আজ প্রমিস ডে: সম্পর্ককে দৃঢ় করার অঙ্গীকারের দিন
লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
প্রমিস সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলে। ছবি: চ্যাটজিপিটির সাহায্যে তৈরি
গোলাপ, প্রেম নিবেদন, চকলেট আর আদুরে টেডি উপহারের পর্ব শেষ। আজ ১১ ফেব্রুয়ারি—‘প্রমিস ডে’। এই দিনটি শুধু উপহার বিনিময়ের নয়; বরং ভবিষ্যতের পথচলায় একে অপরের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করার দিন। ভালোবাসার এই সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রমিস ডে-র গুরুত্ব ও ইতিহাস নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই।
সম্পর্ক গড়ে তোলা তুলনামূলক সহজ হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রাখা বেশ কঠিন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রমিস ডে পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো সম্পর্কের ভেতরে বিশ্বাস ও ভরসার জায়গাটিকে আরও শক্তিশালী করা। ছোটখাটো মান-অভিমান ভুলে সারাজীবন একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিই প্রমিস ডে-এর মূল বার্তা।
সেক্ষেত্রে মিথ্যা বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই যা রক্ষা করা সম্ভব, সেই অঙ্গীকারই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইতিহাসবিদদের মতে, মধ্যযুগ থেকেই ইউরোপে ফেব্রুয়ারিকে প্রেমের মাস হিসেবে ধরা হতো, এবং সে সময় প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অপরকে বিশেষ শপথ বা ‘ওথ’ নেওয়ার রীতি চালু করেন। উনিশ শতকের শেষ দিকে যখন ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করে, তখন এই দিনটিকেও এর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অনেকেই আবার প্রাচীন রোমান সংস্কৃতিতে ‘জুনো’ দেবীর নাম স্মরণ করে বিয়ের শপথ নেওয়ার প্রথা থেকেও এই দিনের অনুপ্রেরণা খুঁজে পান। বর্তমানে প্রমিস ডে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। শুধু ব্যক্তিগত পরিসরেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা যায় নানা অঙ্গীকারের প্রকাশ।
পিঙ্কি প্রমিস: কনিষ্ঠ আঙুল মিলিয়ে ছোট ছোট প্রতিশ্রুতি দেওয়ার রীতি এখনো বেশ জনপ্রিয়।
প্রমিস ব্যান্ড: অনেকেই সঙ্গীকে ‘প্রমিস ব্যান্ড’ বা ব্রেসলেট উপহার দেন, যা প্রতিশ্রুতির স্মারক হিসেবে থেকে যায়।
ডিজিটাল প্রতিশ্রুতি: দূরত্বের সম্পর্কে থাকা মানুষজন ভিডিও কল বা বার্তার মাধ্যমে নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রমিস সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলে। কারণ ভালোবাসার সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি হলো বিশ্বাস, আর সেই বিশ্বাসকে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ারই দিন প্রমিস ডে।
ঢাকা/লিপি