কুষ্টিয়া-১ আসনে ১৩৫ ভোটকেন্দ্রের ৪৭টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ফাইল ফটো
রাত পেরোলেই বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে করতে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
দৌলতপুর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ গুহের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্য সমন্বয়ে যৌথ টহল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দৌলতপুর আসনে মোট ১৩৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৭টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রসহ প্রায় সব কেন্দ্রেই নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা। এছাড়াও দৌলতপুরের ৪টি ইউনিয়ন বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল হওয়ার কারণে এসব এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের তৎপরতা বেড়েছে। ফলে ওই সকল সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা ভোটকেন্দ্র দখলের আশঙ্কাও রয়েছে বলে চরবাসীরা শঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাই এসব ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সাধারণ ভোটাররা। আবার অনেক ভোটার জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে তারা ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে যাবেন কি না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের মাঠে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন।
এ আসনে ৬০ হাজার ৮৬৬ জন তরুণ ভোটার রয়েছে যা এবারের নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকেই। তারা বলছে, দলীয় পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতা, সততা ও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনাকে প্রাধান্য দিয়েই তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪ হাজার ৫০৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ৪৯২ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১১ জন ও হিজড়া ভোটার রয়েছে মাত্র ১ জন।
এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, জামায়াতে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. বেলাল উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সাহাবুল মাহমুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মুফতি আমিনুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্ট এর প্রার্থী বদরুজ্জামান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিকদল (জেএসডি) এর প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহরিয়ার জামিল জুয়েল এবং বিএনপি থেকে বহিস্কৃত (স্বতন্ত্র) প্রার্থী নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা।
এ আসনে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের তালিকায় রয়েছে প্রাগপুর ইউনিয়নে ৫টি, মথুরাপুর ইউনিয়নে ৫টি, ফিলিপনগর ইউনিয়নে ৫টি, রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নে ৫টি, চিলমারী ইউনিয়নে ৬টি, রিফায়েতপুর ইউনিয়নে ৪টি, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে ৫টি, দৌলতপুর সদর ইউনিয়নে ৪টি, হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নে ৭টি, মরিচা ইউনিয়নে ৫টি, বোয়ালিয়া ইউনিয়নে ৩টি, খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নে ৪টি, আড়িয়া ইউনিয়নে ৩টি ও পিয়ারপুর ইউনিয়নে ৫টি। এরমধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৪৭টি।
এদিকে নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে দৌলতপুরে কঠোর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৬টি গুলি, ১১টি ম্যাগাজিন ও একটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নির্বাচনের পরিবেশের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দৌলতপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৫৭টি, এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ৪৭টি ভোটকেন্দ্র।
নির্বাচনের বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এছাড়াও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে আরো বেশি নজরদারি থাকবে।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করছে।
ঢাকা/কাঞ্চন/ফিরোজ