ঢাকা     বুধবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

‘গার্মেন্টসের রাজধানী’ গাজীপুরে তারেক রহমান, ‘দেশে নতুন শিল্প আনব’

রেজাউল করিম, গাজীপুর  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০১:৪৩, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ০২:১৫, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
‘গার্মেন্টসের রাজধানী’ গাজীপুরে তারেক রহমান, ‘দেশে নতুন শিল্প আনব’

মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশের কল্যাণে দেশের সবচেয়ে জনবহুল ও শ্রমঘন জেলা গাজীপুরে দাঁড়িয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে দেশে নতুন শিল্প আনবেন। যেখান থেকে নতুন রপ্তানি হবে, আরো মা-বোনদের কর্মসংস্থানও হবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

আরো পড়ুন:

তারেক রহমান বলেন, “গাজীপুর শিল্পনগরী; আমি মনে করি, এটি শুধু শিল্পনগরী নয়; এটি গার্মেন্টসের রাজধানী। এখন এই গার্মেন্টসে লক্ষ লক্ষ মা-বোনেরা কাজ করেন, ভাইয়েরাও কাজ করেন। এই শিল্প কে এনেছিল জানেন আপনারা? কে এনেছিলেন বলেন তো? জিয়াউর রহমান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান- এই গার্মেন্টস শিল্প বাংলাদেশ এনেছিলেন। তারপরে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে; মা-বোনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।” 

তিনি বলেন, “এই যে বিদেশে আমাদের শ্রমিক যায়, সেই ব্যবস্থা কে করেছেন। সেটাও শহীদ রাষ্ট্রপতির জিয়াউর রহমান অর্থাৎ বিএনপি সরকার করেছে। এই যে আমাদের মেয়েরা স্কুলে ফ্রি শিক্ষা পায়, প্রাইমারি থেকে নিজে ইনকাম করা পর্যন্ত- এটা কে করেছেন বলেন তো? খালেদা জিয়া। এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য যদি কেউ কাজ করে থাকেন, সেটা বিএনপিই একমাত্র করেছে। প্রিয় ভাই-বোনেরা আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে আমরা অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” 

মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরের রাজবাড়ী ময়দানে বিএনপির জনসভা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া।


গাজীপুর নতুন শিল্প করার পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে তারেক রহমান বলেন, “এই যে লক্ষ লক্ষ মা-বোন আছেন, তাদের জন্য আর একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। যে মায়েরা খেটে খান, কষ্ট করেন, পরিশ্রম করেন, সেই মায়েদের জন্য আমরা দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেক মায়ের জন্য একটি কার্ড দেব। সেটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। এবং সেই কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেক মায়ের কাছে সরকারের কাছ থেকে একটু সহযোগিতা পৌঁছে দিতে চাই, যেন মাস শেষে তাদের কষ্ট কিছুটা কম হয়।” 

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “বহু মানুষ আছেন, বহু জায়গায় চাষবাস করেন। এই কৃষক ভাইদের আমরা সহযোগিতা করতে চাই। এজন্য আমরা কৃষক কার্ড তৈরি করেছি, সেই কার্ড মধ্যে আমরা কৃষকদের জন্য সহযোগিতা পৌঁছে দেব। এই যে গাজীপুর জেলার জন্য আমরা কতগুলো চিন্তা-ভাবনা করেছি, এই জায়গার মানুষের সমস্যার কথা চিন্তা করে। জয়দেবপুরের রেলক্রসিংয়ে একটা ওভারপাস নির্মাণ করব; যেটা নির্মাণ করলে আপনাদের বিআরটি প্রকল্পের জন্য সৃষ্ট অসহ্য যানজট দূর হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। এটা আমরা বাস্তবায়ন করব।”

“শুধু তাই নয়, আমাদের যারা নারী শ্রমিক আছেন, সব গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানার তাদের বাচ্চারা যাতে ঠিকভাবে থাকে, ঠিকভাবে দেখাশোনা করতে পারে, সেজন্য আমরা কেয়ার সেন্টার বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছি,” যোগ করেন তিনি। 

“আমরা আপনাদের সবার কাছে, মা-বোনদের কাছে, শিশুদের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি এলাকায় এলাকায় হেলথ কেয়ারার রাখতে চাই। যাতে করে বাচ্চারা আমার মায়েরা ঘরে থেকেই তারা চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন। ঠিক আছে পরিকল্পনাগুলো? বলবেন তো ভাই, ভালো লাগলো?”- জনসভায় এভাবে পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রশ্ন রেখে উত্তরও জানাতে চান তারেক রহমান। 

