একটা দল ক্ষমতার লোভে পেরেশান হয়ে পড়েছে: মঞ্জু
ফেনী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু। ফাইল ফটো।
নির্দিষ্ট একটা দল ক্ষমতার লোভে ‘পেরেশান’ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, শুধু তারা ক্ষমতার লোভে পেরেশানই নয়, দেশ সংস্কার, ঐকমত্য ও জুলাই সনদেও তারা বাধা দিয়েছিল এবং অনাগ্রহ দেখিয়েছিল।
তিনি বলেন, ফেনীকে নতুন করে গড়তে হলে নতুন নেতৃত্বের হাতেই দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘কাওয়ালী সন্ধ্যা’য় দেওয়া বক্তব্যে বিষয়গুলো তুুলে ধরেন মঞ্জু।
তিনি বলেন, “চব্বিশের ৫ আগস্টে বাংলার তরুণ সমাজ রক্ত দিয়ে এ জমিন থেকে ফ্যাসিবাদকে চিরতরে উৎখাত করে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর আমরা সবাই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের যোদ্ধা, আমরা যারা সংগ্রাম করেছি, রক্ত দিয়েছি সবাই দীর্ঘশ্বাসে অপেক্ষা করেছি একটা স্বাধীন প্রহরের জন্য। কিন্তু আমরা দেখলাম, এত বড় একটা ত্যাগ এবং জীবনহানির বিনিময়ে মুক্তির পরে কোনো কোনো মহল কীভাবে দ্রুত ক্ষমতায় আসা যায়, সে জন্য পেরেশান হয়ে পড়লেন।”
“শুধু তারা ক্ষমতার জন্য পেরেশানই হয় নাই; যে দল ১৫ বছর কষ্ট করেছে, সংগ্রাম করেছে, জেল খেটেছে; যে দলের নেতা দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছিলেন, যে দলের নেতাদের লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি; যে দলের নেতাদের গুম করা হয়েছিল; সেই দলের নেতা এবং কর্মীদের আমরা দেখলাম ৬ মাস যেতে না যেতেই তাদের ৮ হাজার নেতাকর্মীকে চাঁদাবাজির জন্য বহিষ্কার করতে হয়েছে,” যোগ করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “মানুষ অবাক হয়ে দেখেছে, এ কেমন মানুষের বিবেক হতে পারে! যারা ১৬ মাস আগেও এতবড় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করল, ১৬ মাস আগে যারা মজলুম ছিল, কীভাবে তারা মানুষের ওপর শক্তি প্রয়োগ করে জালেমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে! ৮ হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের পর আমরা কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু আমরা ব্যথিত হয়েছি- যখন সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশনে, আমাদের জাতীয় জুলাই সনদে একের পর এক 'নোট অব ডিসেন্ট' দিয়েছে তারা। তারা সংস্কার করতে বাধা দিয়েছে, সংস্কারে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।”
ফেনীর বিভিন্ন সংকট ও সমস্যার কথা তুলে ধরে মঞ্জু বলেন, “আমাদের ফেনীর অনেক সমস্যা। গ্যাসের সংকট রয়েছে। আমাদের একটা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নাই। বন্যায় আমাদের ফেনী ভেসে যাচ্ছে। বারবার বন্যায় ফেনী আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা আর ফেনীকে এভাবে দেখতে চাই না। চাঁদাবাজমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত ফেনীকে দেখতে চাই আমরা।”
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনি চাইবেন ফেনী বদলে যাক কিন্তু ভোট দেবেন যারা বদলাতে চায় না তাদের; তাহলে কি ফেনী বদলাবে? ফেনীকে বদলাতে হলে, নেতৃত্ব বদলাতে হবে। ফেনীকে নতুন করে গড়তে হলে, নতুন নেতৃত্বের হাতে ফেনীকে তুলে দিতে হবে।”
“আগামী ১২ তারিখ ফেনীর জন্য ফয়সালা করবেন ভোটাররা। এ ফয়সালা করবে তরুণরা,” এমন আশা ব্যক্ত করে মঞ্জ বলেন, “আবু সাঈদের রক্তের দাগে জোট বাঁধতে হবে, শহীদ ওসমান হাদির রক্তাক্ত কফিন ছুঁয়ে আবার শপথ নিতে হবে; ফেনী বদলাবে নতুন নেতৃত্বে, ইনশাআল্লাহ।”
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ও শহীদ ওসমান হাদি স্মরণে আয়োজিত কাওয়ালী সন্ধ্যার আয়োজন করে নজরুল-ফররুখ পরিষদ ফেনী জেলা শাখা।
ঢাকা/সাহাব/রাসেল