‘দুবেলা দুমুঠো ভাত চেয়েছিলাম, সন্তানদের সংসারে আমার জায়গা হলো না’
নরসিংদী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
নরসিংদী শহরের ব্যস্ত সড়কের মোড়ে মোড়ে ভিক্ষা করতে দেখা যায় ৭০ বছর বয়সি বৃদ্ধ আবু বকর সিদ্দিককে। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীর, ঝাঁপসা দৃষ্টি আর জীর্ণ পোশাকে শহরের শাপলা চত্বরে প্রতিদিনই বসে থাকতে দেখা যায় তাকে।
আবু বকর সিদ্দিকের দুই ছেলে। বড় ছেলে তারা মিয়া ঢাকায় চাকরি করেন, পরিবারও থাকে তার সঙ্গে। ছোট ছেলে থাকেন মোস্তফা মিয়া সৌদি আরবে।
সন্তানদের মানুষ করতে জীবনের দীর্ঘসময় কঠোর পরিশ্রম করলেও শেষ বয়সে এসে সন্তানদের আশ্রয় পাননি আবু বকর সিদ্দিক।
বর্তমানে শাপলা চত্বর এলাকায় ভিক্ষার ওপর নির্ভর করেই দিন কাটছে তার। পথচারীদের কেউ কেউ দয়া করে কিছু অর্থ দিলেও অনেকেই উপেক্ষা করে চলে যান।
আবু বকর সিদ্দিক অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “আমি বড় কিছু চাইনি। শুধু মাথা গোঁজার জায়গা আর দুবেলা দুমুঠো ভাত চেয়েছিলাম কিন্তু সন্তানদের সংসারে আমার জায়গা হলো না।”
শাপলা চত্বর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই বৃদ্ধকে এখানে বসে থাকতে দেখছি। কথা বলে জেনেছি, তার দুই ছেলে রয়েছে— একজন প্রবাসে, একজন ঢাকায় চাকরি করেন। কিন্তু কেউই বাবার দায়িত্ব নেয়নি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।”
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম বলেন, “বাবাকে ভরণপোষণ না দিয়ে রাস্তায় বসতে বাধ্য করা অমানবিক। এমন ঘটনায় জড়িত সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
নরসিংদী ইনডিপেন্ডেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান বলেন, “সন্তানরা যখন শহরের আরামদায়ক জীবনে কিংবা প্রবাসে ব্যস্ত, তখন বৃদ্ধ বাবা রাস্তায় ভিক্ষা করেন— এটি আমাদের সামাজিক ও মানবিক অবক্ষয়ের চরম উদাহরণ। বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বড় ছেলে তারা মিয়া বলেন, “আমি জানতাম না আমার বাবা রাস্তায় ভিক্ষা করছেন। বিষয়টি জানার পর খোঁজ-খবর নিচ্ছি, কী করা যায় দেখছি।”
ঢাকা/হৃদয়/জান্নাত