কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ভোটের সরঞ্জাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম || রাইজিংবিডি.কম
ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার-বক্সসহ ভোটের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। ছবি: রাইজিংবিডি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেছে ব্যালট।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতের মধ্যেই ঢাকার বাইরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপার-বক্সসহ ভোটের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম।
চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন প্রশাসন। সকাল থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের সরঞ্জাম পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, আজ সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হয়।
ব্যালট পেপার, স্বচ্ছ ব্যালট বক্স, চটের থলি, স্ট্যাপলার মেশিন ও পিন, অমোচনীয় কালি, রাবার সিল, মার্কিং সিল, স্ট্যাম্প প্যাড, চার্জার লাইটসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। উপজেলার ভোট কেন্দ্রগুলোর সরঞ্জাম এরইমধ্যে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ইউএনওদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ জানান, ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে সরঞ্জাম পাঠানো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান তিনি।
নির্বাচন উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ২৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১৪২ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভাব্য নাশকতা এড়াতে চট্টগ্রামের প্রধান সড়কগুলোতে সাঁজোয়া যান নিয়ে সেনাসদস্যদের টহল দেখা গেছে। পাশাপাশি ভোট কেন্দ্র ও নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, নৌবাহিনী ও আনসার সদস্যরা মহড়া দিচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন মিঞা বলেন, “সময়ের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে ভোটারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” ভোটাররা নিরাপদ পরিবেশে কেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন জানান, এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ সন্তোষজনক। বড় ধরনের কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্ঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কারণে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে মোট ভোট কেন্দ্র ১ হাজার ৯৬৫টি। এর মধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং পুলিশ বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন ১ হাজার ৯৬৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ১২ হাজার ৫৯৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ২৯ হাজার ১৬৫ জন পোলিং কর্মকর্তা।
ঢাকা/রেজাউল/ইভা