সাভারে লাশের ‘ভাগাড়’: পাঁচ মাসে পাঁচ লাশ, এক ‘ভবঘুরেকে’ ঘিরে রহস্য
আরিফুল ইসলাম সাব্বির, সাভার || রাইজিংবিডি.কম
ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে পাঁচ মাসে পাঁচটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের কারো পরিচয় আজো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। রবিবার সেখান থেকে দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছবি: রাইজিংবিডি।
ঢাকার সাভারে পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে এবার দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধারের পর সম্রাট নামে পরিচয় দেওয়া এক ভবঘুরকে হেফাজতে নিয়েছে ডিবি।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ সাইদুর ইসলাম রাইজিংবিডি ডটকমকে এই তথ্য দিয়েছেন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও সন্দেহজনক আচরণের কারণে দুপুরে সাভার পৌর এলাকা থেকে সম্রাটকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে, সম্রাটকে নিয়েও বাড়ছে প্রশ্ন।
সম্রাটের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানতে পারেনি ডিবি। তবে তিনি সাভার থানার আশপাশ, পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মতো ঘুরে বেড়াতেন, পোশাকেও ছিল সেই ছাপ। সম্রাট কি আসলেই পাগল নাকি রহস্যময় মানুষ, সেটিই বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ সাইদুর ইসলাম বলেন, পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সম্রাটকে ধরে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
সাভার পৌর এলাকার থানা রোড মহল্লার সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন মানসিক ভারসাম্যহীনের মতো দেখতে সম্রাট। তাকে আটক করেছে ডিবি। ছবি: রাইজিংবিডি।
এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তবে ভিডিওটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি দেহ কাঁধে নিয়ে এক ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দেহটি কাঁধে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিই আটক হওয়া সম্রাট। কারণ, বেশভূষা ও চলনে ঘনিষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
সাভার পৌর এলাকার থানা রোড মহল্লার সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার, যেটি এখন আর ব্যবহৃত হয় না। ফলে ভুতুড়ে পরিবেশ তার ভেতরে। মলমূত্র ত্যাগ করায় সাধারণত মানুষ সেদিকে উঁকিও দেয় না। ময়লাভরা এই পরিত্যক্ত অবকাঠামোটি এখন অজ্ঞাত লাশের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে থেকে রবিবার দুপুরে দুটি পোড়া মরদেহ তুলে আনে পুলিশ।
মরদেহ দুটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাভার কলেজের এক শিক্ষার্থী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি পুড়ে যাওয়া দুটি মরদেহ সেখানে দেখতে পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে সাভার মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
সাভার মডেল থানার ওসি (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, দুটি লাশই পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি, তবে জানার চেষ্টা চলছে।
একই স্থানে আরো তিনটি অজ্ঞাত লাশ
২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট রাতে এই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে হাত-পা বাঁধা অপরিচিত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই লাশের পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
গত বছরের ১১ অক্টোবর রাতে একই স্থানে পাওয়া যায় এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ, পুলিশ সেটি উদ্ধার করে।
২০২৫ সালের শেষ দিকে ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
এই তিন লাশের একটিরও পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। পাঁচ মাসে পাঁচটি পরিচয়হীন লাশ একই স্থানে পাওয়ার ঘটনা ঘিরে রহস্য বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এই পাঁচজন কি সাভারের মানুষ নন? তাদের কি অন্য জায়গায় খুন করে এখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে? অথবা অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে? এসব প্রশ্নের উত্তর মেলাতে পারছেন না খোদ গোয়েন্দারাই।
ঢাকা/সাব্বির/রাসেল