ঢাকা     বুধবার   ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

শাহরুখ-ঐশ্বরিয়ার ‘দেবদাস’ সিনেমার চমকপ্রদ তথ্যগুলো জানেন?

আমিনুল ইসলাম শান্ত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১৬, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ০৯:১৯, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শাহরুখ-ঐশ্বরিয়ার ‘দেবদাস’ সিনেমার চমকপ্রদ তথ্যগুলো জানেন?

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা ‘দেবদাস’। সঞ্জয় লীলা বানসালি নির্মিত এ সিনেমার প্রধান চরিত্র রূপায়ন করেন—শাহরুখ খান (দেবদাস), ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন (পার্বতী বা পারু), মাধুরী দীক্ষিত (চন্দ্রমুখী)।এই তিন তারকার অসাধারণ অভিনয় ও সঞ্জয় লীলা বানসালির অনবদ্য ভিজ্যুয়াল এখনো দর্শককে মুগ্ধ করে চলেছে। ২৪ বছরের পুরোনো সিনেমা ‘দেবদাস’ পুনরায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। জেন-জিরাও দেবদাস, পার্বতী বা পারু, চন্দ্রমুখীর রসায়ন উপভোগ করছেন। ফলে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে সিনেমাটি। 

‘দেবদাস’ সিনেমা নির্মাণের সময়ে এলাহি আয়োজন করেছিলেন নির্মাতারা। চলুন জেনে নিই, সিনেমাটির নির্মাণ নিয়ে চমকপ্রদ কিছু তথ্য—

আরো পড়ুন:

পারুর কাচের ঘর
বলিউড সিনেমায় সবচেয়ে নজরকাড়া সেটগুলোর মধ্যে অন্যতম পারুর কাচের ঘর। এই সেট তৈরি করতে ১ লাখ ২২ হাজার রঙিন কাচের টুকরো ব্যবহার করা হয়ছিল। এটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছিল ৯ মাস। শিল্প নির্দেশক নিতিন দেশাই সেটটি ডিজাইন করেছিলেন। সেট তৈরি করতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। স্টুডিওর তীব্র আলো থেকে উৎপন্ন তাপের কারণে বারবার কাচ ভেঙে যেত; ফলে নিয়মিত মেরামতের প্রয়োজন পড়ে। 

 

নজরকাড়া আলোকসজ্জা
‘দেবদাস’ সিনেমার সেটে প্রচুর আলো ব্যবহার করা হয়েছিল; যা প্রায় ৩ বিলিয়ন মোমবাতির আলোর সমান। এজন্য ৪২টি জেনারেটর চালানো হয়েছিল। এত শক্তিশালী আলোর ব্যবহারের কারণে আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল। এসব আয়োজনই বলে দেয়, সিনেমাটির দৃশ্যমান সৌন্দর্য তৈরিতে কতটা পরিশ্রম করতে হয়েছিল সংশ্লিষ্টদের।

 

পারুর শাড়ি
‘দেবদাস’ সিনেমায় ‘পারু’ চরিত্র রূপায়নের জন্য ঐশ্বরিয়া রাই সম্পূর্ণ সিনেমা জুড়ে ৬ শতাধিক শাড়ি পরেছিলেন। কলকাতা থেকে আনা ও বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই শাড়িগুলো সিনেমাটির আভিজাত্য বাড়িয়ে তুলেছিল। অনেক শাড়ির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৯ মিটার; যা সিনেমার বিশাল সেটের সঙ্গে মানানসই করে তৈরি করা হয়েছিল। সিনেমাটির শেষের দৃশ্যে যে শাড়ি ঐশ্বরিয়া পরেছিলেন, তার দৈর্ঘ্য ছিল ১৩ মিটার। দুই থেকে তিনটি সুতি শাড়ি একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে শাড়িটি প্রস্তুত করেছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার নীতা লুল্লা। 

 

চন্দ্রমুখীর ভারী পোশাক  
সিনেমাটির ‘কাহে ছেড় মোহে’ গানে পারফর্ম করেন মাধুরী দীক্ষিত। এ সময় যে পোশাক মাধুরী পরেছিলেন তার ওজন ছিল প্রায় ৩০ কেজি। সঞ্জয় লীলা বানসালি তার সিনেমায় ব্যবহৃত ভারী শাড়ির মধ্যে এটি ছিল অন্যতম; যা সিনেমাটির সূক্ষ্ম কারিগরি ও বিশালতার আরেকটি নিদর্শন।

 

শুটিং জুড়ে ঐশ্বরিয়ার কান থেকে রক্ত ঝরে
‘দেবদাস’ সিনেমায় ‘দোলা রে দোলা’ গানে পারফর্ম করেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। এ গানে ঐশ্বরিয়া যে কাদের দুল পরেছিলেন, তা অনেকের নজর কাড়ে। কিন্তু এই দুল তাকে অনেক কষ্ট দিয়েছিল। জানা যায়, শুটিংয়ের সময় তার কান থেকে রক্ত পড়া শুরু করে; যা শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউই টের পায়নি।

 

দেবদাসের রাজকীয়তা
‘দেবদাস’ সিনেমা নির্মাণের জন্য যে আয়োজন করা হয়েছিল, তা বলিউডের ইতিহাসে অনন্য এক উদাহরণ। সিনেমাটিতে ৭ শতাধিক লাইটম্যান কাজ করেছিলেন। বড় বাজেটে নির্মিত সেট নিয়মিত মেরামত করার কাজে তারা নিয়োজিত ছিলেন।

 

দেবদাসের ঝুলি ভরা সাফল্য
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর প্রেমগাথা ‘দেবদাস’ অবলম্বনে সঞ্জয় লীলা বানসালি একই নামে নির্মাণ করেন।   ২০০২ সালে মুক্তি পায় হিন্দি ভাষার এই সিনেমা। দর্শক হৃদয়ে সিনেমাটি যেমন সাড়া ফেলে, তেমনই অনেক পুরস্কারও লাভ করে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে। শুধু তাই নয়, এ সিনেমার মাধ্যমে ঐশ্বরিয়া রাই প্রথম কানের লালগালিচায় হাঁটেন। ২০০২ সালে পাঁচটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায় এবং ১০টি শাখায় ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় এটি।

*ডেকান ক্রনিকল, সিয়াসাত অবলম্বনে

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়