছায় চার জন, কয়রায় একজন এবং ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঁচ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। 

চলতি মাসে রোববার পর্যন্ত (২১ এপ্রিল) গত ২১ দিনে উল্লিখিত হাসপাতালে মোট ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪২১ জন। এর মধ্যে বটিয়াঘাটায় ১৭ জন, রূপসায় ৬৫ জন, দাকোপে ৩৫ জন, তেরখাদায় ৪৭ জন, দিঘলিয়ায় ৭২ জন, ডুমুরিয়ায় ২২ জন, পাইকগাছায় ৫০ জন, কয়রায় ২৪ জন এবং ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬১ জন ডায়রিয়া রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে উল্লিখিত সময়ে ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয় ২৭ জনকে। 

গরমের মধ্যে গত কয়েক দিনে রোগী বেড়েছে জানিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট আর খিঁচুনি নিয়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে অসুস্থ শিশুরা। অতিরিক্ত গরমে টাইফয়েড, হেপাটাইটিস বা জন্ডিসের প্রবণতাও বাড়ছে। অতিরিক্ত গরমে শিশুরা প্রচুর ঘামছে, তাতে তৈরি হচ্ছে পানিশূন্যতা। এ সময় শিশুদের বাইরে বের না করলেই ভালো। শিশুদের খাবারের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। গরম খাবার দিতে হবে, বাইরের খাবার-পানি খাবে না।

খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, অত্যাধিক গরমে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গরম যত বাড়ছে জ্বর ডায়রিয়া শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতার রোগীও তত বাড়ছে।

খুলনা মহানগরী মীরের ডাঙ্গা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. হবিবুর রহমান বলেন, গরমে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসের ২১ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত মোট ৩৫০ জন ডায়ারিয়া রোগী ভর্তি হয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ জন ডায়ারিয়া আক্রান্ত রোগীরা আসছে। এর মধ্যে কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে, আবার অনেককেই ভর্তি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে আপাতত হাসপাতালে ওর স্যালাইন ও কলেরা স্যালাইনের সংকট নেই। এর আগে মার্চ মাসে মোট ৪৬০ জন ডায়ারিয়া রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

খুলনার সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ওর স্যালাইনের সংকট নেই। তবে কিছু উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কলেরা স্যালাইন সংকট রয়েছে। তাদের চাহিদামতো কলেরা স্যালাইন মওজুদ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মতে হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলো ও হিটস্ট্রোক হলে কী করণীয় তা প্রচার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন ভাইরাসজনিত জ্বর (ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া), সর্দি-কাশি, জন্ডিস, জলবসন্ত, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি বেড়ে যেতে পারে। সেই সব বিষয়ে সচেতনতামুলক প্রচারণা করা হচ্ছে। 

/বকুল/

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়