সিলেট-৩: ‘রাতেই ব্যালটে সিল মারা হচ্ছিল’, অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর
সিলেট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সিলেট-৩ আসনের বালাগঞ্জের পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের মৈশাষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটপূর্ব রাতে জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ ঘিরে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।
সিলেট-৩ আসনের বালাগঞ্জ উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে রাতেই ‘জালভোট’ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালিক। স্থানীয় জামায়াত নেতার নেতৃত্বে ব্যালটে দাঁড়িপাল্লার সিল মারা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তার।
জালভোট দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার মধ্যে ওই কেন্দ্রে বিএনপি ও ১১-দলীয় জোটের সমর্থকদের হাতাহাতি হয়।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১১টার দিকে পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের মৈশাষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির তারিকুল ইসলামসহ কয়েকজন কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় আশপাশে অবস্থানরত বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ঘেরাও করেন। পরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালিক অভিযোগ করেন, “প্রিজাইডিং কর্মকর্তার উপস্থিতিতে রাতেই ব্যালটে সিল মারা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, “রাত ১১টার দিকে ব্যালটে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দীন রাজু দাবি করেন, তাদের ডেকে এজেন্ট কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “কার্ড নেওয়ার সময় পরিকল্পিতভাবে তাদের ঘেরাও করে জালভোটের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ করেন রাজু। সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাজু বলছেন, কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়া হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা/মোসাইদ/রাসেল