নেইমারের কণ্ঠে অবসরের ইঙ্গিত, ‘ডিসেম্বরই হতে পারে শেষ’
একটি যুগ কি তবে সত্যিই শেষের দিকে এগোচ্ছে? ব্রাজিল ফুটবলের উজ্জ্বলতম তারকাদের একজন নেইমার জানালেন, অবসর আর কল্পনা নয়, বাস্তব সম্ভাবনা। আর সেই সিদ্ধান্ত চলে আসতে পারে চলতি বছরের শেষেই।
কাজে টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন, “এখন থেকে কী হবে, আগামী বছর কী হবে- আমি জানি না। এমনও হতে পারে, ডিসেম্বর এসে গেল আর আমি অবসর নিতে চাই। এখন আমি বছর ধরে বছর ভাবছি।”
তার মতে, এ বছরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- সান্তোস ও ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্য। সামনে বিশ্বকাপ, আর সেটিই তার বড় চ্যালেঞ্জ। “এই বছরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সান্তোসের জন্য, জাতীয় দলের জন্য। বিশ্বকাপের কারণে আমার কাছেও এটা বিশাল চ্যালেঞ্জ,” যোগ করেন তিনি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ভয়াবহ হাঁটুর চোটে ছিটকে গিয়েছিলেন নেইমার। হাঁটুর লিগামেন্ট ও মেনিস্কাস ছিঁড়ে যাওয়ার সেই আঘাত যেন তার ক্যারিয়ারকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর সান্তোসে ফিরে তিনি এবার অনেক বেশি হিসাবি।
“আমি চেয়েছিলাম এ মৌসুমে শতভাগ প্রস্তুত হয়ে খেলতে। তাই কিছু ম্যাচে নিজেকে একটু সামলে রেখেছি, নিজের যত্ন নিয়েছি,” বলেন নেইমার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “অনেকে অনেক বাজে কথা বলে। কিন্তু তারা জানে না, প্রতিদিন কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।”
সান্তোসের পরিকল্পনার প্রশংসাও করেছেন তিনি। ধীরে-সুস্থে পুরোপুরি ফিট হয়ে, ভয় ও ব্যথা ঝেড়ে মাঠে ফিরতে পেরেছেন, এতে সন্তুষ্ট নেইমার। তার কণ্ঠে দৃঢ়তা, “অনেক অনুশীলন আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আমি শতভাগে পৌঁছাতে পারব। সেটাই আমার লক্ষ্য।”
অবসরের আগে নেইমারের সামনে একটি স্বপ্ন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ। ব্রাজিলে গুঞ্জন, জাতীয় দলে ডাক পেলেই সবকিছু বদলে যাবে। চুক্তি, বিতর্ক, উত্তরাধিকার- সবকিছু অপেক্ষা করতে পারে। নেইমার নিজেই বললেন, “সবকিছু নির্ভর করছে হৃদয় কী বলে তার ওপর।”
ব্রাজিল যদি ডাক দেয়, তবে লড়াই চলবে। আর যদি না দেয়? হয়তো ডিসেম্বরেই ফুটবল বিশ্ব বিদায় জানাবে এক রঙিন অধ্যায়কে।
ঢাকা/আমিনুল