ঢাকা     শুক্রবার   ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

দুটি আসনে মুফতি ফয়জুলের পরাজয়ের নেপথ্যে কী 

বরিশাল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৯:৫৫, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দুটি আসনে মুফতি ফয়জুলের পরাজয়ের নেপথ্যে কী 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর ও মহানগর) এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই হেরেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বরিশাল সদর-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের কাছে ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খানের কাছে ৫৩ হাজার ৫১ হেরেছেন মুফতি ফয়জুল। 

ইসলামী আন্দোলনের প্রভাবশালী এ নেতার দুটি আসনের হার মেনে নিতে পারছেন না তার দলের নেতাকর্মীরা। দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের এমন পরাজয়ের পিছনের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন তারা। 

আরো পড়ুন:

দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গুরুত্বর্পূ একটি আসনসহ বরিশালের দুটি আসনে হাতপাখা পরাজিত হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। দুটি আসনেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ খুঁজে দেখা হচ্ছে। 

তারা মনে করছেন, মুফতি ফয়জুল করীমের আসনে তার সম্মানে প্রার্থী না দিলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা হাতপাখা প্রতীকে ভোটও দেননি।

১১ দলীয় জোটে থাকাকালীন বরিশাল সদর-৫ আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে টানাপোড়ন চলছিল। এ আসনটি চরমোনাই পীর সাহেবের নিজ আসন হওয়ায় তিনি এখানে জোটের প্রার্থী হবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাম মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ নিয়ে শুরু থেকেই মনোমালিন্য চলছিল। 

বরিশাল সদর আসনসহ বিভাগের অন্য আসনগুলো বণ্টন এবং শরিয়ত মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায় ইসলামী আন্দোলন। জোট থেকে বেরিয়েই ১১ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান দল জামায়াতের বিরুদ্ধে নানা বিষোদগার করেন ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা।  যদিও পীরের সম্মানে শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। কিন্তু, তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মানতে পারেননি জামায়াতে ইসলামের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। 

দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরীসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলে জামায়াতের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখছিলেন জামায়াতে ইসলামীঢর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। এ আসনে জামাতের প্রার্থীর বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর সম্মানে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি যারা মানতে পারেননি তারা। তাই, জামায়াতের অনেকেই ভোট দিতেই যাননি। ফলে, ভোটের মাঠে জামায়াতের পুরোপুরি সমর্থন পাননি মুফতি ফয়জুল। এটিই হাতপাখার পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকেই।  

একইভাবে বরিশাল-৬ আসনে কখনোই ইসলামী আন্দোলন শক্ত অবস্থানে ছিল না। তারপরও এ আসনে ২৯ হাজার ১৪৬ ভোট পান মুফতি ফয়জুল। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার জানিয়েছেন, জামায়াতের সমর্থকরা মুফতি ফয়জুলকে ভোট দিলে বরিশাল-৫ আসনে বিজয় সুনিশ্চিত ছিল। ভোট না দেওয়ার পিছনে জামায়াত সম্পর্কে তার আক্রমণাত্মক মন্তব্যকেই দায়ী করছেন অনেকে। 

এ বিষয়ে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি মো. রেদোয়ান বলেছেন, বরিশালের ৫ এবং ৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী অর্থ ও পেশি শক্তির ব্যবহার করে ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করেছেন। জামায়াতে ইসলামী হাতপাখায় সমর্থন দিলেও তারা ভোট দেননি। তারা মূলত পুরনো জোটসঙ্গী ধানেষ শীষ এবং মই প্রতীকে ভোট দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী যে ভোট পেয়েছেন, তা নিজস্ব ভোট। 

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম খসরু বলেছেন, “বরিশাল সদর আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর পরাজয়ের অন্যতম কারণ— তার কথা ও কাজের মিল ছিল না। তারা যদি জামায়াত প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলালকে সাথে নিয়ে কাজ করত, তবে তাদের এ বিপর্যয়  হতো না। আমরা তাদেরকে সুযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা কোনো কার্যক্রমের সাথে আমাদেরকে থাকার আহ্বান করেননি। এটা তাদের পরাজয়ের মূল কারণ। তারা কাজ না করে অন্যের সমালোচনায় ব্যস্ত ছিলেন, যা তাদের পরাজয়ের আরেকটি কারণ।” 

ঢাকা/পলাশ/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়