ঢাকা     শনিবার   ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

মহিষের লড়াই দেখতে ভিড়, বন্ধ করল প্রশাসন

পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২২, ৪ জানুয়ারি ২০২৬  
মহিষের লড়াই দেখতে ভিড়, বন্ধ করল প্রশাসন

লড়াইয়ের জন্য আনা একটি মহিষ।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মহিষের লাড়াইয়ের আয়োজন করে স্থানীয় যুব সমাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরে দুই প্রাণীর লড়াই আয়োজনের খবর। রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকেই লড়াই উপভোগ করতে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে আসতে শুরু করেন আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ। সোহেল মিরা ও মজিবর ফকির হাজির হন তাদের বিশাল দেহের দুটি মহিষ নিয়ে। 

হাজারো দর্শক উপস্থিত হলেও মহিষের লড়াই আয়োজন করতে পারেননি আয়োজকরা। কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ উপস্থিত হয়ে বন্ধ করে দেন দুই মহিষের লড়াই। পরে সেখানে উপস্থিত হন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক। ফলে হতাশাগ্রস্থ হয়ে ফিরে যেতে হয় দর্শকদের। 

আমতলী উপজেলার হলুদিয়া ইউনিয়ন থেকে আসা সাইয়েদ মিয়া বলেন, ‍“আমরা ফেসবুকে দেখেছি, নীলগঞ্জে মহিষের লড়াই হবে। তাই খুব ভোরে আমরা একটি টমটম নিয়ে ১০ থেকে ১২ জন এখানে এসেছিলাম। বিশাল দেহের মহিষ দুটি দেখে ভালোই লাগছিল। মনে হচ্ছিল, জমজমাট লড়াই হবে। কিন্তু এখানকার প্রশাসনের লোকজন এসে মহিষের লড়াই বন্ধ করে দিয়েছে। এখন ফিরে যেতে হচ্ছে।” 

চাকামাইয়ক এলাকার বাসিন্দা নূর হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকার মজিবার ফকিরের মহিষ ও টিয়াখালী ইউনিয়নের সোহেল মিরার মহিষের মধ্যে লড়াই হওয়ার কথা ছিল। খুব ভোরে এখানে মহিষ দুটি হাজির করা হয়েছিল। প্রশাসন এসে মহিষের লড়াই বন্ধ করে দিয়েছে। এখন আমরা ফিরে যাচ্ছি। মহিষের লড়াইয়ের জন্য আগে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। তাহলে আমাদের এভাবে হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হতো না।” 

কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ খান বলেন, “ডিজি স্যারের নির্দেশনায় আমরা এখানে এসে মহিষের লড়াই বন্ধ করে দিয়েছি। এখানে আমাদের উপজেলা প্রশাসন ও এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্যরা সহযোগিতা করেছে। প্রাণিকল্যাণ আইনে কোনো প্রাণীর লড়াই আয়োজন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদিক বলেন, “প্রাণীদের লড়াই করানো আইনত নিষিদ্ধ। এটি প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হয় এবং এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তাই আমরা লড়াইটি বন্ধ করে দিয়েছি। এখানের স্থানীয় মানুষও আমাদের সহযোগিতা করেছে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের আয়োজন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/ইমরান/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়