এরপর তিনি বলেন, “এখন প্রিয় ভাই-বোনেরা এই কাজগুলো যদি আমাদের করতে হয়, তাহলে কী করতে হবে? ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা লাগবে।”

আগে আগে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান রেখে তারেক রহমান বলেন, “এই যে ১২ তারিখে আপনারা ভোট দিতে যাবেন, কখন যাবেন? যার যার ভোটকেন্দ্রে জামায়াতে করে ফজর পড়বেন; যাতে করে ওখানে অন্য কেউ অবস্থান নিতে না পারে। সবাইকে নিয়ে জামায়াতে নামাজ আদায় করবেন। যেন কেউ ষড়যন্ত্র করে আগেই ভিতরে বসে না থাকে। গত ১৫-১৬ বছর কীভাবে এই এলাকাসহ সারা বাংলাদেশে আপনাদের ভোটের অধিকার ডাকাতি করে নিয়ে গেছে! গাজীপুরের মানুষ কিন্তু ২০২৪ সালে আন্দোলন করে প্রমাণ করে দেখিয়েছে, হাজার হাজার মানুষ স্বৈরাচারকে সরিয়ে দিয়েছে।”

স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষায় গাজীপুরের মানুষের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করে এবং নিজের স্মৃতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষায় গাজীপুরের মানুষের বিরাট অবদান আছে। কাজেই এই অবদানকে বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে এই মাঠে আমি অনেক খেলেছি, দৌড়াদৌড়ি করেছি। রাজবাড়ীতে লাল দুটো বাংলা ছিল, সেই বাংলোতে আমরা পরিবারের সবাই থাকতাম। আমার ছোটবেলা গাজীপুর এই জায়গায় কেটেছে। এই মাঠে আমি অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি খেলেছি। কাজেই গাজীপুরে মানুষের কাছে আমার একটি হক আছে- আপনাদের কাছে আমার একটি দাবি থাকলেও ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে; স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে দেশ থেকে। এখন দেশ গড়ার পালা। এখন হচ্ছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার সময়। কাজেই আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, কাজ করতে হবে; ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, কাজ করি, পরিশ্রম করি; ইনশাল্লাহ আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। কী একসাথে আমরা কাজ করব? করব কাজ, গড়বো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। কাজেই সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের একসাথে থাকতে হবে। আমাদেরকে সঠিক লোককে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে, যাতে মানুষের সমস্যার সমাধান করতে পারে। তারা এলাকার সমস্যা সমাধান করতে পারে।”

ভোটের ওপর কড়া নজর রাখার আহ্বান রেখে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যে অধিকার আদায়ের জন্য জীবন দিয়েছে; সেই অধিকার যাতে ষড়যন্ত্র করে কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে, সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ইনশাল্লাহ, খালখনন কর্মসূচিতে আপনাদের সাথে আমাদের দেখা হবে। সেটি ১২ তারিখের পরে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার পরে খাল খনন শুরু করব, তখন আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।”

মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরের রাজবাড়ী ময়দানে বিএনপির জনসভায় তারেক রহমানের নিরাপত্তায় ড্রোন ব্যবহার করা হয়। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া।


গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে নির্বাচনি জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গাজীপুর-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর-১ আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর-৩ আসনের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব চৌধুরী ইসরাক আহম্মেদ সিদ্দিকী, গাজীপুর-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান বক্তব্য দেন। 

আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপি সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বেনজির আহম্মেদ টিটু, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা ওরম ফারুক সাফিন, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভা ঘিরে গাজীপুরের রাজবাড়ী ময়দান সকাল থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জড়ো হতে থাকেন। বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে উপস্থিতি, সন্ধ্যার পর থেকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে রাজবাড়ী মাঠ। রাতে সেই মাঠে যখন তারেক রহমান পৌঁছালেন তখন জমসমুদ্র থেকে তার নামে স্লোগান গর্জে ওঠে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে দেশব্যাপী জনসভায় অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ। সেদিন বিএনপিকে বিজয়ী করতে দলীয় পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি ভোটারদের আগেভাগে কেন্দ্রে গিয়ে হাজির হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।  

তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে পুরো রাজবাড়ী ময়দানে বিএনপির নির্বাচনি ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায়। ময়দানের পশ্চিম প্রান্তে নির্মাণ করা হয় সুবিশাল মঞ্চ। সভাস্থলের নেওয়া হয় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। 

ঢাকা/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়