সুস্থ হয়ে উঠছে সেই বাঘিনি, মার্চে ফিরবে সুন্দরবনে
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা || রাইজিংবিডি.কম
পশুচিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাঘিনিটি এখন অনেকটাই বিপদমুক্ত এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আচরণ করছে
শিকারির ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হওয়ার পর উদ্ধার করা বাঘিনিটি প্রায় ৪৫ দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠছে। আগামী মার্চ মাসের প্রথম দিকে এটি তার প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুন্দরবনে ফিরতে পারবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বাঘটি বর্তমানে খুলনা শহরের বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রে আছে।
পশুচিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাঘিনিটি এখন অনেকটাই বিপদমুক্ত এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আচরণ করছে। তবে, মুক্তির আগে আরো চিকিৎসা প্রয়োজন।
বন কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ওই বাঘিনিকে নিয়মিত ওষুধ ও খাবার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী, আগামী মাসে এটি সুন্দরবনে ফেরার উপযুক্ত হয়ে উঠবে।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানিয়েছেন, ডা. হাতেম সাজ্জাদ জুলকার নাইনের নেতৃত্বে বন বিভাগের পশুচিকিৎসাদলের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে ওই বাঘিনির। একে আগেই ছেড়ে দিলে তার জীবন বিপণ্ন হতে পারে। তাই, কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করছে। বাঘিনিটি তিনটি বড় জটিলতায় ভুগছিল। হরিণ ধরার ফাঁদে পড়ে বাম পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছিল ওই বাঘিনি। ফাঁদটি শিরা এবং স্নায়ুগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত করেছিল। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। তবে, টিস্যুগুলোর সম্পূর্ণ সুস্থতায় আরো সময় লাগবে। ক্ষত শুকিয়ে যাচ্ছে এবং বাঘিনিটি প্রায় স্বাভাবিক চলাচল শুরু করেছে।
গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই এলাকার কাছে বাঘিনিকে ফাঁদে আটকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরের দিন ঢাকা থেকে আসা একটি বিশেষজ্ঞ দল তাকে উদ্ধার করে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ফাঁদ থেকে মুক্ত করে। তারপর থেকেই এটি খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছে।
ঢাকা/নুরুজ্জামান/রফিক