ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ভাসানচর কার, জানা যাবে ১৫ দিন পর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২১, ১০ এপ্রিল ২০২৫   আপডেট: ২৩:৩১, ১০ এপ্রিল ২০২৫
ভাসানচর কার, জানা যাবে ১৫ দিন পর

ভাষানচর নিয়ে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সীমানা বিরোধ নিরসন কমিটির বৈঠক হয়।

বাংলাদেশের তরফে রোহিঙ্গাদের জন্য করা একটি আশ্রয়স্থল হিসেবে দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি পাওয়া বঙ্গোপসাগরের ‘ভাসানচর’ দ্বীপটি কোন জেলায় সীমায় পড়েছে, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় নাকি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা? এ নিয়ে জটিলতা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে; এবার যার অবসান হতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সীমানা বিরোধ নিরসন কমিটির বৈঠকে কোনো ফয়সালা না হলেও আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দুই জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন ও দিয়ারা জরিপের ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নূরী উল্লাহ নূরী। তিনি ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বৈঠক শেষ করেন।

এদিন দুপুরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে সন্দ্বীপের পক্ষে সাংবাদিক সালেহ নোমান ও নোয়াখালীর পক্ষে এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাহসুদসহ বেশ কয়েকজন ভাসানচরের অবস্থান সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেন।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নূরী উল্লাহ নূরী বলেন, “কমিটির সবাই নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সন্দ্বীপের পক্ষে সন্দ্বীপের প্রতিনিধি ও হাতিয়ার পক্ষে হাতিয়ার প্রতিনিধি বক্তব্য দেন। সবার মতামত শুনে দুই জেলার ডিসির কাছ থেকে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে দিয়ারা জরিপ পর্যালোচনা করে ১৫ দিনের মধ্যে ভূমি জরিপ অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারপর তারা সিদ্ধান্ত নেবেন ভাসানচর কার।”

জানা যায়, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অনুমোদনে ২০১৬-১৭ সালের দিয়ারা জরিপে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা ভাসানচরকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৬-১৭ সালেই নবসৃষ্ট ভাসানচর অংশটির (ভাসানচর, শালিকচর, চর বাতায়ন, চর মোহনা, চর কাজলা ও কেউয়ারচর) দিয়ারা জরিপ শেষ করে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর। এর ফলাফল ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি গেজেটে ভাসানচর অংশের ছয়টি মৌজা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও সন্দ্বীপের মানুষ এ জরিপকে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের প্রভাব বিস্তার করে তৈরি করা বলে অভিযোগ করে আসছেন।

ভাসানচর ২০১০ সালে দৃশ্যমান হলেও ২০১৭ সালে এসে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের কারণে এটি আলোচনায় আসে। ওই বছরই জরিপের মাধ্যমে দ্বীপটি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রভাব খাটিয়ে এটিকে হাতিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন বলে তখন অভিযোগ তুলেছিল সন্দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দারা।

ঢাকা/রেজাউল/এস/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়