সংঘর্ষে বিএনপি নেতার চোখ হারানোর খবরে মায়ের মৃত্যু
বগুড়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
আহত নেতা মাসুদ রানাকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপি নেতারা।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার একটি চোখ হারানোর খবর শুনে তার মা হাজেরা বেগম (৭০) অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার পারশুন গ্রামে তিনি মারা যান।
আহত মাসুদ রানা নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
আহত মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম আকন্দ বলেন, “হামলার ঘটনার পর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাবার চোখ ভেতর থেকে বের হয়ে আসছিল। চিকিৎসক ওই চোখটি ভালো করা যাবে না এমন আশঙ্কার কথা বলেন। এই খবরটি জানার পর দাদি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান। মঙ্গলবার রাত ৯টায় গ্রামের বাড়িতে দাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “উন্নত চিকিৎসার জন্য বাবাকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
আরো পড়ুন: বগুড়ায় ভোটে টাকা লেনদেনের অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ
গত সোমবার রাতে নন্দীগ্রামে ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করেন বিএনপির কর্মীরা। পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের উদ্ধার করতে গেলে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করে।
মারধরে মাসুদ রানা গুরুতর আহত হন এবং তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ আতোয়ার রহমান বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেটি মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।”
সংঘর্ষের ঘটনায় বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীরা মঙ্গলবার বগুড়া প্রেস ক্লাবে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুল মজিদসহ দুইজনকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আটক করেন। একে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে হয়। আবদুল মজিদ আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে জামায়াতের হয়ে কাজ করছেন।
তিনি জানান, গত সোমবার রাতে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মী নিয়ে আবদুল মজিদ পারশুন গ্রামে এক ভোটারের বাড়িতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে টাকা বিতরণ করতে গিয়েছিলেন। বিএনপি কর্মীরা দুজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে শত শত জামায়াত সমর্থক সেখানে পৌঁছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ভাঙচুর করেন এবং মজিদসহ দুইজনকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
বিএনপির প্রার্থী জানান, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মাসুদকে মারধর করেন, তার একটি চোখ উপড়ে ফেলেন এবং তার ভাইকেও মারধর করেছেন। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, তার একটি চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন তিনি।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের এক ঘণ্টা পর বিকেল ৪টায় প্রেস ক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে দুটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। জুলাই যোদ্ধা আসাদুল্লাহ আল গালিব ও আমাদের কর্মী ফারুকসহ কয়েকজনের ওপর হামলা এবং আমাদের লোকজনদের আটকে রাখা।”
ফয়সালের দাবি, “গণভোটের প্রচার শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি কর্মীরা গালিবের ওপর হামলা করেন। এছাড়া, ফারুকসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালান বিএনপি নেতা মাসুদ রানা ও তার ভাই রবিউল ইসলাম। আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিএনপি নেতার একটি বাড়িতে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল।”
ঢাকা/এনাম/মাসুদ