ঢাকা     বুধবার   ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

খুলনার ৫৮৫ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৪, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ০৯:০৭, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খুলনার ৫৮৫ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

ফাইল ফটো

খুলনার ছয়টি আসনের ৮৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৮৫টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা নির্বাচন অফিসার, পুরাতন তালিকা বিশ্লেষণ, ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব এবং নির্বাচনি আসনের পরিস্থিতি বিবেচনায় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে আমলে নিয়েছে খুলনা জেলা নির্বাচন অফিস।

ভোটের দিনে ৩০০ কেন্দ্রের পুলিশের সঙ্গে থাকবে বডি ক্যামেরা, সব কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওয়াতাভুক্ত থাকবে।সেনাবাহিনীর ১২০০ সদস্য এবং নৌবাহিনী-কোস্টগার্ডের একাধিক ইউনিট মাঠে থাকবে।

আরো পড়ুন:

খুলনার পুলিশ ও নির্বাচন অফিসের সূত্র জানান, খুলনা-১ আসনের ১১৯টির মধ্যে ৮০টি, খুলনা-২ আসনে ১৫৭টির মধ্যে ১১৩টি, খুলনা-৩ আসনে ১১৫টির মধ্যে ৭৭টি, খুলনা-৪ আসনে ১৪৪টির মধ্যে ৯৬টি, খুলনা-৫ আসনে ১৫০টির মধ্যে ১১৫টি এবং খুলনা-৬ আসনের ১৫৫টির মধ্যে ১০৪টি অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুটি আসনে ৬৭ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ: 
দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা নগরীর দুটি সংসদীয় আসনের ৬৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আসন দুটি হলো- খুলনা-২ ও ৩। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা প্রার্থী হওয়ায় এসব আসনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই আসনের মোট ৩০৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ শতাংশ ‘অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৪১ শতাংশ ‘কম ঝুঁকিপূর্ণ’। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সশস্ত্র পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সড়কপথে টহলে থাকবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, অধিকতর ও কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- খুলনা নগরীর নূরনগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী ফয়েজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নুর জাহান-মাহাবুব প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাক বিভাগীয় বিদ্যালয়, খুলনা কলেজিয়েট স্কুল, কেটিএম হাই স্কুল, খুলনা সরকারি কলেজ, ন্যাশনাল গার্লস হাই স্কুল, সিটি গার্লস স্কুল, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট জেভিয়ার্স হাই স্কুল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী স্কুল, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ, মহেশ্বরপাশা নিউ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

খুলনা-২ আসনে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, নগর জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আমানুল্লাহ।

খুলনা-৩ আসনে রয়েছেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, নগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল এবং গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট মনোনীত বাসদের নেতা জান্নাদ্দন দত্ত নান্টু।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সূত্র জানায়, নির্বাচনের দিন প্রায় ৩০০টি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের শরীরে থাকবে বডি ক্যামেরা এবং সব কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এছাড়া প্রায় ১২০০ সেনা সদস্য মাঠে থাকবেন। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের একাধিক ইউনিটও দায়িত্ব পালন করবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মোবাইল পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে এবং স্ট্রাইকিং রিজার্ভ রাখা হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে যানবাহন পৌঁছায় না, সেখানে অতিরিক্ত মোবাইল পেট্রোলিং ও রিজার্ভ ফোর্স রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর।”

খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৫৫৮টিতে সিসি ক্যামেরা থাকবে এবং প্রায় ৩০০টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের শরীরে থাকবে বডি ক্যামেরা, যা সরাসরি পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে মনিটরিং করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১২০০ সেনা সদস্যসহ সব বাহিনী মাঠে কাজ করবে।”

আনসার ও ভিডিপির খুলনা রেঞ্জের উপ-মহাপরিচালক নুরুল হাসান ফরিদী জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তিনজন অস্ত্রধারী আনসার, ছয়জন পুরুষ ও চারজন নারী আনসার লাঠিসহ দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের আনসার দল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে। বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার আসনগুলোতেও আনসারের বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।

কড়া নিরাপত্তা ও সর্বাত্মক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে খুলনা নগরীতে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

খুলনার ৫৫৮ ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায়: 
খুলনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়হীন পরিবেশে করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন খুলনা সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার স্ব-স্ব রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে। খুলনার ৫৫৮টি ভোটকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানান, খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের ৫৫৮ কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ শুরু করেছে।

তিনি জানান, প্রতিটি উপজেলায় দুই প্লাটুন বিজিবি এবং দুই প্লাটুন আনসার টহলে থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মধ্যে চারজন করে থাকবেন অস্ত্রধারী। এ ছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে একজন করে অস্ত্রধারী আনসার সদস্য থাকবেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রতিটি উপজেলায় দুজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। খুলনা শহর ও শহরের বাইরে ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।”

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র সম্পর্কে এই কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিটি কেন্দ্রকেই আমরা ঝুঁকি হিসেবে দেখছি। তবে, ৫৫৮টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছি। ফলে সেখানে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা থাকবে। যাতে কেউ অনৈতিক কাজ করলে ধরা পড়বে। টহল দল ২০ মিনিট পরপর প্রতিটি কেন্দ্র পরিদর্শন করবে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নেওয়া হবে।”

র‌্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, “নির্বাচন উপলক্ষে খুলনা বিভাগের ৮টি জেলায় ৬৮টি টহল পরিচালনা করছে র‌্যাব। স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে আমরা উপস্থিত থাকব। রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কোনো কেন্দ্র আক্রান্ত হলে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, খুলনা-১ আসনের দাকোপ, খুলনা-৬ আসনের কয়রা এবং পিরোজপুর-৩ আসনের মঠবাড়িয়া উপজেলার নির্ধারিত নির্বাচনি এলাকাসমূহে ১৬টি ইউনিয়নের ৬৬টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে। এ সময় ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাসমূহে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন নজরদারি, নিয়মিত টহল ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একটি উৎসব মুখর ভোটের পরিবেশ সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

জানতে চাইলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, “খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতায় খুলনা-২ ও খুলনা-৩ আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ২ হাজার ৯০০ পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। সাদা পোশাকের পাশাপাশি গোয়েন্দা ইউনিটগুলো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নজরদারিতে রাখবে।”

খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির মিডিয়া শাখা জানায়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১৬ হাজার ৭৫৫ জন পুলিশ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবে। এছাড়া যৌথ বাহিনীর সঙ্গে টহলে থাকবেন পুলিশ সদস্যরা।

ঢাকা/নূরুজ্জামান/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়